হাইব্রিড ক্যামেরা কিনবেন ?

0

ক্যামেরা জগতে এই সময় বিক্রির শীর্ষে রয়েছে হাইব্রিড ক্যামেরা। একে মিররলেস বা কমপ্যাক্ট-সিস্টেম ক্যামেরাও বলে। সৌখিন এবং পেশাদার ফটোগ্রাফারদের জন্য এই ক্যামেরা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে। এতে দামি ডিএসএলআর-এর মতো প্রয়োজন মাফিক লেন্সও বদলে নেওয়া যাবে।

হাইব্রিড ক্যামেরা কেনার আগে ৫টি বিষয় জেনে নেওয়া প্রয়োজন:

১. ইমেজ সেন্সর: যে জিনিসটির ছবি তুলবেন তা থেকে আলো গ্রহণ করবে ইমেজ সেন্সর। হাইব্রিড ক্যামেরার প্রধান দুটি সেন্সরের আকার হলো মাইক্রো ফোর থার্ডস এবং এপিএস-সি। অপেক্ষাকৃত ছোট সাইজের মাইক্রো ফোর থার্ডস সেন্সর বহনে সহজ হলেও এর ছবির মানে কিছুটা ছাড় দিতে হবে। অন্যদিকে, এপিএস-সি বেশি জায়গা নিলেও ভাল মানের ছবি তুলতে এবং কম আলোতে ছবির তোলার উপযোগী।

হাইব্রিড ক্যামেরাগুলো সাধারণত ১৪ থেকে ২৪ মেগাপিক্সেলের হয়ে থাকে, যা স্ট্যান্ডার্ড সাইজ ছবি তোলার জন্য যথেষ্ট। তবে পোস্টার বা তার চেয়ে বড় মাপের ছবির জন্য আরো বেশি মেগাপিক্সেল প্রয়োজন হবে।

২. লেন্স: হাইব্রিড ক্যামেরার বিপুল জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এতে সুবিধামতো লেন্স বদলানো যায়। কাছ থেকে, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, দূরের বা যেকোনো অবস্থানের ছবি তুলতে ভিন্ন ধরনের লেন্স প্রয়োজন হয়। সাধারণত মাইক্রো ফোর থার্ডস ক্যামেরায় এ ক্ষেত্রে অনেক অপশন পাওয়া যায়। তাই কেনার আগে আপনার চাহিদা এবং ক্যামেরাটিতে কোন কোন লেন্স সংযুক্ত করা যায় তা যাচাই করে নিন।

৩. ম্যানুয়েল কন্ট্রোল: পেশাদার এবং সৌখিন ফটোগ্রাফাররা মনের মতো নিখুঁত ছবি তুলতে ম্যানুয়েল কন্ট্রোলের মজাটা বোঝেন। ছবি তোলার আগে এক্সপোজার, ডেপথ, শাটারের গতিসহ অনেক কাজ আলাদাভাবে ঠিক করে নিতে হয় চাহিদা অনুযায়ী ছবিটা পাওয়ার জন্য।

যেমন- দ্রুত সেটিং পরিবর্তনের জন্য স্যামসাং এনএক্স২০ মডেলটি উপযোগী। আবার প্যানাসনিক লুমিক্স জিএফ৬ মডেলে দ্রুততার সাথে অ্যাপারচার এবং জুম সেটিংয়ের জন্য আলাদা লিভার রয়েছে।

৪. ভিউফাইন্ডার: যে বস্তুটির ছবি তুলবেন হাইব্রিড ক্যামেরায় তা আপনাকে দেখাবে ইলেকট্রনিক ভিউফাইন্ডার। বেশিরভাগ হাইব্রিড ক্যামেরায় এলসিডি পর্দা ব্যবহার করে। আবার ওলেড পর্দাও সহজলভ্য।

সনির নেক্স৭ মডেলের দুটি ভিউফাইন্ডার রয়েছে। একটি ৩ ইঞ্চি পর্দা যা ঘোরানো যায়। অপরটি ছোট ওলেড ভিউফাইন্ডার যা আপনাকে ডিএসএলআর দিয়ে ছবি তোলার অনুভূতি দিবে। আবার প্যানাসনিক লুমিক্স জিএফ৬-এ ৩ ইঞ্চি এলসিডি পর্দার ভিউফাইন্ডার রয়েছে যাতে টাচ করে আপনি ছবি তুলতে পারবেন। একে ১৮০ ডিগ্রি ঘোরানো যায়।

৫. দাম: নানা রকম ফিচারের সঙ্গে দামের সামঞ্জস্য করে হাইব্রিড ক্যামেরা কেনার সুযোগ রয়েছে। শুধুমাত্র ছবি তোলার জন্য কম দামের মধ্যে সনির নেক্স-৩এন মডেলটি উপযোগী। ১৬-৫০ এমএম লেন্সের এ ক্যামেরাটির দাম পড়বে ৪৪৯ মার্কিন ডলার। আবার ৭৯৯ ডলার মূল্যে পাবেন নিকন এডব্লিউ১ মডেলটি যাতে আছে ১৪.২ মেগাপিক্সেল সেন্সর, বিল্ট ইন ওয়াই-ফাই এবং জিপিএস। তা ছাড়া ক্যামেরাটি ওয়াটারপ্রুফ, ফ্রিজপ্রুফ এবং শকপ্রুফ। আর বাজেট বেশি থাকলে অলিম্পাসের ই-এম১ মডেলের শুধু বডির দাম পড়বে ১৩ শ ৯৯ ডলার। দ্রুতগতির শাটারসহ এর এলসিডি টাচস্ক্রিন ভিউফাইন্ডার রয়েছে যা ঘোরানো যায়।

Comment

comments

Comments are closed.