বিন্যস্ত নিয়মনীতি এবং প্যাকেট (Protocol Stack and Packets) :-
ধরি, আপনার কম্পিউটার ইন্টারনেটে এর সাথে যুক্ত একটি অনন্য বা ইউনিক (Unique) আই পি এড্রেস দ্বারা। ইন্টারনেটের মাধ্যমে কিভাবে একটি কম্পিউটার আরেকটি কম্পিউটারের সাথে যোগাযোগ বা কথা বলে? উদাহারন স্বরুপ – ধরি, আপনার আইপি এড্রেস হল “১.২.৩.৪” এবং আপনি যারসাথে যোগাযোগ করতে চান তার আইপি এড্রেস “৫.৬.৭.৮” । আপনি “৫.৬.৭.৮” কে বলতে চান ‘কি খবর(Hello) – ৫.৬.৭.৮’!

Mohajoggo 2.1

এখন এই কথাটি অবশ্যই যে কোন মাধ্যম (ক্যাবল /ক্যাবল ছাড়া) এর মাধ্যমে “৫.৬.৭.৮” এ পৌছাবে। এখন এই কথা মাধ্যমের (Media) ধরণ অনুযায়ী ইলেক্ট্রিকাল সিগনাল বা আলোক সিগনাল বা বেতার তরঙ্গ (RF) আকারে কাঙ্খিত ঠিকানায় পৌছাবে। এটা কিভাবে সম্ভব হবে?? এটা সম্ভব হবে বিন্যস্ত নিয়ম-নীতির মাধ্যমে। প্রত্যেক কম্পিউটারের ইন্টারনেটের সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি পদ্ধতি দরকার যা কম্পিউটারের নিজস্ব চালিকা পদ্ধতি (Operating System) থেকে তৈরি হয়। ইন্টারনেট এ ব্যবহৃত বিন্যস্ত নিয়ম –কানুন পরিচয় করিয়ে দেয় কারন দুই ধরনের যোগাযোগ নিয়ম-কানুন ব্যবহৃত হয় বলে।

যদি আমরা দেখতে চাই কিভাবে আপনার পাঠানো খবরটি ‘কি খবর (Hello) ৫.৬.৭.৮’আপনার কম্পিউটার থেকে আই পি এড্রেস “৫.৬.৭.৮” এর কম্পিউটারে যায় এবং দেখায়।

Mohajoggo 2.2
কাজের প্রক্রিয়া :
১. পাঠানো খবরটি প্রথমে শুরু হয় ঐ কম্পিউটারের Protocol Stack এর সর্ব উপরের স্তর থেকে এবং এটি নিচের স্তরে স্তরে কাজ করে।

২. যদি বড় আকারের কোন খবর (message) দূরে পাঠানো হয় তখন প্রত্যেক বিন্যাস্ত স্তরে খবরটিকে ছোট ছোট খন্ডে ভাগ করে পাঠায়। এই কারণে ইন্টারনেট ও ইন্ট্রানেট এর পাঠানো ডাটা নিয়ন্ত্রন করার উপযোগী হয়। যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর কাছে প্যাকেট নামে পরিচিত।

৩. এই প্যাকেট অ্যাপ্লিকেশন স্তর দিয়ে যায় এবং টিসিপি স্তরে চলমন হয়। প্রত্যেক প্যাকেটে একটি পোর্ট নাম্বার সংযুক্ত করে দেয়া হয়। পোর্ট সর্ম্পকে পরে বলব, কিন্তু যা বলা প্রয়োজন তা হল- অনেক প্রোগ্রাম টিসিপি/আই পি বিন্যস্ত স্তর ব্যবহার করে এবং খবর পাঠায়। আমাদের জানা দরকার কোন প্রোগ্রাম গন্তব্য কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় কোন দরকারি কোন খবর গ্রহন করতে পারবে বা পারবে না। কারণ এই খবরটি একটি নিদিষ্ট পোর্টই গ্রহন করতে পারবে।

৪. টিসিপি স্তরের মধ্যদিয়ে যাওয়ার পর আইপি স্তরে প্যাকেট গুলোকে প্রক্রিয়া করন ও অনু্মতি প্রদান করা হয়। এখান থেকে প্যাকেটগুলো যে ঠিকানায় (৫.৬.৭.৮) পাঠাতে হবে তা নির্ধারন করে দেয়া হয়।

৫. এখানে আপনার খবরের প্যাকেটগুলোর জন্য পোর্ট নাম্বার ও আইপি ঠিকানা দেয়া হয়েছে যাতে করে ইন্টারনেটের মধ্যেদিয়ে পাঠানো যায়। হার্ডওয়ার স্তর খবর এর আক্ষরিক অংশগুলো ইলেক্ট্রনিক সংকেত এ রূপান্তর করে দূরবর্তী গন্তব্যস্থলে পাঠানোর জন্য উপযোগী করে তুলে যা প্রেরণ লাইনের ধরন অনুযায়ী রূপান্তরিত হয়। যাতে যে কোন ধরনের ক্যাবল বা লাইন এর মধ্যে দিয়ে এটি যেতে পারে।

৬.আপনার প্রেরিত সংকেত ব্যবহৃত মাধ্যমের অপর প্রান্ত অর্থাৎ আই এস পি (ISP) থেকে ইন্টারনেটের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হয়। আই এস পি (ISP) এর রাউটার প্রত্যেক প্যাকেট কে পরিক্ষা করে দেখে যে এটি কোন গন্তব্য ঠিকানায় যাবে এবং পাঠাতে হবে। মাঝে মদ্যে এই প্যাকেটগুলো পরবর্তী রাউটারেই বন্ধ হয়ে যায়। রাউটার ও ইন্টারনেট এর গঠন অভয়ব সর্ম্পকে পরে আলোচনা করা হবে।

৭.সবকিছুর পর এই প্যাকেটগুলো গন্তব্য কম্পিউটার “৫.৬.৭.৮” এ পৌছায়। এখানে প্যাকেট গুলো গন্তব্য কম্পিউটারের নিচের স্তর টিসিপি/আইপি গুলো উপরের স্তরে প্রবেশ করবে।

৮. যদি প্যাকেটগুলো বিন্যস্ত স্তরের মধ্যদিয়ে উপরের স্তরে প্রবেশ করে তবে সব প্রক্রিয়াজাত ডাটা অর্থাৎ যা পাঠানো হয়েছিল তা আইপি ও পোর্ট নাম্বার থেকে আলাদা করে লম্বাভাবে সাজিয়ে রাখে।

৯.যখন ডাটা বিন্যস্ত (Stack) স্তরের উপরের স্তরে প্রবেশ করে তখন খবরটি তার সঠিক রূপ অর্থাৎ প্রথম রূপ “কি খবর (Hello) ৫.৬.৭.৮৭” এ রুপান্তরিত হয়।

কাজী মশিউর রহমান( দেশটিভি)