3D কি?

0

 

মানুষের চোখের কার্যক্রমX-Y-Z গ্রাফ

3d থ্রিডি হলো থ্রি-ডাইমেনশন । এটি এমন একটি প্রযুক্তি যার প্রস্থ (width), উচ্চতা (height) ও গভীরতা (depth) রয়েছে । বস্তুগত পরিবেশই হলো থ্রিডি বা থ্রি-ডাইমেনশনাল, আমাদের প্রতিদিনের জীবনে আমরা সবসময়ই থ্রিডির আশপাশে থাকি।

মানুষ শুধু চোখে দেখেই একটি বস্তুর সম্পর্কে জানতে ও বুঝতে পারে কারণ আমাদের থ্রিডি পারসেপশন রয়েছে। এটিকে আরো বলা হয় ডেপথপারসেপশন । আমরা যখন চারদিকে তাকাই তখন আমাদের দু-চোখের রেটিনা চোখের ভেতরে একটি টু-ডাইমেনশনাল ইমেজ তৈরি করে । আর আমাদের মস্তিস্ক সেই ইমেজকে থ্রিডি ভিজুয়্যাল এক্সপেরিয়েন্সে রুপ দেয় ।

তবে একটি বিষয়ে জেনে রাখা ভাল যে, মানুষের দুই চোখেই দেখার ক্ষমতা থাকলেও এটি থ্রিডি ভিউতে দেখার একমাত্র উপায় নয় । যারা শুধু একচোখে দেখতে পারেন তারাও পৃথিবীটাকে থ্রিডির রুপেই দেখেন । তাদের স্টেরিও ব্লাইন্ড (stereo blind) বলা হয় । তাদের থ্রিডিতে দেখার একটি টুল কম থাকে । ফলে তারা বাঁকি টুলগুলোর ওপর নির্ভর করে।

ডেপথ পারসেপশনের ক্ষেত্রে মানুষ যেসব টুলস ব্যবহার করে তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো-

স্টেরিওসকোপিক দৃষ্টি (Stereoscopic vision): মানুষের চোখ দুটো হওয়ায় এরা কিছুটা আলাদা ছবি দেখায়, দুরের ছবির চেয়ে কাছের ছবি সাধারণত বেশ আলাদা হয় ।

স্থানসঙ্কোলান (Accommodation): মানুষ যখন একটি দূরের অথবা কাছের বস্তুর দিকে ফোকাস করে, তখন চোখের মনি নিজে নিজেই তার আকার পরিবর্তন করে । তবে এটি নির্ভর করে বস্তুটি কতটা দূরে অথবা কাছে আছে তার ওপর ।

প্যারালাক্স (Parallax:) মানুষের মাথা যখন বিভিন্ন দিকে ঘুরে তখন কাছের বস্তুগুলো দুরের বস্তুগুলোর চেয়ে বেশি নড়াচড়া করে ।

আকারের ঘনিষ্টতা (Size familiarity): আপনি যদি একটি বস্তুর আসল গঠন ও আকার সম্পর্কে জানেন তাহলে, আপনি চোখে দেখেই বলে দিতে পারবেন যে সেটি কতটা দুরে রয়েছে। তবে বস্তুটি কতটা বড় তা দেখেই আপনি এর দুরত্ব বলে দিতে পারবেন। একইভাবে, আপনি যদি দুটি একই মাপের বস্তুকে দেখেন এবং এদের মধ্যে একটিকে আপনার বেশি বড় বলে মনে হয়, আপনি বলে দিতে পারবেন যে বড় বস্তুটি কাছে রয়েছে।

বায়বীয় দৃষ্টিকোণ (Aerial perspective): বাতাসের কারণে আলো মুহুর্তেই বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে, ফলে দুরের বস্তুর চেয়ে কাছের গুলোকে ভাল দেখা যায়। দুরের বস্তুগুলোর রঙেও পরিবর্তন দেখা যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাকগ্রাউন্ড কালারের সঙ্গে মিলেও যেতে পারে। তবে এটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নীল হয়ে থাকে।

যখন একটি টুডি সারফেস বা সমতল জায়গায় থ্রিডি ছবি দেখানো হবে তখন, ওপরের পারসেপশন টুলসের বেশিরভাগই সেখানে দেখতে পাওয়া যাবে।কিন্তু এদের সবগুলোকে একসঙ্গে একইস্থানে পাওয়া সম্ভব নয়। কারণ ভিডিও সবসময়ই একটি কম্বিনেশন ব্যবহার করে। যাতে একসঙ্গে এতগুলো পারসেপশন কখনই খুঁজে পাওয়া যায় না । উদাহরণ স্বরুপ- এরিয়ালপার্সপেকটিভ ও সাইজফেমিলিয়ারিটি ভিডিও ক্যামেরা নিজে নিজেই ঠিক করে নেয়। তবে সিজিআই-এর(CGI) ক্ষেত্রে, এরিয়ালপার্সপেকটিভ অবশ্যই যোগ করতে হবে, যাতে দুরের বস্তুগুলো কম পরিস্কার দেখা যায় । এটি কে বলে ডিসটেন্সফগ (distance fog)।

তবে, বেশিরভাগ স্টেরিওসকপিক(stereoscopic) ইমেজ দেখে মানুষ মনে করে, স্টেরিওসকপিক(stereoscopic) ফিল্মগুলো থ্রিডিতে হয়, আর বাঁকি সবগুলোই টুডি।

টুডি ফ্লিম ও ভিডিও (2D Film & Video): একটি ঐতিহ্যগত টুডি (2D) ভিডিও চিত্রের প্রস্থ ও উচ্চতা আছে কিন্তু টেকনিক্যালি এর কোন গভীরতা নেই। এ ধরনের ছবিতে দর্শককে সবকিছুই একই দূরত্ব থেকে দেখানো হয় । তবুও, দর্শক ছবিটিকে ওপরের টেকনিকগুলো ব্যবহার করে থ্রি ডাইমেনশনাল হিসেবে দেখতে পারে । ঠিক যেভাবে স্টেরিও ব্লাইন্ডনেস সমস্যায় থাকা একজন মানুষ সব কিছু ঠিকঠাক দেখতে পায় ।

অ্যানাগ্রাফিক মুভির জন্য প্রয়োজন লাল/সবুজে নীল অথবা লাল/নীল গ্লাস প্রয়োজন হয়

থ্রিডি ফিল্ম এবং ভিডিও (3D Film & Video): থ্রিডি ভিডিও স্টেরিওসকপিক ভিশন যোগ করে। মানে, মানুষের দুই চোখের একেকটিতে দুটি আলাদা ছবি একসঙ্গে দেখানো হয়। এতে প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যা রয়েছে। যার ফলে আজ থেকে ১০০ বছর আগে তৈরি প্রথম থ্রিডি মুভির মতোই, এথনও এর কোন পরিপূর্ণ সিস্টেম তৈরি করা যায়নি ।

প্রচলিত প্রদর্শন পদ্ধতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

Anaglyphic processing (red/cyan glasses): অ্যানালিগ্রাফিক প্রক্রিয়াজাতকরণ (লাল/সবুজাভ নীল) সত্যিকারের থ্রিডি সিস্টেম এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পক্ষে রয়েছে ।

Polarized light system (polarized filter glasses): পোলারাইজড লাইট সিস্টেম: সিনেমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত এবং একেবারেই নতুন সিস্টেম ।

Active shutter system (LCD shutter glasses): অ্যাকটিভ সাটার সিস্টেম: প্রথম প্রজন্মের থ্রিডি টেলিভিশন এবং অন্যান্য ডিসপ্লের জন্য সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ।

Comment

comments

Comments are closed.