ফটোগ্রাফিতে কিছু নিয়ম

0

ফটোগ্রাফিতে নির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে যা ফটোর ইমপেক্ট বাড়াতে সাহায্য করে। কিন্তু ফটোগ্রাফির একমাত্র নিয়ম হচ্ছে এখানে কোনো নিয়ম নেই। যাই হোক, কম্পোজিশনের কিছু দিকনির্দেশনা রয়েছে যা ছবির বিষয়ের ইম্পেক্ট বৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হয়।

দিকনির্দেশনাগুলো অধিক কমপেলিং ছবি তুলতে সাহায্য করে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।
যখন আপনি কমপোজিশন টিপসের সঙ্গে পরিচিত হবেন তখন সারপ্রাইজড হবেন বেশিরভাগই কত সমাদৃত। অন্যের চোখের সাধারণ একটি ছবি সব জায়গায় আপনি স্পট করতে পারবেন।

১.রুলস অব থার্ড

ছবিতে মূল সাবজেক্ট কে যদি মাঝে রাখা হয়, তাহলে তার চারপাশের বিষয়বস্তু ছবির দর্শকের কাছে ইন্টারেস্ট হারায়। সব আগ্রহ তখন কেবল ছবির মূল বস্তুকে নিয়েই থাকে। রুলস অফ থার্ড এ থেকে বেরিয়ে চারপাশসহ ছবিটিকে আরো আকর্ষনীয় করে তোলার চেষ্টা করে।
কল্পনায় আপনার ছবিটাকে ২টি সমতল ও ২টি খাড়াভাবে লাইন করে ৯টি সমান ভাগে বিভক্ত করুন। রুলস অব থার্ড বলে, এখন ছবির মূল যে বস্তু তাকে এই বিভাজনের যে চারটি ইন্টারশেকসন পয়েন্ট আছে তাতে অথবা ওই লাইন বরাবর রাখতে হবে। কিছু ক্যামেরার স্ক্রীনে রুলস অফ থার্ড গ্রিডের অপশন থাকে, যাতে করে এটা ব্যবহার করা আরো সহজ হয়।

ছবিটি খেয়াল করে দেখুন আকাশকে তিন ভাগের দুই ভাগ ও নীচের অংশকে তিন ভাগের এক ভাগ করে ব্যালেন্সিং করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সুন্দর রুল অফ থার্ড মেনে ফটো তোলা হয়েছে। ছবি: ট্রেই রেটক্লিফ(সংগৃহীত)

ছবিটি খেয়াল করে দেখুন আকাশকে তিন ভাগের দুই ভাগ ও নীচের অংশকে তিন ভাগের এক ভাগ করে ব্যালেন্সিং করা হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে সুন্দর রুল অফ থার্ড মেনে ফটো তোলা হয়েছে। ছবি: ট্রেই রেটক্লিফ(সংগৃহীত)

 

২.ব্যালেন্সিং এলিমেন্ট

রুল অফ থার্ডের নিয়ম অনুযায়ী ছবির মূল বিষয়কে একপাশে নিয়ে ছবিটিকে আরো ইন্টারেস্টিং করুন। কিন্তু এটি ছবির একপাশে খালি অংশ ছেড়ে দেয়। আপনাকে ছবির মূল বিষয়ের ভারি অংশের সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ অংশের সামাঞ্জস্য করতে হবে।

এখানে রোড সিগনালের ছবির ‘ভারি’ অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেছে অপরপাশের বিল্ডিংটা। ছবি: শ্যানন কোকসকা(সংগৃহীত)

এখানে রোড সিগনালের ছবির ‘ভারি’ অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেছে অপরপাশের বিল্ডিংটা। ছবি: শ্যানন কোকসকা(সংগৃহীত)

 

৩.লিডিং লাইন

যখন আমরা একটি ছবির দিকে তাকাই তখন আমাদের চোখ স্বাভাবিকভাবেই লাইন আঁকে। চিন্তা করুন আপনার ছবিতে কিভাবে আপনি লাইন করে কম্পোজিশন করবেন। বিভিন্ন ধরনের লাইন রয়েছে, যেমন : সোজা, বাকা, জিকজ্যাক, রেডিকেল ইত্যাদি। যা ছবির কম্পোজিশনের মান বাড়ায়।

এই ছবিতে পথটা চোখে এর লাইনগুলো ড্র করছে। ছবি: পিয়ের মেটিভিয়ার (সংগৃহীত)

এই ছবিতে পথটা চোখে এর লাইনগুলো ড্র করছে। ছবি: পিয়ের মেটিভিয়ার (সংগৃহীত)

 

৪.সিমেট্রি ও প্যাটার্ন
আমরা চারপাশ থেকে সিমেট্রি ও প্যাটার্নে আবদ্ধ। উভয়ই প্রাকৃতিক ও মানুষের তৈরি, যা আকর্ষণীয় ও অপ্রত্যাশিত কমপোজিশন তৈরিতে সাহায্য করে। এটি ব্যবহারের আরেকটি ভালো উপায় হলো সিমেট্রি ও প্যাটার্নের রুলগুলো ভাঙ্গা। যেমন: ছবির মধ্যে টেনশন তৈরি করা।

ছবি: ফাবিও মন্টালটো(সংগৃহীত)

ছবি: ফাবিও মন্টালটো(সংগৃহীত)

 

৫.ভিউ পয়েন্ট
আপনি যে বিষয়ের উপর ফটোগ্রাফি করবেন তা করার আগে ভাববেন কোথায় ছবিটা তুলবেন। ভিউ পয়েন্ট ফটোর কমপোজিশনে বড় প্রভাব রাখে। এর ফলে ফটোগ্রাফিতে প্রতিটি ছবির বিষয়বস্তু একেকটি মেসেজ প্রদান করে। সরাসরি চোখের লেবেল থেকে ছবি তোলা থেকে উপর থেকে, নীচে থেসে, পাশ থেকে, পেছন থেকে দূর থেকে, একদম কাছ থেকে ছবি তুলে ভিন্নতা আনা যায়।

ছবি: রনশো্(সংগৃহীত)

ছবি: রনশো্(সংগৃহীত)

 

৬.ব্যাকগ্রাউন্ড

মানুষের চোখ একটি দৃশ্যের বিভিন্ন উপাদান আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে পারে। যেখানে ক্যামেরা মধ্যে শুধু ফরগ্রাউন্ড ও ব্যাকগ্রাউন্ড চিহ্নিত করার প্রবণতা দেখা যায়। যা অনেক সময় ছবি নষ্ট করার কারণ হয়। তবে টাইম অব শুটিংয়ের মাধ্যমে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব। সরল ও বাধাহীন ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে তাকান, এর ফলে ছবির বিষয়বস্তু থেকে ডিসট্রাক্ট করবে না।

ছবি: ফিলিপ নাদেরার(সংগৃহীত)

ছবি: ফিলিপ নাদেরার(সংগৃহীত)

 

৭.ডেপ্ট

ফটোগ্রাফি যেহেতু দুটি ডাইমেনশনাল মিডিয়াম, সেহেতু কমপোজিশন সতর্কতার সাথে নির্বাচন করতে হবে যা ছবির আসল প্রেক্ষাপটের ডেপ্ট প্রদান করে। আপনি ছবির বস্তুর ফরগ্রাউন্ড, ব্যাকগ্রাউন্ড, মিডল ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে ডেপ্ট সৃষ্টি করতে পারেন। আরেকটি কার্যকরী কমপোজিশন টেকনিক হচ্ছে ওভারলেপিং, যেখানে আপনি অস্পষ্ট বস্তু একটার সাথে আরেকটা দিতে পারবেন।

ছবি: জুলি বার্লিন(সংগৃহীত)

ছবি: জুলি বার্লিন(সংগৃহীত)

 

৮. ফ্রেমিং

পৃথিবী নানা ধরনের বিষয়বস্তুতে পরিপূর্ণ। যেমন গাছপালা, ধনুকাকৃতি, গর্ত ইত্যাদি। কমপোজিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় থেকে ছবির সাবজেক্টকে আলাদা করা সম্ভব। এর ফলে বেশি ফোকাসড ইমেজ পাওয়া যাবে যা ফটোগ্রাফারের চোখ প্রাকৃতিকভাবে আঁকবে।

ছবি: স্যালি ক্রসওয়েটা (সংগৃহীত)

ছবি: স্যালি ক্রসওয়েটা (সংগৃহীত)

 

৯.ক্রপিং

অনেক সময় একটি ছবি অনেক কম প্রভাব ফেলে যদি ছবিটা অনেক ছোট থাকে। এর ফলে এর আশপাশের বিভিন্ন গোলমেলে দৃশ্য থাকে। ক্রপিংয়ের ফরে ছবির আশপাশের ব্যাকগ্রাউন্ডের নয়েজ বাদ দেযা যায়। ফলে ছবির বিষয়বস্তু দর্শকের কাছে আরো মনোযোগ আকর্ষণ করে।

ছবি: হিন ন্যূয়ান(সংগৃহীত)

ছবি: হিন ন্যূয়ান(সংগৃহীত)

 

১০. এক্সপেরিমেন্টেশন

ডিজিটাল ফটোগ্রাফি বর্তমান সময়ের আশির্বাদ। আমরা এখন ফিল্ম প্রসেসিংয়ের সময় ও কষ্ট সহজেই এড়াতে পারি। যত ইচ্ছা তত ছবি তুলতে পারি। এতে করে ছবির কম্পোজিশন নিয়ে অধীক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রয়েছে। এই ব্যাপারটার সুযোগ কাজে লাগিয়ে যত ইচ।চে তত এক্সপিরিয়েন্স করুন। কারণ আপনি জানেন না কখন আপনার কোন আইডিয়া ‘ক্লিক’ করে।

ছবি: হিন ন্যূয়ান(সংগৃহীত)

ছবি: হিন ন্যূয়ান(সংগৃহীত)

 

ফটোগ্রাফির কমপোজিশন সাইন্স থেকে অনেক দূরে, এর নিয়মগুলো হলো এক চিমটি লবনের মতো। যদি তা আপনার সেন্সে কাজ না করে তাহলে উপেক্ষা করুন। যখন আপনার মনে হবে ভালো কম্পোজিশন পাবেন তখন সেদিকে এগিয়ে যাবেন, যে ভাবেই হোক শুট করবেন।

অনিন্দিতা নাহীন ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

অনিন্দিতা নাহীন
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার

Comment

comments

Comments are closed.