ইন্টারনেট মহাযজ্ঞ

0

ইন্টারনেট হল সারা বিশ্বের সকল কম্পিউটারের সংযোগ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা্ অনেকে মনে করে ইন্টারনেট হল আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এর সংক্ষিপ্ত রূপ আবার অনেকে ইন্টারনেটকে ইন্টার (INTER) নেটওয়ার্ক এর সংক্ষিপ্ত রূপ মনে করে। যে যাই বলুক সবাই সঠিক, কারণ ইন্টারনেট হল কোটি কোটি কম্পিউটারের জাল বা নেটওয়ার্ক এবং আন্ত যোগাযোগ ব্যাবস্থা।

প্রত্যেকে আলাদা নেটওয়ার্ক যা যুক্ত থাকে ইন্টারনেটের সাথে তা একটি সার্বজনীন নেটওয়ার্ক প্রোটকল (Protocol) বা নিয়ম-নীতি মেনে চলে যা হচ্ছে টিসিপি/আইপি (TCP/IP) বা ইন্টারনেট প্রোটকল। এই সকল কম্পিউটার গুলো একটি সার্বজনীন পদ্ধতি ব্যাবস্থা করে যাতে একে অপরকে চিনতে ও তাদের নিজেদের মধ্যে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে।

এখন কিভাবে একই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক মিলে ইন্টারনেট হিসেবে কাজ করে তা বোঝার সবচেয়ে ভাল উপায় হল একে যদি আমাদের ডাক যোগাযোগ ব্যাবস্থার সাথে তুলনা করি। ডাক যোগাযোগ ব্যাবস্থায় প্রথমে প্রেরক তার চিঠি পাঠানোর জন্য পোস্ট অফিসে প্রাপকের ঠিকানা জুড়ে দেয়। যাতে করে প্রাপককে সহজে ও কাঙ্খিত স্থানে চিঠিটি পাটাতে পারে। তখন এই প্রাপকের ঠিকানা অনুযায়ী তার এলাকার পোস্ট অফিসে চিঠিটি পাটানো হয়। এরপর সেখান থেকে প্রাপকের এলাকা ও স্থান নিদিষ্ট করে প্রাপকের কাছে পৌছানো হয়। ঠিক ইন্টারনেট ও তেমনি একটি পোস্ট অফিস হিসাবে কাজ করে। তখন যে কোন একটি বা একাধিক কম্পিউটার প্রেরক হিসাবে কোন খবর বা মেসেজ বা তথ্য অন্য এক বা একাধিক কম্পিউটারের উদ্দেশ্যে প্রেরন করে। এরপর অপর প্রান্তে কম্পিউটার অর্থাৎ প্রাপক কম্পিউটার তা প্রহন করে এবং প্রয়োজনে তার উত্তর প্রাদান করে। কিন্তু এখানে প্রেরক ও প্রাপকের ঠিকানা সঠিক এবং ভিন্ন বা অনন্য (Unique) না হলে তাদের মধ্যে কোন রকম যোগাযোগ হবে না। এই ঠিকানা ব্যবহারের জন্য এবং সঠিক পদ্ধতিতে যোগাযোগ করার জন্য TCP/IP প্রটোকল ব্যবহার করা হয়।

এখন এই ঠিকানা বা TCP/IP প্রোটোকল সম্পর্কে বলতে গেলে আরেকটু খোলামেলা ভাবে বলা দরকার। নেটওয়ার্ক কয়েক ধরনের হয়ে থাকে। সেহেতু আমরা ইন্টারনেট নিয়ে আলোচনা করছি তাই এসব বিস্তারিত ব্যাপার পরে আলোচনা করব। আমারা নেটওয়ার্ককে দুইভাগে ব্যবহার করতে পারি। একটি হল ইন্ট্রানেট (Intranet) এবং অপরটি হল ইন্টারনেট (Internet)। ইন্ট্রানেট হল একটি নিদিষ্ট নেটওয়ার্ক বা একটি স্থানের কয়েকটি কম্পিউটারের সীমিত যোগাযোগ ব্যাবস্থা যা এর বাইরের বা সারা বিশ্বের কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ করতে পারে না । আর ইন্টারনেট হল সেই নেটওয়ার্ক যা নিজেদের ও বাইরের সকল কম্পিউটারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত হতে পারে। তাই ইন্টারনেট এ যুক্ত হওয়ার জন্য প্রত্যেকটি কম্পিউটারকে তার নিজ নিজ ঠিকানা নিশ্চিত করতে হবে যাকে আইপি এড্রেস বলে। এই আই পি এড্রেস এরও শ্রেনী বিভাগ আছে এবং ব্যবহার এর ধরণ অনুযায়ী এটি পরিবর্তীত হয়। মূলত ৫ প্রকারের আই পি শ্রেনী রয়েছে। শ্রেনী (Class) A, B, C, D, E সেখনে মূলত A, B এবং C সর্বত্র ব্যবহৃত হয়। প্রত্যেক শ্রেনী একটি নির্দিষ্ট সীমার বৈধ আই পি এড্রেস নিয়ে কাজ করে।

Mohajoggo 1.1

Mohajoggo 1.2

এই ইন্টারনেট নেটওয়ার্কে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার এর সংযুক্তি বা যোগাযোগকে আরও বিশদভাবে বলতে গেলে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে যোগাযোগ করতে পারে যা ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকুক বা না থাকুক। আবার অপরদিকে ইন্টারনেট যোগাযোগ ব্যাবস্থায় এই যোগাযোগকে ক্লায়েন্ট টু সার্ভার এবং সার্ভার টু ক্লায়েন্ট বলে। অর্থাৎ ক্লায়েন্ট হল সেই সকল কম্পিউটার যা সাধারন ব্যবহারকারী ব্যবহার করেন এবং সার্ভার হচ্ছে সেই সব বিশেষ কম্পিউটার যা একসাথে অনেক কম্পিউটারের (ক্লায়েন্ট) সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। যেমন – Google, Facebook , Yahoo ইত্যাদি। এভাবেই আমারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে আমাদের তথ্য সমুদ্রে প্রবেশকরি এবং গোটা দুনিয়াকে হাতের মুঠোয় ও চোখের সামনে হাজির করতে পারি

ইন্টারনেট মহাযজ্ঞের আরো বেশকটি পর্ব আসছে …….

কাজী মশিউর রহমান( দেশটিভি)

মশিউর রহমান( দেশটিভি)

Comment

comments

Comments are closed.