ভিডিও সম্পাদনা

ভিডিও সম্পাদনার শাখা প্রশাখা (সম্পাদনা টেকনিক)

বর্তমানে ভিডিও সম্পাদকরা বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করে থাকেন তার মধ্যে চলচ্চিত্র, নাটক, তথ্য চিত্র, সংবাদ, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও অন্যতম। আমরা এই কাজগুলোর সম্পাদনার একেবারেই সাধারন ধারনা নিয়ে আলোচনা করবো। আস্তে আস্তে প্রতিটি বিষয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণ করবো আশা করছি।

চলচ্চিত্র: সম্পূর্ন কাহিনীর উপর নির্ভর করবে আপনার সম্পাদনার ধরন। শুটিংএ অতিরিক্ত ছবি চিত্রায়ন হবে না। তাই পছন্দ করার জায়গাটা অনেক ছোট। যদি কাহিনী হয় দুঃখভারাক্রান্ত তাহলে আপনার কাজে সেটাই ফুটিয়ে তুলতে হবে। দর্শক যেন সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি মূহুর্ত কাহিনীর সঙ্গেই থাকেন। প্রতিটি বিষয়ে থাকতে হবে যুক্তি। তাই ধারাবাহিকতার দিকে নজর দিতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। চলচ্চিত্রের ব্যপ্তিকাল অনেক বেশি। তবে শিল্প ভাবনায় অনেক হিসেব-ই উল্টে যেতে পারে। প্রযুক্তি সাধারণ টেলিভিশন থেকে অনেকটাই আলাদা।

নাটক: অনেকটাই চলচ্চিত্রের মতন করে বিষয়টা ভেবে নিতে হবে। যুক্তি থাকতে হবে, দর্শক নিজ জীবনের ধারাবাহিকতার সাথে মেলাতে পারে। তাই ধারাবাহিকতার দিকে নজর দিতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। প্রতিটা চরিত্রের নিজ নিজ ধারাবাহিকতা পরখ করে কাজ করতে হবে। গল্পের গতির সাথেই সম্পাদনার গতিও পরির্বতন করতে হবে। সুখ-দুঃখ সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে মিউজিক ও লাইট। দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে হবে ঝকঝকে ছবি ও শব্দ।

তথ্যচিত্র: তথ্য চিত্র হতে পারে সভা সেমিনার বা কোনো বস্তু আবার কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির উপরে। কুখ্যাত ব্যক্তিরাও পিছিয়ে থাকবে না। যেমন: হিটলার। তথ্যচিত্রের মূল প্রাণ বলা যেতে পারে তথ্য ও ধারাবাহিকতাকে। থাকতে হবে ভিডিওতেও তথ্য। নির্দিষ্ট গতি নিয়েই এগিয়ে চলবে তবে মাঝে মাঝে গতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। শুরু থেকে শেষ বা শেষ থেকে শুরু যেদিক থেকেই হোক ধারাবাহিকতা জরুরি। ধারাভাষ্যের সাথে সাথে ভিডিওর মিল রেখে এগুতে হবে।
সম্পাদনা করতে করতে কিছু সময় গতানুগতিক মনে হতে পারে। সেটা দর্শকের কাছে বিরক্তিকর। গতানুগতিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। ধারাভাষ্য, শব্দ, মিউজিক বা ভিডিওতে এমন কিছু থাকতে হবে যা দর্শককে ব্যাস্ত করে রাখবে। মিউজিকের তালে তালে শটের পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়।
ভিডিও এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ধারাভাষ্য ছাড়াও দর্শক কিছুটা হলেও গল্প বুঝতে পারেন। ধরুন যে দর্শক কানে শোনেন না তিনিও যেন বুঝতে পারেন তথ্যচিত্র কিসের উপরে বা কি নিয়ে অথবা আমরা কি বোঝাতে চেয়েছি। আবার এমনও হতে পারে শব্দ ছাড়া শুধু শটের পরিবর্তন দেখে দর্শক আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং আমাদের অনুষ্ঠানটা দেখতে বসলেন।

সংবাদ: সংবাদ অনেকটাই তথ্যচিত্রের মতো করে সম্পাদনা করতে হবে। সংবাদ সম্পাদনায় সম্পাদকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সময়। সময়ের আগে থাকতে হবে সম্পাদককে। যখন কোনো উপস্থাপক টিভি স্ক্রিনে বলেন “আমরা সংবাদটির জন্য অপেক্ষা করছি” সেটা সম্পাদক এবং সংবাদ সংশ্লিষ্ট পুরো দলটির জন্য অস্তিকর, ঠিক তেমন যদি কোনো ভুল তথ্য থাকে সংবাদটিতে।
এর ভিডিও কোয়ালিটি অতোটা ভাল নাও পাওয়া যেতে পারে । কারণ হঠাৎ করেই ক্যামেরায় সংবাদ ধারণ করতে হয়, কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া। যার কারণে শট অনেক সময় এলোমেলো হয়, ধরে রাখা যায় না ধারাবাহিকতা। তবু ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতো প্রতিকূলতা পেরিয়েও আমাদের চিত্রগ্রাহকরা যে ছবি আনেন সেই ভিডিও এবং ধারাভাষ্যের একটি তাল-মিল ঘটাতে হবে।

টেলিভিশন বিজ্ঞাপন: অন্যান্য টেলিভিশন অনুষ্ঠানের তুলনায় বিজ্ঞাপনের ব্যপ্তিকাল অনেক কম। খুব অল্প সময়ে তৈরী করতে হয় গল্প। তাই এর কোয়ালিটি নিয়েও ভাবতে হয় অনেক বেশি। প্রতিটা ফ্রেম জরুরি। মানুষ যত বেশি মনে রাখবে ততোই ভাল। দর্শককে যত বেশিবার মনে করিয়ে দিতে পারেন পণ্যের নাম ও শ্লোগান ততোটাই খুশি বিজ্ঞাপনদাতা। যতখানি ভাল ছবি ও শব্দের কোয়ালিটি দেয়া সম্ভব দিতে হবে। সেগুলো সাহায্য করবে ধরে রাখতে দর্শককে। নতুন ধরনের ভাবনা দর্শকের মন কাড়বে তাই কাজে থাকতে হবে নতুনত্ব।

মিউজিক ভিডিও: মিউজিকের তাল ও লয় ভাল করে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি শট পরির্বতন হতে হবে তালে। গানের কথার সাথে সাথে মিলিয়ে গল্প তৈরী করতে হবে ভিডিওতে। মনে রাখতে হবে গানের সাথে দর্শকের আবেগ জড়িত। কিভাবে দর্শককে কাছে টানা যায় সেভাবেই শট পরির্বতন করতে হবে এবং ইফেক্ট দেয়া যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে ইফেক্ট দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যথারীতি ভাল ছবি ও শব্দের কোয়ালিটি নিশ্চিৎ করতে হবে।

চলচিত্র, তথ্যচিত্র, সংবাদ, মিউজিক ভিডিও বা নাটককে যদি আমরা ভিডিও সম্পাদনার আলাদা আলাদা প্রকার হিসেবে ভাবি, তাহলে একজন সম্পাদক একটি শাখা নিয়েই কাজ করবেন। কারন: এটি একটি শিল্প, একজন শিল্পী শিল্পের সব শাখাতেই ভাল দহ্মতা দেখাতে পারবেন সেটা সঠিক নয়। উদাহরন হিসেবে বলতে পারি উন্নত বিশ্বে কখনই একজন ভিডিও এডিটর সব শাখাতে কাজ করেন না। তার অতি ঘনিস্ট পরিচালকও তাকে দিয়ে সব শাখার কাজ করাবেন না। পরিচালক কাজের ধরন দেখে সম্পাদক নির্বাচন করবেন। তাতে কাজের সৌন্দর্য ও মান অক্ষুন্ন থাকবে।
আমরা ভিডিও সম্পাদনার প্রতিটি শাখায় যারা দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে সম্পাদনার খুটিনাটি নিখুত ভাবে যেনে নেব। আমাদের এই চেষ্টায় যে কোন পেশাদার যদি তার লেখা দিয়ে সাহায্য করেন সেটা আমরা আনন্দের সাথে clickntech.com সংগ্রহ করবো। এবং আসা করছি নতুনদের সেটা কাজে আসবে। ধন্যবাদ

Comment

comments

What's your reaction?

Excited
0
Happy
0
In Love
0
Not Sure
0
Silly
0

Comments are closed.

Next Article:

0 %