ক্রিয়েটিভিটি কি ?

0

সৃষ্টিশীলতা কে পছন্দ না করেন বলুন তো? সম্ভবত স্কুলের টিচার বা আমাদের বাবা-মা কোন কোন ক্ষেত্রে আমাদের ক্রিয়েটিভিটিকে ভয় পান। ক্রিয়েটিভিটির জোরে কেমিস্ট্রি ল্যাবে আগুন ধরিয়ে দেয়া, কিংবা কারও বাড়ির কলিংবেলকে অটোমেটেড করে দেয়ার সৃজনশীলতা নিশ্চয়ই ভয়ংকরই! ছোট্টবেলার সৃজনশীলতা বলতে আমরা বুঝি ডানপিটে, দৌড়াদুড়ি, কথা না শোনা! বড় বেলায় উদ্ভাবনী কোন কাজ কিংবা পাগলামি, যা অন্যদের অ্যাড্রোনালিন রাশকে নাড়া দেয় তাই কি সৃজনশীলতা?
যে যেই পেশাতেই থাকি না কেন আমরা, দুর্দান্ত কোন কাজকেই ক্রিয়েটিভ বলে থাকি আমরা। ক্রিকেট খেলায় শচীন টেন্ডুলকারকে কি সৃজনশীল বলবেন নাকি ক্রিস গেইলকে ক্রিয়েটিভ ভাববেন তা নির্ভর করছে আমি কিভাবে চিন্তা করেন। ২২ বছরের ক্যারিয়ার শচীন টেন্ডুলকারকে সৃজনশীলতার একটা ধরণ হিসেবে প্রমাণ করে, তেমনি দুর্দান্ত মারকুটে আকাশ ছোয়া ছক্কা হাঁকানো দ্য মাইটি গেইলকে বক্সিং ক্রিকেটার হিসেবে সৃজনশীল ভাবাই যায়!
সৃজনশীলতাকে নানা ভাবেই ভাবা যায়। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা যেমন ক্রিয়েটিভ নমুন, তেমনি কয়েক মুহুর্তের অ্যাডভার্টাইজমেন্টও কিন্তু আপনার সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ নমুনা হতে পারে। টাইম ম্যাগাজিনের সাড়া জাগানো শিরোনাম ছিল, “রাজনীতিতে মার্কিনদের সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ডোনাল্ড ট্রাম্প।” নাইকি কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ফিল নাইটের সঙ্গে আপনি চীনে গেলে কি দেখতেন? “একশো কোটি মানুষ”, তাই না? ….. ফিল দেখেছিলেন ২০০ কোটি পা! হাজার মডেলের নোকিয়া আর মটোরোলা মোবাইল ফোনকে এক তুড়িতে স্টিভ জবস উড়িয়ে দিয়েছিলেন আইফোন দিয়ে। সত্যজিৎ রায়ের বঙ্কুবাবুর বন্ধুকে আপনি চিনেন বোধ হয়। সেই বন্ধুকে কিন্তু হলিউডে স্টিফেন স্পিলবার্গ ইটি নামে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন! গেল শতাব্দীর ষাটের দশকে রায় বাবুর লেখা দুই পৃষ্টার বঙ্কুবাবুর বন্ধু গল্পটি কলম্বিয়া পিকচার্স সিনেমা হবে না বলে উড়িয়ে দিয়েছিল। সেই বঙ্কুবাবুর বন্ধুই এক দশক পরে সিনেমার ইতিহাস পাল্টে দিয়েছিল। সাড়ে পাঁচশ বছর আগে ইতালির ফ্লোরেন্স শহরে বসে এক পাগলাটে ভাবুক আকাশে উড়ার মন্ত্র দিয়ে খ্রিষ্টান গীর্জাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল। সেই লিওনার্দো ভিঞ্চির কল্পনার সৃজনশীলতাই এখনকার হেলিকাপ্টার! সাগরতলের সাবমেরিন ছিল জুলস ভার্নের কাল্পনিক ভ্রান্তি নাকি সৃজনশীলতার উন্মদনা তা নিয়ে এখনও আড্ডা ঝড় ওঠে।
ভাবুক আর উদভ্রান্ত এই মানুষগুলোর কল্পনা বিলাসই কিন্তু সৃজনশীলতা। আপনি একে কিভাবে সঙ্গায়িত করবেন তা নির্ভর করছে আপনি সত্যজিৎ রায়ের জুতা পড়ে ভাববেন, নাকি ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ার বসে চিন্তা করবেন। কি বলেন? ……. নানান জায়গায় নানান ভাবনাই সৃজনশীলতা। সৃজনশীলতার সৃষ্টির নেই কোন প্রচলিত ফরমুলা, নেই কোন ল্যাবরোটরি পরিবেশ। শহরের ভীড়ের মধ্যেও তৈরি হতে পারে সৃজনশীল কোন কাজের বিকাশ, আবার তিব্বতের কোন পর্বতের ঠান্ডা নমনীয় কোলাহলবিহিন পরিবেশে হুট করেই পেয়ে যেতে পারেন দারুণ কোন আইডিয়া। এই আইডিয়া ভাবনার শেষ ফলাফলই কিন্তু সৃজনশীলতার মাপকাটি।
যা ভাবছেন, যা সবাই ভাবছে তা একটু অন্যভাবে ভাবনাই সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী আইডিয়া। নিজের অ্যাড্রোনালিন রাশকে আরেকটু গতিময় করে অন্যকে চমক দিলেই ক্রিয়েটিভ আইডিয়া পেয়ে যাবেন। স্টিভ জবস, বিল গেটস, স্টিফেন হকিং, অপরাহ উইনফ্রে, মেরিল স্ট্রিপ, মাদার তেরেসা-সবাই কিন্তু আমি আপনিই সাধারণ মানুষ। নিজের আগ্রহকেই অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে পেরেছেন বলেই তারা ক্রিয়েটিভ, তারা সৃজনশীল, তারা উদ্ভাবনী শক্তি নামে সুপার পাওয়ারের ধারক।
মানুষ ট্যালেন্ট নিয়ে জন্মায়, কিন্তু হার্ড ওয়ার্ক-ভিন্ন চিন্তা, থিংকিং আউট অব দ্য বক্স আর কঠোর পরিশ্রমই আপনাকে ওই মানুষগুলোর কাতারে নিয়ে যেতে পারে। তখন আপনি জানবেন না, আপনার সৃজনশীলতার মাত্রা কতটুকু, পৃথিবীই বলে দেবে। আপনি কি তৈরি সেই পরিশ্রমটুকু নিজের মধ্যে জাগানোর জন্য?

 

Comment

comments

Comments are closed.