ফটোগ্রাফি শেখা নিয়ে প্রথম লাইভ ক্লাস করলো clickntech.com

যে কোন মোবাইল ফোন বা ক্যামেরা দিয়ে ছবি কিভাবে আকর্ষণীয় করা যায়। এই বিষয় নিয়ে বাংলাদেশে প্রথম ২৯ তারিখ লাইভ ক্লাস করলো clickntech.com এ। ফটোগ্রাফি বিষয়টিকে খুবই সহজ ভাবে বোঝানো হয়েছে এখানে। সার্বিক সহযোগিতা করেছে বাংলালিংক । সম্পূর্ণ প্রফেশনালদের দ্বারা পরিচালিত প্লাটফর্মটির সাথেই থাকুন ।

এই লাইভ ক্লাসটিতে আপনি শিখতে পারবেন।
ফটোগ্রাফির বেসিক
একটা প্রফেশনাল ক্যামেরার যত্ন
প্রফেশনালদের মাসিক আয় এবং সুযোগ শুবিধা কেমন
বাংলাদেশে ফটোগ্রাফি শিখে আউটসোর্সিং করার কি ব্যবস্থা
এছাড়াও নিচের বিষয়গুলো নিয়েও রয়েছে আলোচনা
দি রুলস অফ থার্ডস
লিডিং লাইনস
ডায়াজোনাল লাইনস
ফ্রেমিং
ফিগারস ভার্সেস ব্যাকগ্রাউন্ড
ফিল দা ফ্রেম
ডোমিন্যান্ট আইস
প্যাটার্নস এন্ড রিপিটেশন
সিমেট্রি

তাই দেরি না করে শেয়ার করুন ।

আমাদের প্লাটফর্মটি দেখুন http://store.clickntech.com/
clickNtech.com এ সাবস্ক্রাইব করুন এবং আমাদের প্লাটফর্মটি সর্ম্পকে জানুন।
ইউটিউব চ্যানেলটি দেখতে ক্লিক করুন https://www.youtube.com/channel/UCs4GfhSGFHCfE4EVrLq3QYg
ফেসকুবে সাথে থাকতে লাইক দিন https://www.facebook.com/clickntech/

এসপেক্ট রেসিও (Aspect ratio)

সেন্সরের দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থের অনুপাতকেই মূলত এসপেক্ট রেসিও বলে। একটি বর্গাকার সেন্সরের অনুপাত হবে 1:1। আবার 35mm ফিল্মের অনুপাত 1.5:1(এরপ্রস্থ, দৈর্ঘ্যঅপেক্ষাদেড়গুনবড়)। সেন্সরের এই অনুপাতের উপর ছবির আকার এবং অনুপাত নির্ভর করে। যখন কোন ছবি স্ক্রিনে দেখা হয় বা প্রিন্ট করা হয় তখন ঐ ছবিটির অনুপাত এবং ডিভাইসের অনুপাত সমান না হলে ছবিটিকে স্ক্রিনে ঠিক মত দেখার জন্য একে রিসাইজ করতে হবে বা ক্রপ করতে হবে। বিষয়টিকে ভালভাবে বোঝার জন্য একটি বর্গাকার ছবিকে একটি আয়তাকার কাগজে প্রিন্ট করতে হবে, তাহলে দেখা যাবে পুরো ছবিটি প্রিন্ট করতে গেলে কাগজের কিছু অংশ ফাঁকা থেকে যাবে, আবার সম্পুরন কাগজে প্রিন্ট করলে ছবিটি পুরো আসবেনা।

Aspect-Ratio jj photography

কোন ক্যামেরার রেজুলেশনের ছোট সংখ্যাটি দিয়ে বড় সংখ্যাটিকে ভাগ করলে এর এসপেক্ট রেসিও পাওয়া যায়। যেমনঃ যদি কোন সেন্সরের রেসুলেশন হয় 4368×2912, 4368-কে 2912 দ্বারা ভাগ করলে ভাগফল আসে 1.5। অর্থাৎ এর অ্যাস্পেক্ত রেশিও 1.5।

Aspect-Ratio jj photography 1

উপরের ছবিটি একটি 11×8.5 কাগজের উপর সম্পূর্ণভাবে বসানোর জন্য সাইজ করা হয়েছে। এর ফলে কাগজের উপরে এবং নিচে কিছু খালি জায়গা থেকে গেছে। নিছের ছবিটি কাগজের দৈর্ঘ্য বরাবর সম্পূর্ণ করা হয়েছে কিন্তু এতে ছবির পাশের বেশ কিছু অংশ কাগজের বাইরে চলে গেছে।

DSLR এর সঠিক লেন্স বাছাই ?

DSLR কেনার সময় আপনি সাথে যেই লেন্সটি পান —সাধারনত 18-55mm zoom বা এর কাছাকাছি কোনএকটা মানের হয় — যা কিনা নির্দিষ্ট কোন স্তর পর্যন্ত বহুমুখী কাজ করতে পারে কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু না। এটি কোন sharp ইমেজ ক্যাপচার করতে পারে না, এর কোন স্পেশাল ফিচারও নেই কিন্তু বিভিন্ন পরিস্থিতিতে আপনি এর দ্বারা কাজ সম্পন্ন করে নিতে পারেন। যখন আপনি বাজারে লেন্স কিনতে যাবেন, তখন আপনি লেন্সের বহুমুখিতার দিকে দৃষ্টি না দিয়ে দেখবেন কোন নির্দিষ্ট কাজের জন্য এটি ভালো। তাহলে চলুন দেখা যাক কোন লেন্স কেমন এবং কোনটি আপনার জন্য উপকারী?

লেন্সের মূলসূত্র সম্পর্কে জানুন
বিভিন্ন ধরনের লেন্স সম্পর্কে জানার আগে লেন্স ব্যাবহারের কিছু শর্তাবলী এবং মৌলিক ধারণা সম্পর্কে জানা জরুরী যাতে করে আপনি বুঝতে পারেন কি ধরনের লেন্স কিনবেন। লেন্সের নির্দিষ্ট কোন নাম নেই কিন্তু এর লেবেলের মাধ্যমে একে সনাক্ত করা যায়,যেমন 18-55mm f/3.5-5.6। এই উপাধি দ্বারা অনেক কিছু বোঝা যায়, কিন্তু আপনি যদি না জানেন তবে আপনি এর কিছুই বুঝবেন না। এই সেকশনে আমরা আপনাকে লেন্সের বিভিন্ন লেবেলের সাথে পরিচয় করিয়ে দেবো এবং কোন লেবেল দ্বারা কি বোঝায় তার সম্পর্কে জানাবো।
Zoom Lenses বনাম Prime Lenses

Lense-2

প্রথমেই zoom লেন্স এবং prime লেন্স এর পার্থক্য সম্পর্কে জানা আবশ্যক। একটি zoom লেন্স তাই করে যা আপনি আশা করছেন অর্থাৎ zooms in এবং out, যাতে করে আপনি সাবজেক্টকে আরও কাছ থকে দেখতে পারেন। অন্যদিকে prime লেন্সের সাথে সাবজেক্টকে কাছ থেকে দেখতে হলে আপনাকে নজে সামনে পিছে এগুতে হবে। তাহলে কেন সবাই zoom লেন্সের চাইতে prime লেন্স বেশি প্রেফার করে? এর কারন হচ্ছে prime লেন্স সস্তা এবং অধিকতর sharp ইমেজ প্রদান করে। এর বড় অ্যাপাচার কিছু নির্দিষ্ট ফাংশন zoom লেন্সের চাইতে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই বলা হয়, পর্যাপ্ত অর্থ হলে একটি zoom লেন্স ভাল কাজ করে এবং বহুমুখিতা প্রদান করে। অবশ্যই আপনার একটি সুবিধা আছে যা হল আপনাকে ক্রমাগত লেন্স পরিবর্তন করতে হবে না। কারন Zoom লেন্সের দ্বারা আপনি ক্রমাগতভাবে কাছে এবং দূরের ছবি তুলতে পারছেন, যা Prime লেন্স দিয়ে সম্ভব না।

zoom এবং prime লেন্স দুটোই লেন্সের ফোকাস দৈর্ঘ্য দ্বারা ডিজাইন করা। ফোকাল দৈর্ঘ্য প্রায়ই মিলিমিটার মাপা হয় এবং মনোনীত দূরত্ব ফোকাস করে। তবে এই সংজ্ঞার মাদ্ধমে বিশেষ কিছু প্রকাশিত হয় না, তাই ফোকাল দূরত্ব সম্পর্কে আপনার যেটা মনে রাখা আবশ্যক তা হল ছোট নম্বর wider view indicate করে এবং বর নম্বর closer view indicate করে। উদাহরণস্বরূপ আপনি যদি বাড়ির ছোট কন কামড়ায় ফটোগ্রাফি করার সময় 18mm এর লেন্স ব্যাবহার করেন তবে কামড়ার প্রায় সম্পূর্ণ অংশের ভিউ ক্যাপচার করতে পারবেন আর যদি 85mm এর লেন্স ব্যাবহার করেন তবে খুবে বেশি পরিমান ভিউ ক্যাপচার করতে পারবেন না। Prime এর শুধু মাত্র এক্তি ফোকাল দৈর্ঘ্য আছে, এবং তাই এরা কেবল 35 mm, 50mm ইত্যাদি হিসাবে লেবেল করা থাকে। Zoom লেন্স এর বিভিন্ন মাত্রা আছে,তাই এগুলো offer a range, 18-55মাত্রায় লেবেল করা থাকে, যাতে করে আপনি 18-55 এর মধ্যে কাছের কিংবা দূরের যেকোনো অবজেক্ট ফোকাস করতে পারেন।

অ্যাপারচার

Lense-3
লেন্সের শিরোনামের দুটি পরিমাপ আছে। প্রথমটি হল ফোকাল দৈর্ঘ্য, আর পরেরটি অ্যাপারচার। অ্যাপারচার নির্ধারণ করে লেন্সে কতটুকু পরিমাণে আলো ঢুকবে। যখন লেন্সের বড় অ্যাপাচার থাকবে, যেমন f-stop তখন এটি বেশি পরিমান আলো ক্যাপচার করে। যখন একটি লেন্সের When a lens has a narrow অ্যাপাচার থাকে এবং এটি যদি বড় মানের হয় তবে, এটি কম আলো ক্যাপচার করে। Wide অ্যাপাচার আপনাকে কম আলোতে ছবি তুলে সাহায্য করে কারন তখন লেন্স নিজেই বেশি আলো ক্যাপচার। উপরের ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন। ছবির লেন্সটি Wide অ্যাপাচারে আছে, লক্ষ্য করে দেখুন যে লেন্সের সামনের কাঁচ দিয়ে অনেক পরিমান আলো যাচ্ছে। যদি লেন্সের হোলটি ছোট হয় তবে অ্যাপাচার সংকীর্ণ হবে এবং কম আলো প্রবেশ করবে। অ্যাপারচার শুধুমাত্র একটি concept নয়, যদি আপনি লেন্সের দিকে তাকান তখন আসলেই কিছু দেখতে পারেন।

আপনি কেবল মাত্র একটি অ্যাপাচারের সাথে আটকে থাকবেন না। একটি লেন্স এর ডিজাইন অনুযায়ী f/1.8 এর মত চমৎকার এবং বিস্তৃত অ্যাপাচার সেট করে। আপনি আপনার ইচ্ছে মত অ্যাপাচার পরিবর্তন করতে পারেন যাতে করে লেন্সে কম আলো প্রবেশ করতে পারে। এখন প্রশ্ন হোল কেন আপনি এটা করবেন? এর কারন হোল সংকীর্ণ অ্যাপাচার আপনাকে ছবি তোলার একটি ভাল গভীর ফিল্ড দেবে যাতে করে আপনি অবজেক্টের সূক্ষ্ম জিনিসগুলো ফোকাস করতে পারেন। যখন আপনি একটি ল্যান্ডস্কেপের ফটোগ্রাফি করছেন তকন আপনি চাইবেন যে আপনার ক্যামেরা যাতে পুরো ইমেজটিই ফোকাস করে। সেক্ষেত্রে সুধুমাত্ত্র উচ্চমাপের অ্যাপাচারই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত ইমেজটি দিতে পারে। বিস্তৃত অ্যাপাচার আপনাকে কম সূক্ষ্ম ইমেজ প্রদান করবে। তাই বলা হয়, আপনি সবসময় সবকিছু ফোকাস করতে চান না। Portrait ছবি তোলার সময় বিস্তৃত বা wide অ্যাপাচার ভালো, কারন এটা ব্যক্তিকে ফোকাস করে পুরো background blur করে দেয়। উদাহরণস্বরূপ উপরের ছবিটি দেখতে পারেন। এতে সাবজেক্ট ছাড়া বাকি সবকিছুই blur।

সব একসঙ্গে রাখুন
এখন যখন আপনি অ্যাপাচার এবং ফোকাল দৈর্ঘ্য বুঝতে পেরেছেন, তাহলে আপনি সহজেই লেন্সের মান পড়তে এবং বুঝতে পারবেন। চলুন ইতিমধ্যে আপনার যে স্ট্যান্ডার্ড zoom লেন্সটি আছে সেটি ভেঙ্গে ফেলা যাক। খুব সম্ভবত এটার লেভেল 18-55mm f/3.5-5.6 এর মধ্যে হবে। এর মানে আপনি জানেন যে এই লেভেলের লেন্স দ্বারা আপনি 18mm পর্যন্ত বিস্তৃত এবং 55mm পর্যন্ত দূরের ছবি কাছে এনে তোলা যাবে। আপনি দ্বিতীয় অংশটি সম্পর্কেও জেনে থাকবেন, যেখানে f/3.5-5.6 মানে সর্বচ্চ অ্যাপাচার। f/3.5 যখন আপনি 18mm এ zoom out করবেন আর f/5.6 যখন 55mm zoom in করবেন। কিন্তু ব্যবহারের বাস্তবিক মানে কি? এটা বুঝতে গেলে প্রথমে আপনাকে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের লেন্সের ব্যাবহার সম্পর্কে জানতে হবে।

লেন্সের প্রকারভেদ
লেন্সের ফোকাল দৈর্ঘ্য এর উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন designations আছে। সাধারনত বলা হয় wide field এর লেন্স বেশি গভীরত্ব প্রকাশ করে অন্যদিকে সংকীর্ণ লেন্স কম গভীরত্ব প্রকাশ করে। ফোকাল দৈর্ঘ্য পরিবরতনের মাধ্যমে আপনি আপনার ছবিকে দিতে পারেন একটি ভিন্ন মাত্রা সেটা হোক zoom লেন্স দিয়ে অথবা prime লেন্স দিয়ে। এই সেকশনে আমারা ভিন্ন প্রকার লেন্স সন্মন্ধে জানবো এবং এর কাজ নিয়ে আলচনা করবো।

নোটঃ প্রতিটি লেন্সের কিছু মাত্রা পর্যন্ত ফোকাল দৈর্ঘ্য আছে (e.g. 50-100mm)। যদি আপনার একটি ভাল মানের DSLRক্যামেরা থেকে থাকে যার ভেতর APS-C sensor আছে। APS-C sensors ফোকাল দৈর্ঘ্যকে প্রায় 1.6 বার magnify করে। এর মানে হোল 50mm লেন্স তখন 80mm লেন্স হয়ে যায়। এটা খুবি গুরুত্বপূর্ণ তার কারন হোল লেন্সের magnification একে এক ক্যাটাগরি থেকে অন্য ক্যাটাগরিতে নিতে সাহায্য করে। তাই ক্যামেরা কেনার সময় এটি মাথায় রাখবেন।

ফিশআই (12mm বা কম)

Lense-4
ফিশআই হোল বিস্তৃত লেন্স যা আপনি কিনতে পারেন। উপরের ছবিটি দেখুন কখনো কখনো এতে আপনার ছবি বৃত্তের মত দেখায় এবং আপনার ক্যামেরা তখন শুধু লেন্স ব্যারেলের ভেতরের অংশটি ক্যাপচার করে। ফিশআই লেন্স তখনই ব্যাবহার করা হয় যখন আপনি আপনার ছবিতে প্রায় সবকিছুই ক্যাপচার করতে চান। ফিশআই ফটোতে লক্ষ্য করলে আপনি বিভিন্ন পশু , মানুষের মজার চেহারা দেখতে পাবেন। অবশ্যই, ছোট স্থানে আরো বাস্তবিক ফোটোগ্রাফির ব্যবহারসমূহের জন্য বা আপনার ছবিতে একটি নির্দিষ্ট অর্থ তৈরিতে বাস্তবতা বিকৃত করার জন্য এটি করা হয়।
Wide Angle (18-30mm)

Lense-5
ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স ফিশআই এর মতই একটি অতিরঞ্জিত গভীরতা তৈরি করে, কিন্তু একটু অপেক্ষাকৃত কম ব্যাপ্তিতে। আপনি যদি কেমেরাতে বেশিকিছু ক্যাপচার করতে চান তবে আপনাকে ওয়াইড এঙ্গেলে যেতে হবে। ওয়াইড এঙ্গেল কিছু বিকৃতি ঘটাতে পারে। For example, যেমন একটি ফ্রেমের ভেতরে আপনি যদি মাটিতে পড়ে থাকা কোন মইয়ের ফটোগ্রাফি করতে চান তবে ছবিটি বাঁকা হয়ে উঠবে। যদিও কিছু কিছু দামী wide angle লেন্স এই সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম এবং আপনি ফটোশপের মতো এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমেও ঠিক করে নিতে পারেন। আপনি যদি একটি ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স ব্যবহার, মনে রাখবেন যে শুধু ইমেজ বিকৃত হবে এবং আপনি আপনার সুবিধাজনক এটি ব্যবহার করতে পারেন যাতে গভীরতার অতিরঞ্জিত করা হবে।

Standard (35-85mm)

Lense-6

স্ট্যান্ডার্ড লেন্স হচ্ছে আয়না যা মানুষ সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে চোখে সূচিত করে। আপনি যদি আপনার ছবি প্রাকৃতিক চেহারা দিতে চান, তাহলে স্ট্যান্ডার্ড লেন্স সবচেয়ে ভাল উপায়। একটি 50mm লেন্সকে সাধারণত নিকটস্থভাবে মানুষের চোখের দেখার সাথে তুলনা করা হয়, যদিও অনেকে মনে করেন লেন্স এই কাজতি করে। তথাপি, উভয়ই সুন্দর এবং সুদর্শন প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফ উত্পাদন করে। উপরন্তু, 35mm, 50mm এবং 85mm লেন্স সাধারণ ফোকাল লেন্থ যা কিনা সস্তা প্রাইম লেন্স জন্য হয়। এটা একটি চওড়া এবং সর্বোচ্চ অ্যাপাচারের লেন্স পেতে সাহায্য করে তাও আবার অনেক টাকা ব্যয় না করেই। আপনি যদি পোর্ট্রেট অথবা প্রাকৃতিক কোন ছবি কাছ থেকে তুলতে চান তবে 50mm এর লেন্স ব্যাবহার করাটাই উত্তম। অনেকই পোর্ট্রেটের জন্য 85mm পছন্দ করে থাকেন, তবে এটা ছবির গভীরতাকে ফ্ল্যাট করে দেয়। তথাপি সবার পছন্দের মাঝে একটি স্ট্যান্ডার্ড লেন্স থাকা আবশ্যক। যেসব লেন্স স্পেশাল ফিচার অফার করে না সেসব লেন্স ছবি তোলার জন্য সঠিক না।

টেলিফোটো (100-300mm)

Lense-7
যখন আপনার খুব কাছ থেকে ছবি তোলা প্রয়োজন কিন্তু আপনার পক্ষে তা সম্ভব নয় তহন আপনার প্রয়োজন টেলিফোটো লেন্স। যখন কোনোরকম নড়াচড়া ছাড়া আপনার সাবজেক্টের কাছে গিয়ে ছবি তোলার সুযোগ থাকে তখন আবার টেলিফোটো লেন্স ভাল কাজ করে না। ধরে নিন আপনি রাস্তায় চলাচলকারী দুই প্রান্ত থেকে হেতে আসা দুই ব্যক্তির ছবি তুলবেন, সেক্ষেত্রে টেলিফোটো লেন্স ব্যাবহার করলে আপনি ভাল ফলাফল পাবেন। ছতি দেখলে তখন মনে হবে যে দুইজন ব্যক্তি একে অপরের খুব কাছাকাছি। ফ্ল্যাট ছবি স্থান খুব একটা খারাপ জিনিস না, কিন্তু এটি আপনি ব্যবহার করার আগে বিবেচনা করে নিতে পারেন, তাই টেলিফোটো লেন্স ব্যাবহারের পূর্বে এটির কারণ জানা গুরুত্বপূর্ণ। যম্নতি আপনি উপরের ছবিতে দেখতে পাচ্ছেন যে কি সুন্দরভাবে টেলিফোটো লেন্স দূরে থাকা সত্ত্বেও সাবজেক্টকে তার ব্যাকগ্রাউনড থেকে আলাদা করেছে। আপনি যদি টেলিফোটো লেন্স ব্যাবহার করতে চান তাহলে একটু দাম দিয়েই না হয় কিনুন এবং খেয়াল রাখবেন যেন এতে অপটিক্যাল অপটিক্যাল স্থিতিশীলতা থাকে। ছোট ছোট মুভমেন্ট হতে শুরু করে সবকিছুই টেলিফোটো লেন্সে ম্যাগ্নিফাই হয়। তাই আপনার ক্যামেরা যদি স্থিতিশীল না থাকে তবে আপনার ক্যামেরায় অনেক অবাঞ্ছিত ব্লার মোশন ধরা পড়বে। আর তাছারা আপনি সরাক্ষন ট্রাইপড নিয়ে ঘুরতে পারবেন না। স্টেবিলাইজার আপনার ছবিকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।

সুপার টেলিফোটো (300mm বা একাধিক)

Lense-8
সুপার টেলিফোটো লেন্স দিয়ে চাঁদের ছবি shoot করা যায়। যখন আপনি অতি দূরের কোন জিনিষের ছবি তুলতে চাইবেন তখন এধরনের লেন্সের প্রয়োজন। সাধারন টেলিফোটো লেন্সের মতো সুপার টেলিফোটো লেন্সের একই অনুকূল প্রতিকূল আছে কিন্তু এর মাত্রাটা একটু বেশি। আপনি যদি দূরত্বটা ভালভাবে বুঝতে পারেন তবে ভাল ফলাফল পাবেন। আপনার সাবজেক্ট ঠিক রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডকে পুরোপুরি ব্লার করে ফেলবে। এতে করে আপনি ইমেজের মধ্যে সুন্দর সিলেক্টিভ ফোকাস অর্জন করতে সক্ষম হবেন।

লেন্সের বিশেষ ধরণ:

Lense-9
কিছু লেন্স অতিরিক্ত আকর্ষণীয় প্রভাব তৈরি করতে পারে যা তাদের ফোকাল দৈর্ঘ্য এর উপরে সেট থাকে। ম্যাক্রো লেন্স আপনার দূরের সাবজেক্টকে অবিশ্বাস্য রকম কাছে টেনে নিয়ে আসে যা খালি চোখে সম্ভব না। T ilt-Shift লেন্স বেছে বেছে ছবির নির্দিষ্ট জায়গায় ফোকাস করে এবং একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ আবহ তৈরি করে। এই দুটো জিনিস খুবই জনপ্রিয়, কিন্তু আপনি আরো অনেক কিছু পাবেন যদি অনুসন্ধান শুরু করেন।
পেশাল লেন্স অনেক মজার হতে পারে, কিন্তু আপনি যেহেতু মাত্র নতুন নতুন শুরু করেছেন তাই এসবকিছু এড়ানোই ভালো। এগুলো শুধু আপনার খরচই বাড়াবে না তার সাথে অনেক জটিলতাও সৃষ্টি করবে। লেন্স কিনতে হলে বেসিক লেন্সই কিনুন। যখন আপনি বেসিকে পারদর্শী হয়ে উঠবেন তখনই স্পেশাল ফিচারের লেন্স ব্যাবহার করতে পারবেন।

লেখাটির কিছু ছবি ইন্টারনেট থেকে নেয়া।

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

কম্প্রেশান কী এবং কেন?

একটা ছবিকে দৈর্ঘ্য-প্রস্থে অনেকগুলো টুকরা করলে কী পাওয়া যাবে? নির্দিষ্ট একটা রং ছাড়া কিন্তু আর কিছুই না, তাই না? আর এই রং পাওয়া যাবে রেড, গ্রিন, ব্লু এর নির্দিষ্ট পরিমানের মিশ্রনে। এমন ছোট্ট রংএর আয়তনটিকেই বলা হয় পিক্সেল। এক একটি পিক্সেলে রেড,গ্রিন,ব্লু (R,G,B) এর ডিসপ্লে ইউনিট (এলইডি, ডিএলপি ইত্যাদি) থাকে। প্রত্যেকটা পিক্সেলের R,G,B এর ভেল্যু ০ থেকে ২৫৫ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। এখন প্রত্যেকটা পিক্সেলের কালার ভেল্যুগুলো যদি একটা ফাইলে সেভ করে রাখা হয়। এবং পরে এই অনুযায়ী আবার তা স্ক্রিনে আঁকা হয় তাহলেই কিন্তু ছবিটি স্ক্রিনে দেখা যাবে। আর এই চিন্তাটিই প্রথম করেন Steven J. Sasson  নামের এক ভদ্রলোক।  ৩.৬ কেজি ওজনের এবং ০.০১ মেগা পিক্সেলের প্রথম ডিজিটাল সাদাকালো ক্যামেরাটি তিনিই তৈরী করেন। প্রায় ২৩ সেকেন্ড লাগতো এই ক্যামেরায় একটা সাদাকালো ছবি ওঠাতে।

এর পরেই শুরু হয়ে গেলো কে কত বেশী মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা বানাতে পারে। কিন্তু সমস্যা হলো, এক ইঞ্চিতে পিক্সেলের পরিমান যত বাড়তে থাকলো ততই ছবি নিখুঁত হতে থাকলো আর পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকলো ছবির ডিস্ক-সাইজ। আগে ছবি হতো কিলোবাইটে আর এখন ছবি হতে শুরু করলো মেগাবাইট, গিগাবাইটে। তাহলে এই ছবি কিভাবে স্টোর করা হবে? কিভাবে পাঠানো হবে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে? তখনই প্রয়োজন হলো কম্প্রেশানের। কম্প্রেশান দুই ধরনের হয় lossless ও lossy।

Human-eye

মানুষের চোখে দুই রড ও কোন নামক দুই ধরনের কোষ থাকে। রডের পরিমান থাকে অনেক বেশী, প্রায় ১২.৫ কোটি। এর কাজ হলো আলোর তীব্রতা কতটুকু তা নির্ধারণ করা। আর কোন থাকে ৪৫ লক্ষের মত। এর কাজ হলো রং চেনা। পরিমান ও স্পর্শকাতরতার জন্যই আমাদের চোখ আলোর তীব্রতার তারতম্য বেশ বুঝতে পারে। কিন্তু রং এর সামান্য এদিক সেদিক হলে তা আমাদের চোখ তেমন একটা টের পায়না।

Eye-color

আর এই জ্ঞানের উপর ভিত্তি করেই ছবি কম্প্রেশনের মূল কাজটি করা হয়। দেখা গেলো প্রত্যেকটি পিক্সেলে জ,এ,ই ভেল্যু না রেখে প্রতি দুইটি, চারটির জন্য কালার ভেল্যু রাখা হয়। এতে ছবির ডিস্ক-স্পেস কম প্রয়োজন হয়। তাই ষ্টোর করতেও সুবিধা, ইন্টারনেটে এটাচ করতেও সুবিধা।

ভিডিও হলো প্রতি সেকেন্ডে একাধিক (৫,২৫,৩০ ইত্যাতি) ষ্টিল পিকচারের একটা সমষ্টি মাত্র। ভিডিও কম্প্রেশানে হয় প্রত্যেকটি আলাদা আলাদা ছবি কম্প্রেস করা হয় না হয় একটা ছবি থেকে আরেকটা ছবির পার্থক্যটুকু শুধু হিসাব করে তা কম্প্রেস করা হয়। তবে কম্পেশানের মূল চিন্তাটি কিন্তু একই।

2013_09_19_16_19_54_1485_jahangir-hossain-arun_thumb

জাহাঙ্গীর হোসেন (অরুণ) আইটি হেড, বৈশাখী টেলিভিশন

JPEG ও RAW ফরমেটের পার্থক্য ?

ডিএসএলআর এ JPEG ও RAW ফরমেটে ছবি তোলার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে কেক মিক্স দিয়ে কেক বানানো বনাম নিজে থেকে কাস্টমাইজ করে কেক বানানো। মিক্স কেক সুস্বাদু, দেখতে ভালো, কেক বানাতে অনেক সময় বাঁচায়। ‘স্ক্যাচ’ বেকারের বিশেষ পদ্ধতি ছাড়াও নিজের প্রতিভাও কাজে লাগায়। কেক মিক্স সুবিধাজনক, কারণ এটা বানাতে কাস্টমাইজস কেকের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বেশি ঝামেলা পোহাতে হয় না। অর্থাৎ যারা ফটো নিয়ে কাজ করে আনন্দ পান এবং ফটো তোলার পর রিটাচিং করা বা ম্যানিপুলেট করতে চান তবে ‘র’ ফরম্যাটে ছবি তুলতে পারে, যা কাস্টমাইজইড কেক বানানোর মতো।

ডিএসএলআর ক্যামেরায় ‘র’ এবং জেপিইজি দুই ফরম্যাট এ ফটো তোলা যায়। ‘র’ ফরম্যাটে ফটো তোলা হলে ফটোশপ বা অন্য কোন ফটো এডিটিং সফটওয়্যারে অনেক কিছুই পরিবর্তন করা সম্ভব। জেপিইজি এর ক্ষেত্রে এটা অনেক লিমিটেড।

RAW-Image 1

শখের ফটোগ্রাফার এবং অনেক সময় প্রোফেশনালরা জেপিইজি ফরমেটে ছবি তুলে থাকে। জেপিইজি ফরমেট আসলে ক্যামেরাতেই প্রসেস হয়ে সেভ হয়। এই ফরম্যাটে ছবির ফ্রেমিং করা সহজ। এটা আপনি সাথে সাথেই প্রিন্ট করতে পারেন বা শেয়ার করতে পারেন। এই ফরম্যাটে ফাইল সাইজও অপেক্ষাকৃত ছোট হয়। ফলে আপনি দ্রুত ফটো তুলতে পারবেন এবং মেমরি কার্ডের ফরম্যাটের তুলনায় অনেক বেশি ফটো ধারণ করা যাবে। বেশিরভাগ মানুষই জেপিইজি ফরম্যাটে ছবি তুলতে স্বাচ্ছন্দবোধ করে।

‘র’ ফরম্যাটে ছবি তোলা হচ্ছে: ‘র’ ডাটা সক্রিয়ভাবে ডাটা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া আনম্যানিপুলেটেড করে। ‘র’ ফরম্যাট ফটোগ্রাফারকে ছবি তুলে পরে যেকোনো ফরম্যাটে নেওয়ার স্বাধীনতা দেয়। এতে ছবির আকার ইচ্ছেমতো বাড়ানো বা কমানো যায়। ‘র’ ছবির ফাইলের আকার বেশ বড় হয়। তাই এই ফরম্যাটে ছবি তুলতে বেশি ধারণক্ষমতার মেমোরি কার্ড লাগে। সৃজনশীল ফটোগ্রাফাররা তাই অনেক সময় ‘র’ ফরম্যাটে ছবি তোলে।

আপনার ফটো তোলা এবং কাজের ধরণ দেখে ঠিক করুন কোন ফরম্যাটে আপনি ফটো তুলবেন। আরেকটা কাজ করতে পারেন। বেশিরভাগ ডিএসএলআর একই সঙ্গে ‘র’ এবং জেপিইজি (বেসিক) ফরম্যাটে ছবি সেভ করতে পারে। আপনার যদি দ্রুত ফটো তোলার প্রয়োজন না থাকে তবে আপনি এই অপশনটি বেছে নিতে পারেন। জেপিইজি ফরম্যাট তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য আর ‘র’ ফরম্যাট পরবর্তীতে রিটাচিং বা ম্যানিপুলেশনের জন্য।

‘র’ পিক্সেলের ১২-১৬ বিটের কালার ইনফরমেশন থাকে, যা বিভিন্ন সূক্ষ রঙ প্রদান করে। জেপিইজি পিক্সেল ৮ বিটের হয়, যা মানুষের চোখে মতো করে দেখতে পারে।

  •   হোয়াইট ব্যালেন্স: এর মাধ্যমে ফটোগ্রাফার লাল, সবুজ ও নীল রংয়ের শেডের সমন্বয় করে ধূসর ও সাদা রঙয়ের বিশুদ্ধতার নিশ্চয়তা দেয়।
  •  কালার স্যাচুরেশন: রঙয়ের আধিপত্য বাড়ায়। রঙয়ের সম্পৃক্তি যত বেশি, ধূসরতা তত কম হয়।
  •  কনট্রাস্ট ও শার্পনেস: ফটোগ্রাফে কনট্রাস্ট হচ্ছে ফটোগ্রাফের মধ্যে কোনো রঙ এর টোনের পরিমাণের পার্থক্য। আর এককথায় অস্পষ্টতার বিপরীত হল শার্পনেস।
  • নয়েজ রিডাকশান ও অ্যান্টিলাইজিং: দুই ধরনের নয়েজ আছে। তা হল: লুমিন্যান্স ও ক্রোম। লুমিন্যান্স গ্রাইনিনেস দেয় ও ক্রোম ক্ষতিকর লাল ও নীল রঙ প্রদান করে। নয়েজ রিডাকশান রঙয়ের ক্ষতি ও শার্পনেস কমায়। ফলে ছবিতে এর সুক্ষ ব্যালেন্স প্রয়োজন।
  • এক্সপোসার কারেকসন: ফটোগ্রাফারদের একটি সাধারণ সমস্যায় পড়ে। তা হল ছবি ওভার এক্সপোসড (বেশি আলো) অথবা আনডার এক্সপোসড (কম আলো) হয়ে যায়।

ছবির সমন্বয় ও বর্ধিতকরণের পর ‘র’ ছবি জেপিইজি অথবা টিআইএফএফ ফাইলে সংরক্ষণ করা হয়। জেপিইজি ফরম্যাটের ৪-বিট ইমেজের আ্যাগ্রেসিভ কমপ্রেসন দরকার। টিআইএফএফ ফাইলে কমপ্রেসন (৮-বিট ও ১৬-বিট) দরকার হতেও পারে, নাও হতে পারে। অর্থাৎ এতে করে ছবির সাইজ ছোট হবে, কিন্তু কোনো ধরনের তথ্য কমবে না ও ছবির কোয়ালিটি নষ্ট হবে না।

RAW-Image 2

অনেকেই ‘র’ ফাইল কেন পছন্দ করে?
বিভিন্ন অপশন থাকার পরও অনেকেই ‘র’ ফরম্যাটে ছবি তোলা পছন্দ করে। কারণ এর দ্বারা ছবির বিভান্ন সংশোধন ও সমন্বয় করা সম্ভব। ‘র’ ফরম্যাটকে ছবির নেগিটিভও বলা হয়, এর মাধ্যমে মৌলিক ছবি নিখুঁতভাবে সংরক্ষণ করা যায়। ছবি তোলার সময় ওভার ও আনডার এক্সপোজড ছবির কারেকশন করে সঠিক কালার আনতে সাহায্য করে।

অনেক ফটোগ্রাফারের কাছে ‘র’ ফরম্যাট প্রতিবন্ধক কেন?
‘র’ ছবি তোলায় কোনো আন্তর্জাতিক মান নেই। প্রতিটি ক্যামেরায় ‘র’ এর আলাদা আলাদা ক্ষমতা, এমনকি এর ব্যাপ্তিও ভিন্ন। উদাহরণ স্বরুপ: ক্যানন ক্যামেরার ক্ষেত্রে ‘র’ ফাইল হচ্ছে .cr2। নাইকনের ক্ষেত্রে .nef এবং মিনোল্টাসের ক্ষেত্রে .mrw। ‘র’ এডোব ফটোশপে .dng মানের কাছাকাছি, কিন্তু সব ছবি এ ক্ষেত্রে প্রয়োগের জন্য ক্যামেরা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মান না থাকার ফলে মার্কেটে বিভিন্ন ধরনের ‘র্য’ ফরম্যাট আসে আবার চলেও যায়। ফলে ‘র’ ফরম্যাটে ছবি তুলে পরে তা অনেক সময় ব্যবহারের জন্য অনুপযোগী ও অচল হয়ে পড়ে।
বেশিরভাগ এসএলআর ও হাই-ইন্ড ক্যামেরায় ‘র’ রেডি এবং ‘র’ সফটওয়্যার থাকে। প্রয়োজনে তা ডাউনলোড করা যায়। যারা নতুন ফটোগ্রাফি শুরু করেছেন ‘Do-it-yourself’ এই ‘র’ ফাইল কনভার্সন তাদের জন্য নয়। অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফার যারা জেপিইজি ফরম্যাটে ছবি তুলে বিরক্ত এবং নিজেই ছবির ম্যানুপুলেশন করতে পারে তারা এই কনভার্সন ব্যবহার করতে পারে।

অনিন্দিতা নাহীন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

অনিন্দিতা নাহীন
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

https://www.youtube.com/watch?v=IHVh0tINXkI

ছবির ফরম্যাট

ডিজিটাল ক্যামেরায় অনেক ফরম্যাটে ছবি তোলা যায়। নিচে কয়েকটি ফরম্যাট সম্পর্কে আলোচনা করা হল।

#JPEG: সাধারনত সব ক্যামেরায় ডিফল্ট ফরম্যাট হিশাবে JPEG ব্যাবহার করা হয়। এর উদ্ভাবক কোম্পানি Joint Photographic Experts Group এর নাম অনুশারে এর নামকরন করা হয়। এই ফরম্যাতে আপনি ইমেজ সাইজ নিরধারন করে দিতে পারবেন। যখন ছবি তলা হয় তখন ক্যামেরার মধ্যে থাকা একটি চিপস ক্যামেরা সেটিংস অনুযাই ছবির সাইজ ছোট করে ফেলে। এর ফলে ছবির মধ্যে যে পরিবর্তন হয় তা পরে থিক করা যায়না। ছবির কিছু মূল তথ্য চিরতরে মুছে যায়।

#RAW: এই ফরম্যাটটি অনেক ক্যামেরাই দেখা যায়, বিশেষ কোরে এসেলার ক্যামেরায়। ডিজিটাল ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ছবি তোলা এবং এডিটিং করা দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। Raw ফরম্যাটের ক্ষেত্রে ছবির সকল ডাটা সেভ হয়ে যায়। ফলে এডিটিঙের ক্ষেত্রে পুর্ন সহযোগিতা পাওয়া যায় ছবি থেকে। মূল ছবি থেকে ইচ্ছে মত পরিবর্তন করে বা ডাটা বাদ দিয়ে পছন্দমত এডিট করা যায়। যখন আপনি ক্যামেরা সেটিংসের উপর পুর্ন নিওন্ত্রন রাখতে ছান এটি আপনার জন্য সবচেয়ে ভাল ফরম্যাট। কারন এর উপর কেবল চারটি জিনিস প্রভাব বিস্তার করতে পারে; এক্সপসার, শাটার স্পিড, আইএসও এবং ফোকাস। অন্য সেটিংস গুলো কেবল ক্যামেরায় দেখার ক্ষেত্রে ছবিতে আফেক্ট করে। মূল ফাইলে করেনা।

ক্যামেরা কোম্পানিগুলো অনেক RAW ফরম্যাট বাজারে এনেছে, এবং প্রতিনিওত আসছে। বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন নামের RAW ফরম্যাট আনছে। বর্তমানে প্রায় ১৪০ ধরনের RAW ফরম্যাট আছে। এবং এই সংখ্যা প্রতিনিওতই বারছে। নিচে কয়েকটি কম্পানির RAW ফরম্যাটের নাম দেয়া হল।
• Nikon – NEF
• Olympas – ORF
• Fuji – RAF
• Sony – SRF
• Canon – CR2
• Pentax – PEF
• Genaric – DNG

#DNG: RAW ফরম্যাটের বিভিন্নতার জন্য সব সফটওয়্যার থেকে এগুল ওপেন করা যায়না। এই সমস্যার সমাধানের জন্য অ্যাডোব DNG নামে একটি নতুন ফরম্যাট বাজারে আনে। ফটোশপ থেকে যেকোনো RAW ফাইল DNG তে কনভার্ট করে নেয়া যাবে। ফলে অন্য কার সাথে ছবি শেয়ারিং এবং ভবিষ্যতে ক্যামেরার সফটওয়্যার না থাকলেও ছবি ওপেন করার পুর্ন নিশ্চয়তা থাকবে।
#TIFF: এই ফরম্যাটটি সাধারনত কম্পিউটার এবং আপ্লিকেশনের মধ্যে ছবি আদান প্রদানের ক্ষেত্রে বেবহ্রিত হয়। সকল পেইন্ট, ইমেজ এডিটিং এবং পেজ লেয়াউট সফটওয়্যার এটি সাপোর্ট করে। এই ফরমেটের ছবি JPEG এবং RAW থেকে বর হয় এবং কেবল ৮ বা ১৬ বিট পার কালারে সেভ করা যায়।

লেন্স কি ?

লেন্স এক ধরনের স্বচ্ছ মাধ্যম যার মধ্য দিয়ে আলোর প্রতিসরণ ঘটে। একটি অথবা উভয় আবরণ একদিক থেকে আলো সংগ্রহ করে এর অভিসরণ পরিবর্তন করে অন্যদিকে প্রতিফলন করে।

লেন্স আলোর মিলিত (converge) ও আলাদা (diverge) হওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়। একটি কনভার্জিং লেন্স লাইট গ্রহণ করে একটি ছোট পয়েন্ট টার্গেট করে (যেমন: চোখ)। কনভার্জিং লেন্স একটি ছোট উৎস থেকে আলো নিয়ে বাইরে নিক্ষেপ করে (যেমন: স্ক্রিন প্রজেক্টার)।

camera lance

বেশিরভাগ লেন্সের গোলাকার আবরণ আছে। এটি আদর্শ আকার না হলেও উৎপাদন করতে এর সুবিধা রয়েছে। বাইরের দিকের বাঁকা আবরণ হচ্ছে কনভেক্স। আর ভেতরের আবরণের নাম কনকেভ, আর সমতল আবরণ হচ্ছে প্ল্যানার।

ক্যামেরা লেন্স আলো সংগ্রহ করে তা একটি কেন্দ্রবিন্দুতে যেমন ফিল্ম অথবা সিসিডিতে নিক্ষেপ করে। বেশিরভাগ লেন্সই একাধিক কাজ করে থাকে। তার মানে দুই বা ততোধিক লেন্সের একই অক্ষ থাকে।

টার্ম লেন্স ইলেকট্রমেগনেটিক কনভার্জিং পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। উদাহরণসরূপ: মাইক্রোওয়েভ লেন্স, গ্র্যাভিটেশনাল লেন্স।

Lense

এসএলআর অর্থাৎ সিঙ্গেল লেন্স রিফ্লেকসন ক্যামেরার প্রধান সুবিধা হচ্ছে এর লেন্স বদল করা যায়। লেন্স বিভিন্ন ধরনের ও আকারের পাওয়া যায় যা দিয়ে ফটোগ্রাফার তার পছন্দমতো ছবি তোলার সুযোগ পায়। ফোকাল ল্যান্থ (ক্যামেরা থেকে বিষয়ের দুরুত্ব) লেন্সের ক্ষেত্রে অন্যতম বিবেচ্য বিষয়, এর সাথে সাটার স্পিড (লেন্সের চোখ খোলার গতি) ও অ্যাপার্চার (লেন্সের পরিধি) লেন্সের জন্য অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ।

অনেক ফটোগ্রাফারই লেন্স কেনার সময় মনে করে এটি বেশ ঝামেলাপূর্ণ। কিন্তু প্রতিটি লেন্সের বৈশিষ্ট্যগুলো বোঝার পর ব্যাপারটি অনেক সহজ। লেন্স কেনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কোন ধরনের ফটোগ্রাফি আপনি পছন্দ করেন, কোনো বিষয়ের উপর ফটোগ্রাফি করতে চান। উদাহরণসরূপ একজন ল্যান্ডস্ক্যাপ ফটোগ্রাফার ওয়াইড অ্যাঙ্গেল বা প্রাইম লেন্স ব্যবহার করলে বেশি উপকৃত হবে। স্পোর্টস ফটোগ্রাফারের দরকার জুম লেন্স যার মাধ্যমে ফটোর বৃহত্তিকরণ ও অটো ফোকাস সম্ভব।

জুম লেন্স অধিক নমনীয়, বেশিরভাগ আধুনিক এসএলআর ক্যামেরায় মানসম্পন্ন জুম রয়েছে। আর প্রাইম লেন্সের ৩৫ মি.মি ও ৫০ মি.মি ফোকাল ল্যান্থের বিশেষ সুবিধা রয়েছে। প্রাইম লেন্সগুলো অধিক শার্প এবং এতে সাধারণত ওয়াইড অ্যাপর্চার আছে। এই লেন্সগুলো পোর্টেট ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। ওয়াইড অ্যাপর্চার হলো যার সাহায্যে ড্যাপ্ট অব ফিল্ড (কাছের ও দূরের বিষয়ের মধ্যে দুরত্বের পার্থক্য) ব্যবহার করে ছবির প্রতিটি বিষয় আলাদা করা সম্ভব। প্রাইম লেন্সের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন দৃষ্টি ও কম আলোয় কাজ করার বৈশিষ্ট্যর জন্য ল্যান্ডস্ক্যাপ ফটোগ্রাফির জন্যও এটি অসাধারণ।

‘সুপারজুম’ লেন্স অনেক সুবিধা দেয় এবং ১৮ মি.মি থেকে ২০০ মি.মি ফোকাল ল্যান্থ কভার করে। সুপারজুম বেশ ভালো যদি আপনি লাইটের কাজ করেন এবং লেন্স পরিবর্তনের কারণে যদি কোনো শট মিস করেন। গত কয়েকবছরে সুপারজুমের মান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, আগের চেয়ে অনেক বেশি সার্পার ও লাইটার।

টেলিফটো লেন্স স্পোর্টস ও প্রাকৃতিক ফটোগ্রাফির জন্য আদর্শ। এটি নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে বিষয় কাছে আনতে সাহায্য করে। টেলিফটো লেন্স সাধারণত ৭৫ মি.মি থেকে ৩০০ মি.মি পর্যন্ত ফোকাল ল্যন্থ অফার করে। এর ব্যাপকতার কারণে ও সার্প ছবি পাওয়ার জন্য টেলিফটো লেন্স ব্যবহারের সময় ট্রাইপড (ক্যামেরা রাখার স্ট্যান্ড) ব্যবহার করা ভালো। আধুনিক লেন্সগুলোতে অপটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি থাকে, এর ফলে ছবি তোলার সময় ক্যামেরার ঝাঁকি কম হয়।

ম্যাক্রো লেন্স কাছের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। একটি যথার্থ ম্যাক্রো লেন্স ‘ফ্যাম-ফিলিং’ ছবি তুলতে পারে যা ক্যামেরার সেন্সরের সাইজের সমান। ম্যাক্রো লেন্স উয়াইড অ্যাপারর্চারের সাথে দারুন নমনীয়তা দেয় যা সাধারণ ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। এই লেন্সে ছবি তোলার সময় ফোকাল করা কঠিন হলে ট্রাইপড ব্যবহার করে ম্যানুয়াল ফোকাস সেট করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।

আল্ট্রা ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং অন্যান্য বিশেষায়িত লেন্সে দারুন ছবি তোলা যায় কিন্তু এদের দাম অনেক বেশি। ফিশ আই লেন্স বেশ ভালো কোয়ালিটির ছবি পাওয়া যায়। তবে অনেক দাম দিয়ে লেন্স কেনার আগে ভাবতে হবে কি কাজে আপনি এটা ব্যবহার করবেন। ফটো এডিটিং সফটোয়্যারের মাধ্যমে স্পেশাল লেন্স ইফেক্টগুলা নকল করা সম্ভব এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির সাথে এক্সপেরিয়্যান্স করার জন্য এটি একটি বিশেষ দিক।

অনিন্দিতা নাহীন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার
অনিন্দিতা নাহীন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

 

 

ইন্টারপোলেটেড রেজুলেশন (Interpolated Resolution)

ক্যামেরায় আমরা সাধারনত দুই ধরনের রেজুলেশন দেখে থাকি । এর একটি অপটিকাল (optical) রেজুলেশন এবং অপরটি দেখে থাকি ইন্টারপোলেটেড (interpolated) রেজুলেশন। ইমেজ সেন্সরের পিক্সেল সংখ্যা নির্দিষ্ট, আর এই অপটিকাল রেজুলাশন এই পিক্সেল সংখ্যাকেই নির্দেশ করে। তাই অপটিকাল রেজুলাশন একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা হয়। তবে ছবির মধ্যে পিক্সেল সংখ্যা বৃদ্ধি করে এর রেজুলেশন বাড়ানো যায়, এই প্রক্রিয়াকে ইন্টারপোলেটেড রেজুলেশন বলা হয়ে থাকে । নতুন পিক্সেল অ্যাড করার ক্ষেত্রে সফটওয়্যার নতুন পিক্সেলের আশে পাশের পিক্সেলের রং কি তা থেকে নির্ণয় করে নতুন পিক্সেলের রং কি হবে। যেমনঃ কোন নতুন পিক্সেলের চারপাশের পিক্সেলগুলোর রঙ যদি লাল হয় তবে নতুন পিক্সেলটির রঙও লাল হবে।

এটা মাথায় রাখা প্রয়োজন যে ইন্টারপোলেটেড রেজুলেশন ছবির মধ্যে কোন নতুন তথ্য যোগ করে না, কেবল মাত্র ছবিতে পিক্সেল যোগ করে এবং ছবির সাইজ বাড়ায়। এই প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন ছবি এডিটিং সফটওয়্যারের সাহায্যেও করা সম্ভব। যে সকল কোম্পানি ইন্টারপোলেটেড রেজুলেশনের কথা বলে তাদের থেকে সাবধান, এটা আপনি যা আশা করছেন ততটা ভালো ফলাফল নাও দিতে পারে। তাই সব সময় ক্যামেরা কেনার আগে এর অপটিকাল রেজুলেশন দেখে নেয়া উচিৎ তাতে আপনি জিতবেন।

ইমেজ সেন্সর পরিষ্কার করার কৌশল

আপনি যখন বাতাসের মধ্যে বা ধুলোর মধ্যে এক বা একাধিক বার ক্যামেরার লেন্স পরিবর্তন করতে যাবেন তখন ইমেজ সেন্সরকে ঢেকে রাখা লো-পাস ফিল্টার(low-pass filter)-এর উপর ধুল জমে যেতে পারে। এই ময়লা আপনার যে কোন ছবির উপর কালো দাগ তৈরি করতে পারে। এরকম হচ্ছে কিনা তা পরিক্ষা করার একটি উপায় হল পরিষ্কার আকাশ বা সাদা কাগজের কিছু ছবি তুলে দেখা। ছবিগুলোকে ফটো এডিটিং সফটওয়্যারে বড় করে দেখতে হবে কোন কালো দাগ আছে কিনা।

এই সমস্যাটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে ক্যামেরা কোম্পানিগুলো তাদের সাদ্ধ্যমত এর সমাধান করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। নিচে কিছু প্রক্রিয়া দেয়া হলঃ

# ক্যামেরার দ্বারা যে সকল ময়লা উৎপন্ন হয় তা কমানোর জন্য যে সকল পদার্থ ধুলো তৈরি করেনা তাদের দিয়ে বডি ক্যাপ ও শাটার তৈরি করছে।
# লো-পাস ফিল্টারের উপর নন-স্টিক(non-stick) পদার্থের প্রলেপ দেয়া হয় জাতে ধুল আটকাতে না পারে।
# লো-পাস ফিল্টারের সাথে একটি আলট্রাসনিক ভাইব্রেটর যুক্ত থাকে, যাতে এটি ভাইব্রেট করে ধুল সরিয়ে দিতে পারে। এই ময়লা তখন আরেকটি ধাতুর উপর পড়ে যা একে পুনরায় ফিল্টারে যাওয়া থেকে বিরত থাকে। এই ভাইব্রেটর ক্যামেরা অন বা অফ করার সময় আপনা আপনি হয় আবার মেনুতে যেয়ে আপনিও করতে পারবেন।
# লো-পাস ফিল্টারকে ইমেজ সেন্সর থেকে এমন দুরত্তে স্থাপন করা হয় যেন এর উপর কোন ধুল পড়লেও তা ফোকাসের বাইরে চলে যায়। এবং ছবির উপর এর প্রভাব কমে যায়।
# একটি সাদা কাগজ বা দেয়ালের ছবি তুলে দিলে ক্যামেরা লো-পাস ফিল্টারের কোথায় কোথায় ময়লা আছে তা শনাক্ত করে ফেলে। এরপর এই তথ্য সকল ছবির সাথে দেয়া হয়। এরপর ছবিগুলো যখন কম্পিউটারে নেয়া হয় তখন ক্যামেরার সাথে যে সফটওয়্যার দেয়া হচ্ছে তা ছবি থেকে ময়লার দাগ মুছে ফেলতে পারে।
এ সকল প্রক্রিয়া যখন ব্যার্থ হবে তখন হয় আপনি ক্যামেরার সার্ভিসিং সেন্টারে একে পরিষ্কার করতে দিতে পারেন অথবা নিজে নিজে পরিষ্কার করতে পারেন। তবে নিজে নিজে করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এক্ষেত্রে আপনাকে এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগে খুব ভাল করে জানতে হবে।

Image-sensor-clean jj photography

উপরের ছবিতে সেন্সর সোয়াব এবং ইলিপ্স ফ্লুইডের সাহায্যে ইমেজ সেন্সর পরিষ্কার করার উপায় দেখানো হল।

ইমেজ সেন্সর সাইজ

ইমেজ সেন্সর বিভিন্ন সাইজের হয়ে থাকে। সবচেয়ে ছোটটি হচ্ছে পয়েন্ট এন্ড শুট (point and shoot) ক্যামেরায় ব্যাবহার করা হয় এবং সবচেয়ে বড়টি হচ্ছে প্রফেশনাল SLR ক্যামেরায় ব্যাবহার করা হয়। বেশীরভাগ SLR-ই APS ফিল্মের ফ্রেমের সমান সাইজের সেন্সর থেকে থাকে। প্রফেশনাল SLR ক্যামেরায় 35mm ফিল্মের সমান সাইজের সেন্সর (যাকে full-frame সেন্সর বলে) খুব কম ব্যাবহার করা হয়ে থাকে । বড় ফ্রেমের ক্যামেরায় এর থেকে বড় সাইজের সেন্সরও ব্যাবহার করা হয়।

বড় ইমেজ সেন্সরে বড় সাইজের ফটসাইট বা পিক্সেল থাকে যার সাহায্যে বেশী আলো এবং কম নয়েজ (noise)-এর ছবি তোলা যায়। ফলে ছবি অনেক বেশী উজ্জ্বল, পরিষ্কার এবং নিখুঁত হয়। সেন্সরে সাইজ এতটা জরুরি যে দেখা যায় যে একটি ৬ মেগাপিক্সেলের বড় সেন্সর, একটি ৮ মেগাপিক্সেলের ছোট সেন্সর অপেক্ষা ভালো ছবি দেয়। ছোট সেন্সরের আর একটি সমস্যা হল ভালো ছবি তোলার জন্য এর ভালো এবং দামী লেন্সের প্রয়োজন হয়।