ইমেজ সাইজ কি ?

0

ছবি তোলার সময় পিক্সেলের সংখ্যার উপর নির্ভর করে যে ছবিটি ডিসপ্লেতে (display) কত বর দেখাবে বা কত বর প্রিন্ট করা যাবে। নির্দিষ্ট আকারের মধ্যে পিক্সেল যত বেশী হবে ছবি তত নিখুঁত হবে। যেহেতু ছবির মান পিক্সেলের সংখ্যার উপর অনেকাংশে নির্ভর করে তাই পিক্সেল সংখ্যা সর্বাধিক দিয়ে শুট (shoot) করাই ভালো। যেকোনো ছবির আসল সাইজ থেকে এডিটিঙের (editing) মাধ্যমে ছোট করা সম্ভব কিন্তু কোন ছবি বর করা সম্ভব না।

P_image-Size-jj-01

(স্কয়ার (square) পিক্সেলগুলো একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে বিন্যস্ত থাকে ছবির বাকা দাগগুলো এবং এজগুলো (edge)ফুটিয়ে তোলার জন্য। যত বেশী পিক্সেল ব্যাবহার করা হবে বাঁকা দাগ গুলো তত বেশীমসৃণ হবে। উপরের ছবিতে একই লাল বল ৪, ১২ এবং ২৪ পিক্সেলে দেখান হল। পিক্সেল বৃদ্ধির সাথে সাথে ছবি আরো মসৃণ হয়েছে)

ডিজিটাল ছবির ইমেজ সাইজ দুইভাবে প্রকাশ করা যায়, এর দৈর্ঘ্য প্রস্থের পিক্সেল সংখ্যা দিয়ে অথবা এর মোট পিক্সেল সংখ্যা দিয়ে। যেমনঃ একই ছবির সাইজ বলা যেতে পারে 4368×2912 পিক্সেল ( ‘×’-কে বাই (by) উচ্চারণ করা হয় ) আবার 12.7 মিলিয়ন পিক্সেল (4368 এবং 2912-এর গুন ফল)। ১ মিলিয়ন পিক্সেলকে ১ মেগাপিক্সেল বলে। তার মানে 12.7 মিলিয়ন পিক্সেলের ছবিকে আমরা 12.7 মেগাপিক্সেলের ছবি বলতে পারি।

P_image-Size-jj-02

( ইমেজ সাইজকে প্রকাশ করা হয় দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থকে পিক্সেল সংখ্যার মাধ্যমে প্রকাশ করে (4368×2912) অথবা মোট পিক্সেল সংখ্যা দিয়ে (12,719,616)। )

একটি ছবিতে যত বেশী পিক্সেলি থাকনা কেন ছবিটি বর করতে থাকলে এক পর্যায় এর নিখুঁত ভাবতি হারাতে থাকবে এবং আস্তে আস্তে পিক্সেলগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। এই ইফেক্টকে (effect) বলে পিক্সেলাইযেশন (pixelaization)। ছবির সাইজ যত বর হবে , পিক্সেলাইযাশনের পুর্বে তা তত বড় করা যাবে বা বড় করে প্রিন্ট করা যাবে।

বড় সাইজের ইমেজের আরেকটি সুবিধা পাওয়া যায় এডিটিং করার সময়। শুধুমাত্র ক্রপ(crop) করার ক্ষেত্রেই নয়, ছবির কালার ব্যালেন্স(color balance), হিউ(hue), স্যাটুরেশন(saturation), কন্ট্রাস্ট(contrast), উজ্জ্বলতা(brightness) ইত্যাদি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও বড় সাইজের ছবি বেশী সহায়ক। কারন সাইজ যত বড় হয় তত বেশী তথ্য থাকে ছবিতে। এসব পরিবর্তন করার পর ছবিকে প্রয়োজন মত ছোট সাইজে কনভার্ট করে নেওয়া যায়।

ইমেজ সেন্সরের সাইজ যত বড় হয় সাধারন ভাবেই তার দাম তত বৃদ্ধিপায়। যদিও বড় সেন্সরের মাধ্যমে নিখুঁত ও ভালো মানের ছবি পাওয়া যায়, কিন্তু পিক্সেল যত বেশী হবে ছবির সাইজো তার সাথে বেরে যাবে। বড় ফাইল যে শুধু সংরক্ষনের জন্য বেশী জায়গার প্রয়োজন হয় তা না, তাদের স্থানান্তরিত করতে

P_image-Size-jj-03

(যখন একটি ডিজিটাল ছবি তার আসল পিক্সেলের সাইজে প্রিন্ট করা হয়(বাম পাশে উপরে) তখন এটিকে সাধারন ছবির মত দেখায়। কিন্তু যখন বেশী বড় করে প্রিন্ট করা হয় তখন এর পিক্সেলগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।)

বেশী সময়ের প্রয়োজন এবং ওয়েবে পাবলিশ(publish) করার জন্য কিংবা ই-মেইল করার জন্য বেশী বড় হয়ে যায়। ছোট ইমেজ সাইজ, যেমনঃ 800×600 ওয়েবে কিংবা মেইল করার জন্য অথবা প্রেসেনটেশন(presentation)- এর জন্য যথাযথ। এসকল কাজের ক্ষেত্রে উচ্চ রেসুলেশনের(resulation) ইমেজ শুধু শুধু ছবির সাইজ বড় করে উল্লেখযোগ্য ভাবে ছবির কোন পরিবর্তন না করে।

P_image-Size-jj-04

(বড় সাইজের ইমেজের একটি সুবিধা হল ছবির মানের পরিবর্তন না করে একে সুবিধা মত ক্রপ(crop) করা যায়।)

Comment

comments

Comments are closed.