কম্পিউটারের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার সাথে যে নামটি সবার আগে আসবে তা হল অ্যালান ট্যুরিং । তাকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জনক মনে করা হয়।ট্যুরিং ছিলেন একজন ইংরেজ গণিতবিদ, যুক্তিবিদ ও ক্রিপ্টোবিশেষজ্ঞ। কম্পিউটার বিজ্ঞানের সবচেয়ে মৌলিক দুটি ধারণার সাথে তার নাম জড়িত: টুরিং টেস্ট এবং টুরিং মেশিন। কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের প্রধান সম্মাননা তার নামে, “টুরিং পুরস্কার” প্রায়ই কম্পিউটার বিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ‘ট্যুরিং গভর্ণমেণ্ট কোড এণ্ড সাইফার স্কুল’ এ খণ্ডকালীন চাকরি করতেন, যা ছিল ব্রিটিশ সংকেত উন্মোচনকারী প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে সে ‘হাট-৮’ এর নেতৃত্ব দেন, যেটা জার্মান নৌ-বাহিনীর ধ্বংসের কারণ হয়। উইনস্টন চার্চিল এর মতে ট্যুরিং একাই জার্মান নাৎসি বাহিনীর বিপক্ষ যুদ্ধ জয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে। ট্যুরিং এর ভুমিকা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপট পরিবর্তন কররে দেয়। অসাধারণ বুদ্ধির অধিকারী ট্যুরিং মাত্র ১৬ বছর বয়সে আলবার্ট আইস্টাইনের কাজের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৫২ সালে ট্যুরিং জেলে যান সমকামীতার অভিযোগে। ১৯৫৪ সালে ৪২তম জন্মদিনের ১৬ দিন আগে তিনি সায়ানাইড গ্রহণ করে আত্মহত্যা করেন। ব্রিটিশ রানী ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যুর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।