ক্যামেরা ফাংশন

0

সাধারণ ক্যামকোডারের বেশিরভাগই অটোমেটিক সিস্টেমে কাজ করে। ক্যামেরা চালাতে গেলে আপনাকে যা করতে হবে তা হলো, ক্যামেরাটি অন করতে হবে এবং নির্দিষ্ট বস্তুকে কম্পোস করে ছবি তোলার বাটনে চাপ দিতে হবে। তবে অটোমেটিক ফাংশনের কিছু দুর্বলতাও আছে। আপনি যদি ক্যামেরার কাজে পারদর্শি হতে চান তাহলে, আপনাকে ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করতে জানতে হবে। মানে আপনাকে ম্যানুয়াল ফাংশন সম্পর্কে জানতে হবে। প্রফেশনাল ক্যামেরাম্যানরা সাধারণত অটো ফোকাস ও অটো আইরিশ অপশন ব্যবহার করে না।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই অটো ক্যামেরা চালোনার ক্ষেত্রে যে প্রশ্নটি সামনে আসে তা হলো- কেন নয়? আমার অটো ফোকাসতো ভালই কাজ করে, আর এতে তোলা ছবিও ভালই দেখায়।
এ প্রশ্নের দুটি উত্তর হতে পারে-
১. কখনোও কখনোও অটো ফোকাসে ভাল কাজ হয়। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটি পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে উঠতে পারে না। যেমন- এমন কোন জায়গা যেখানে আলোর স্বল্পতা রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে আপনি এমন ছবি পাবেন যা কোথাও ব্যবহারের জন্য পুরোপুরিই অযোগ্য হবে। তবে আপনি ম্যানুয়াল কন্ট্রোল ব্যবহার করলে সেই ছবিটি হবে অনেক বেশি পরিপূর্ণ।
২. আপনার ক্যামেরা এটি বুঝবে না যে আপনি আসলে কি ধরণের ছবি চাচ্ছেন। তাই সবচেয়ে ভাল ফল পেতে অথবা একটি বিশেষ ইফেক্ট কাজে লাগাতে আপনাকে ম্যানুয়াল মোডে ক্যামেরা চালাতে হবে।
আপনি ক্যামেরা সম্পর্কে যত বেশি জানবেন, ততোই আপনার মনে হবে অটো মোডের চেয়ে ম্যানুয়েল মোডে ক্যামেরা চালানোটাই ভাল।

এটি ক্যামেরার একটি বিশেষ ধরণের লেন্স যা আপনাকে দুরের ছবি অনেক কাছে এনে দেখায় এবং তা ধারণ করে রাখতে পারে। এটি একটি ছবিকে আপনার চোখের কাছ থেকে অনেক দুরেও সরিয়ে নিতে পারে। এই লেন্সটি বস্তুকে সামনে ও পেছনে নিয়ে যাওয়ার মতই কাজ করে।
জেনে রাখা ভাল যে, আপনি যত বেশি জুম করবেন ক্যামেরা যদি ট্রাইপডে না থাকে তাহলে ছবিটি ততটাই বেশি নড়াচড়া করবে, অর্থাৎ এ সময় আপনাকে ক্যামেরাটি শক্ত করে ধরে রাখতে হবে। কোন কোন ক্ষেত্রে ক্যামেরাটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের কাছে সরিয়ে নিয়ে গিয়েও আপনি জুম করতে পারেন। এতে আপনি যে ফ্রেমটি চাচ্ছেন তা পেয়ে যাবেন। তবে বেশি জুমের ক্ষেত্রে স্ট্যান্ড ব্যবহার করা ভাল।
জুমিং এমন একটি ফাংশন যা সবাই খুব পছন্দ করে। এটি খুবই সহজ এবং আপনি কোন বাধা ছাড়াই জুমিং করতে পারেন। আর এ কারণেই এটি এত বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে জুম সম্পর্কে আমাদের মতামত হলো-এটিকে কম ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। আর বেশি জুমিং, ছবির মানের জায়গায় কিছুটা হলেও ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়।

ফোকাস

Focus

অটোফোকাস আসলে তাদের জন্য যারা সবেমাত্র ক্যামেরা চালানো শিখছেন। স্টিল পিকচার ছাড়া কোন ভিডিও ক্যামেরায় কাজ করার ক্ষেত্রে অটোফোকাস মোটেও ভাল না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ম্যানুয়েল ফোকাস ব্যবহারকারীদের কাছে কঠিন বলে মনে হয়। তবে আপনি যদি ছবি তোলায় পারদর্শি হয়ে উঠতে চান তাহলে আপনাকে ম্যানুয়েলি ফোকাস কন্ট্রোল করতে জানতে হবে।
প্রফেশনাল ক্যামেরাগুলোতে লেন্সের সাথেই ফোকাস করার ম্যানুয়েল কন্ট্রোলারটি থাকে। রিংটিকে ঘরির গতিপথের দিকে ঘোরালে এটি ক্লোজ ফোকাস করবে আর ঘরির কাটার বিপরিতে ঘোরালে দুরের ফোকাস। তবে সাধারণ ক্যামেরাগুলোর একটু ভিন্ন ফোকাস মেকানিজম থাকে। সাধারণত ছোট আকৃতির।
সবচেয়ে ভাল ফোকাস পেতে হলে- সাবজেক্টের দিকে যতটা সম্ভব জুম করুন, এতে আপনি বেশ ভাল ফোকাস পাবেন। ক্যামেরার লেন্সের সঙ্গে থাকা ফোকাস রিংকে ততক্ষণ ঘোরান যতক্ষণ না আপনি সাবজেক্টকে পরিস্কার ফোকাসে পাচ্ছেন। পরে আপনার প্রয়োজন মত জুম আউট করে ছবি তুলুন অথবা রেকর্ড করুন।

আইরিশ

Focus-2

এটি একটি অ্যাডজাস্টেবল অপেনিং, যা লেন্সের ভেতর দিয়ে আসা আলোর পরিমাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আপনি যখন আইরিশ ওপেন করবেন তখন আরো বেশি আলো ভেতরে ঢুকবে আর ছবিতে আলোর পরিমাণও বেড়ে যাবে।
প্রফেশনাল ক্যামেরায় লেন্সের পেছনে আইরিশের একটি রিং থাকে, যা ঘরির মতো করে ঘোরালে আইরিশ এর মুখ খুলবে আর উল্টোদিকে ঘোরালে আইরিশ এর মুখ বন্ধ হবে।

হোয়াইট ব্যালেন্স

হোয়াইট ব্যালেন্স মানেই কালার ব্যালেন্স। এটি এমন একটি ফাংশন যা ক্যামেরাকে বলে দেয় যে কোন অংশে কতটুকু রঙের প্রয়োজন। সাদা রঙের আভা দিয়ে এই কাজটি করা হয়। এটি তিনটি প্রাইমারি রঙকে সমান ভাবে ব্যালেন্স করে।
এই কাজটি সাধারণ ক্যামেরায় অটোমেটিক্যালি হয়ে থাকে, ফলে এর ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে এ ধরণের একটি ফাংশন ক্যামেরায় আছে।
হোয়াইট ব্যালেন্স কিভাবে করতে হবে তার নিয়মাবলি: একটি সাদা কাগজে ক্যামেরা জুম ইন করে আইরিশটা অটোতে রেখে যে লাইন কন্ডিশনে সুটিং করবেন, তার ফিল্টারটা সেট করে অটো হোয়াইট ব্যালেন্সের সুইচ অন করে ছেড়ে দেবেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই আইরিশের পর্দায় হোয়াইট ব্যালেন্স ওকে (White Balance Ok) লেখাটি ভেঁসে উঠবে। মানে হোয়াইট ব্যালেন্স হয়ে গেছে। এখন নেমে পড়ুন সুটিং এ।
ছবি তোলার আগে আপনি সবসময়ই হোয়াইট ব্যালেন্স করে নেবেন, বিশেষ করে যখন আলো পরিবর্তন হয়। এটি আপনি ঘরের বাইরে অথবা ঘরের ভেতরে যেখানেই সুটিং করবেন সেই লাইট কন্ডিশনে হোয়াইট ব্যালেন্স করে নেবেন।

অডিও

Audio

সাধারণ ক্যামেরার বেশিরভাগেই অডিও রেকর্ডের জন্য বিল্ট-ইন মাইক্রোফোন থাকে। সাধারণত হাইফাই স্টেরিও। এগুলো ভালই কাজ করে।
তবে ভাল মানের অডিও পেতে হলে একটু খাটুনির প্রয়োজন পড়ে। এখানে আমরা এ বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলবো না- আপনাকে শুধু মনে রাখতে হবে যে, ক্যামেরায় অডিওর বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়।
যদি আপনার ক্যামেরায় অডিও রেকর্ডিং আপনার পছন্দ মতো না হয়, তাহলে এর অডিও জ্যাক ইনপুট ডিভাইসে একটি এক্সটারনাল মাইক্রোফোন যোগ করুন। আপনি এটি কেন করবেন? এর দুটো প্রধান কারণ রয়েছে-
১. আপনার ব্যবহার করা মাইকটি ক্যামেরার সঙ্গে থাকা মাইকের তুলনায় অবশ্যই ভাল হবে। আর ক্যামেরার বিল্টইন মাইক এর মাথার ওপর লাগানো থাকে।
২. কিছু ক্ষেত্রে আপনার এমন প্রয়োজন হয়ে উঠতে পারে যে, ক্যামেরা থেকে মাইকটি খানিকটা দুরে নিয়ে গেলে ভাল সাউন্ড পাওয়া যেতে পারে। উদাহরণ স্বরুপ- যদি কোন আলোচনা সভায় যাওয়া হয়, তাহলে স্পিচ দেওয়ার স্থানটি ক্যামেরা থেকে অনেক দুরে হতে পারে। সেক্ষেত্রে, আপনি এক্সটারনাল মাইকটি স্ট্যান্ড ব্যবহার করে অনেকটা দুরে সেট করতে পারেন।
আপনার ক্যামেরায় সাউন্ড কোন লেভেলে রেকর্ড হচ্ছে তাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ ক্যামেরাতেই অটো গেইন কন্ট্রোল থাকে, যা অডিও লেভেল একাএকাই সেট করে নেয়। এ সুবিধা মূলত সাধারণ ব্যবহারের জন্য তৈরি ক্যামেরাগুলোতে থাকে, এবং এটি বেশ ভাল কাজও করে। যদি আপনার ক্যামেরায় ম্যানুয়েল অডিও লেভেল থাকে তাহলে এটি সম্পর্কে ভালভাবে জেনে নেওয়াই ভাল।
যদি সম্ভব হয়, ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ লেভেল বা এমবিয়েন্ট এক রাখাই ভাল। এতে রেকর্ডিং-এর মান ভাল হয়। তবে কিছু কিছূ ক্ষেত্রে অডিও লেভেলে হঠাৎই পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়ে ওঠে। এটি ইফেক্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে।
যখন একজন কিছু বলবে তখন তার পুরোটাই একবারে রেকর্ড করার চেষ্টা করুন, কখনও কারও কথার মাঝামাঝি সর্টে কাট দেবেন না। এতে আপনি অর্ধেক সেন্টেসে ভর্তি একটি ভিডিও আউটপুট পাবেন।
ভিডিও রেকর্ডিং এর সময় ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ডের বিষয়ে সবসময়ই খেয়াল রাখা উচিৎ। এতে প্রতি সর্টের সঙ্গে শব্দতে জাম্প হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
আরেকটি বিষয়, রেকর্ডিং এর সময় বাতাসের শব্দের বিষয়টি মাথায় রাখা উচিৎ। বাতাসের হাল্কা শব্দই আপনার ভিডিওটি নষ্ট করে দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্যামেরাতেই লো-কাট ফিল্টার থাকে। কখনও কখনও এটিকে উইন্ড নয়েজ কন্ট্রোল হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এটি কার্যকরি। তবে ভাল হয় বাতাস চলাচলের শব্দ আটকে দিতে পারলে।

শাটার

একেবারে কাজের শুরুর দিকে আপনার শাটার ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। তবে এটি অল্পকথায় বলে দেওয়া উচিৎ। শাটার স্পিড সাবজেক্ট এবং লাইটের মুভমেন্ট কন্ট্রোল করে। এর বিভিন্ন ধরনের অ্যাপলিকেশন রয়েছে। এটি বেশি প্রয়োজন হয় খেলা ও দ্রুত চলমান ছবির ক্ষেত্রে। যদি আপনি শাটারের ব্যবহার না জানেন, তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় এটি বন্ধ রাখুন। আর অটোমেটিক মোডে ছবি তুলুন।

ইফেক্ট
সাধারণ ব্যবহারের জন্য তৈরি বেশিরভাগ ক্যামেরাতেই বিল্টইন ডিজিটাল ইফেক্ট থাকে। যেমন- ডিজিটাল স্টিল, মিক্স, স্ট্রোব ইত্যাদি। এগুলো বেশ সুন্দর ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে। এগুলোর একেকটি একেক ধরণের বিশেষ গুন সম্পন্ন। ভিডিও ক্যামেরায় থাকা ইফেক্টগুলো নিয়ে কাজ করা খুবই ফলপ্রসু, তবে এর কাজ ঠিকভাবে না করা হলে এটি ছবিকে নষ্টও করে দিতে পারে।
আপনাকে আরেকটি বিষয়েও লক্ষ্য রাখতে হবে যে, ক্যামেরায় ইফেক্ট ব্যবহার করে ছবি তোলার চেয়ে কোন এডিটিং সফটও্যায়ারে ইফেক্টের কাজ করা ভাল। যদি সম্ভব হয়, কোন ইফেক্ট ছাড়াই ছবি তুলুন এবং পরে সেটিকে সফটও্যারের সাহায্যে ইফেক্ট ব্যবহার করে বদলে নিন।

Comment

comments

Comments are closed.