YouTube ভিডিও বানাতে কি কি প্রয়োজন হবে

ইদানিং YouTube নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। অনেকই নিজেকে তুলে ধরছেন ইউটিউবে তবে যেহেতু এখানে ভিডিও একটি বিরাট বিষয় তাই ভিডিও এবং অডিও কোয়ালিটি মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। তাই এই ভিডিওটিতে বোঝানো হয়েছে আমাদের একটি কোয়ালিটি ভিডিও বানাতে কি কি লাগে এবং তার দাম কেমন হতে পারে।

https://www.youtube.com/watch?v=E5yI3E0K4GU&t=1s

নন লিনিয়ার (ডিজিটাল) এডিটিং

নতুন যুগে নতুন এক সম্ভাবনার তৈরি করেছে নন লিনিয়ার এডিটিং। নন লিনিয়ার এডিটিং করতে হয় কম্পিটারের সাহায্যে। এই পদ্ধতিতে কাজ করলে এডিটিং এর সময় যথেস্ট সূযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। এর ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারকে নিদিষ্টভাবে সেটআপ করতে হয়। নন লিনিয়ার এ কাজ করতে আপনার কম্পিউটারে থাকতে হবে ডিজিটাইজ কার্ড ও অরিজিনাল এডিটিং সফটওয়ার। এছাড়া পেশাদার ভিডিও মনিটর, ভিটিআর, এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটার। তখনি কোয়ালিটি নিশ্চিত করা সম্ভব।

টেপ বা কার্ড থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ফুটেজ হার্ড ডিস্কে নিয়ে এডিটিং সফ্টওয়্যারের মাধ্যমে কাজ করতে হবে। কম্পিউটারে ভিডিও এডিটি করা যথেষ্ট মজার একটি প্রক্রিয়া। এতে আপনি কাজ করার সময় যথেষ্ট সূবিধা পাবেন। অডিও, ভিডিও ইত্যাদি যথেষ্ট রকম ভাবে কাস্টমাইজ করার সুবিধা পাবেন। সেই সাথে ফিল্টার, ইফেক্ট ইত্যাদির ব্যবহার করতে পারবেন খুব সহজে।

nonlinear-editing-01এই পদ্ধতিতে এডিটিং করতে হলে এডিটরের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। বর্তমানে এই প্রক্রিয়া সর্বাধিক জনপ্রিয়। এবং এর কর্ম ক্ষেত্রও দিনে দিনে বাড়ছে। নন লিনিয়ার এডিটিংয়ের কিছু সফটওয়্যারের নাম নিচে দেওয়া হলো:

১. Adobe Premiere Pro
২. Final Cut Pro
৩. Edius
৪. Avid
৫. D P S Valocity

ভিডিও এডিটিং এর রকমভেদ ( টেকনোলজি )

ভিডিও এডিটিং করার অনেক রকম পদ্ধতি রয়েছে। এডিটিং যুগের শুরু থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে পদ্ধতি। যতই দিন গড়াচ্ছে আরও সহজ হয়ে আসছে এডিটিং টেকনিক্যাল পদ্ধতিগুলো। এই অংশে আমরা জানবো সেই পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে।

ফিল্ম এডিটিং :
প্রযুক্তিগত ভাবে একে ভিডিং এডিটিং বলা চলে না। একে সত্যিকার অর্থে ফিল্ম এডিটিং বলা হয়। ফিল্ম এডিটিং ছিল এডিটিং যুগের সূচনা। এই পদ্ধতিতে অনেকগুলো ফিল্মকে কেটে একসঙ্গে জোড়া দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিডিও তৈরি করা হয়। এজন্য একটি ফিল্ম কাটিং মেশিন এবং টেপ ব্যবহার করা হয়। টুকরো করা ফিল্মগুলোকে একটি মেশিনের মধ্যে একই সমান্তরালে রেখে জোড়া দেয়া হয়। আর এভাবেই শুরুটা হয়েছিল চলমান ছবির এডিটিং এর। এখন এই পদ্ধতির ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে।

লিনিয়ার এডিটিং :
লিনিয়ার এডিটিং হচ্ছে টেপ থেকে টেপের মধ্যে ভিডিও রেকর্ড করার একটি পদ্ধতি। কম্পিউটার আসার আগে এভাবেই ভিডিও এডিটিং করা হত। এটি একটি সময় সাপেক্ষ পদ্বতি ছিল এডিটরদের জন্য। কিন্তু বর্তমানে এখন কিছু কিছু সময় এর প্রয়োজন পড়ে থাকে।

ডিজিটাল/ নন-লিনিয়ার মেথড :
এই পদ্ধতিতে রেকর্ড করা ভিডিও ফুটেজকে কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভে ডিজিটাইজ করে নেয়া হয় এবং তারপর সফটওয়্যারের সাহায্যে তা এডিট করা হয়। এডিটং এর কাজ শেষ হবার পরে আবারও হার্ডড্রাইভ থেকে টেপের মধ্যে নেয়া হয়। তবে টেপ ছাড়াও আরো পদ্ধতিতে On air করার ব্যবস্থা রয়েছে।

লাইভ এডিটিং :
লাইভ এডিটিং সাধারণত খেলা অথবা কনসার্টের মত অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হয়। আমরা যে অনুষ্ঠানগুলোতে লেখা দেখতে পাই LIVE বা সরাসরি । লাইভ এডিটিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন স্থানে রাখা ক্যামেরা থেকে ভিডিও ভিসন মিক্সার এর সাহায্যে সরাসরি এডিট করা হয়। এবং সাথে সাথেই তা উপস্থাপিত হয় । একে অনেকে On-line ভিডিও এডিটিও বলে থাকে।

ভিডিও সম্পাদনার শাখা প্রশাখা (সম্পাদনা টেকনিক)

বর্তমানে ভিডিও সম্পাদকরা বিভিন্ন মাধ্যমে কাজ করে থাকেন তার মধ্যে চলচ্চিত্র, নাটক, তথ্য চিত্র, সংবাদ, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও অন্যতম। আমরা এই কাজগুলোর সম্পাদনার একেবারেই সাধারন ধারনা নিয়ে আলোচনা করবো। আস্তে আস্তে প্রতিটি বিষয়ে নিখুঁত বিশ্লেষণ করবো আশা করছি।

চলচ্চিত্র: সম্পূর্ন কাহিনীর উপর নির্ভর করবে আপনার সম্পাদনার ধরন। শুটিংএ অতিরিক্ত ছবি চিত্রায়ন হবে না। তাই পছন্দ করার জায়গাটা অনেক ছোট। যদি কাহিনী হয় দুঃখভারাক্রান্ত তাহলে আপনার কাজে সেটাই ফুটিয়ে তুলতে হবে। দর্শক যেন সিনেমার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতি মূহুর্ত কাহিনীর সঙ্গেই থাকেন। প্রতিটি বিষয়ে থাকতে হবে যুক্তি। তাই ধারাবাহিকতার দিকে নজর দিতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। চলচ্চিত্রের ব্যপ্তিকাল অনেক বেশি। তবে শিল্প ভাবনায় অনেক হিসেব-ই উল্টে যেতে পারে। প্রযুক্তি সাধারণ টেলিভিশন থেকে অনেকটাই আলাদা।

নাটক: অনেকটাই চলচ্চিত্রের মতন করে বিষয়টা ভেবে নিতে হবে। যুক্তি থাকতে হবে, দর্শক নিজ জীবনের ধারাবাহিকতার সাথে মেলাতে পারে। তাই ধারাবাহিকতার দিকে নজর দিতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। প্রতিটা চরিত্রের নিজ নিজ ধারাবাহিকতা পরখ করে কাজ করতে হবে। গল্পের গতির সাথেই সম্পাদনার গতিও পরির্বতন করতে হবে। সুখ-দুঃখ সব কিছুর সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হতে পারে মিউজিক ও লাইট। দর্শকের সামনে উপস্থাপন করতে হবে ঝকঝকে ছবি ও শব্দ।

তথ্যচিত্র: তথ্য চিত্র হতে পারে সভা সেমিনার বা কোনো বস্তু আবার কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির উপরে। কুখ্যাত ব্যক্তিরাও পিছিয়ে থাকবে না। যেমন: হিটলার। তথ্যচিত্রের মূল প্রাণ বলা যেতে পারে তথ্য ও ধারাবাহিকতাকে। থাকতে হবে ভিডিওতেও তথ্য। নির্দিষ্ট গতি নিয়েই এগিয়ে চলবে তবে মাঝে মাঝে গতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। শুরু থেকে শেষ বা শেষ থেকে শুরু যেদিক থেকেই হোক ধারাবাহিকতা জরুরি। ধারাভাষ্যের সাথে সাথে ভিডিওর মিল রেখে এগুতে হবে।
সম্পাদনা করতে করতে কিছু সময় গতানুগতিক মনে হতে পারে। সেটা দর্শকের কাছে বিরক্তিকর। গতানুগতিকতা এড়িয়ে চলতে হবে। ধারাভাষ্য, শব্দ, মিউজিক বা ভিডিওতে এমন কিছু থাকতে হবে যা দর্শককে ব্যাস্ত করে রাখবে। মিউজিকের তালে তালে শটের পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়।
ভিডিও এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে ধারাভাষ্য ছাড়াও দর্শক কিছুটা হলেও গল্প বুঝতে পারেন। ধরুন যে দর্শক কানে শোনেন না তিনিও যেন বুঝতে পারেন তথ্যচিত্র কিসের উপরে বা কি নিয়ে অথবা আমরা কি বোঝাতে চেয়েছি। আবার এমনও হতে পারে শব্দ ছাড়া শুধু শটের পরিবর্তন দেখে দর্শক আগ্রহ প্রকাশ করলেন এবং আমাদের অনুষ্ঠানটা দেখতে বসলেন।

সংবাদ: সংবাদ অনেকটাই তথ্যচিত্রের মতো করে সম্পাদনা করতে হবে। সংবাদ সম্পাদনায় সম্পাদকের সবচেয়ে বড় শত্রু হলো সময়। সময়ের আগে থাকতে হবে সম্পাদককে। যখন কোনো উপস্থাপক টিভি স্ক্রিনে বলেন “আমরা সংবাদটির জন্য অপেক্ষা করছি” সেটা সম্পাদক এবং সংবাদ সংশ্লিষ্ট পুরো দলটির জন্য অস্তিকর, ঠিক তেমন যদি কোনো ভুল তথ্য থাকে সংবাদটিতে।
এর ভিডিও কোয়ালিটি অতোটা ভাল নাও পাওয়া যেতে পারে । কারণ হঠাৎ করেই ক্যামেরায় সংবাদ ধারণ করতে হয়, কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছাড়া। যার কারণে শট অনেক সময় এলোমেলো হয়, ধরে রাখা যায় না ধারাবাহিকতা। তবু ধারাবাহিকতা ধরে রাখার চেষ্টা করতে হবে। এতো প্রতিকূলতা পেরিয়েও আমাদের চিত্রগ্রাহকরা যে ছবি আনেন সেই ভিডিও এবং ধারাভাষ্যের একটি তাল-মিল ঘটাতে হবে।

টেলিভিশন বিজ্ঞাপন: অন্যান্য টেলিভিশন অনুষ্ঠানের তুলনায় বিজ্ঞাপনের ব্যপ্তিকাল অনেক কম। খুব অল্প সময়ে তৈরী করতে হয় গল্প। তাই এর কোয়ালিটি নিয়েও ভাবতে হয় অনেক বেশি। প্রতিটা ফ্রেম জরুরি। মানুষ যত বেশি মনে রাখবে ততোই ভাল। দর্শককে যত বেশিবার মনে করিয়ে দিতে পারেন পণ্যের নাম ও শ্লোগান ততোটাই খুশি বিজ্ঞাপনদাতা। যতখানি ভাল ছবি ও শব্দের কোয়ালিটি দেয়া সম্ভব দিতে হবে। সেগুলো সাহায্য করবে ধরে রাখতে দর্শককে। নতুন ধরনের ভাবনা দর্শকের মন কাড়বে তাই কাজে থাকতে হবে নতুনত্ব।

মিউজিক ভিডিও: মিউজিকের তাল ও লয় ভাল করে ব্যবহার করতে হবে। প্রতিটি শট পরির্বতন হতে হবে তালে। গানের কথার সাথে সাথে মিলিয়ে গল্প তৈরী করতে হবে ভিডিওতে। মনে রাখতে হবে গানের সাথে দর্শকের আবেগ জড়িত। কিভাবে দর্শককে কাছে টানা যায় সেভাবেই শট পরির্বতন করতে হবে এবং ইফেক্ট দেয়া যেতে পারে। তবে অপ্রয়োজনে ইফেক্ট দিলে হিতে বিপরীত হতে পারে। যথারীতি ভাল ছবি ও শব্দের কোয়ালিটি নিশ্চিৎ করতে হবে।

চলচিত্র, তথ্যচিত্র, সংবাদ, মিউজিক ভিডিও বা নাটককে যদি আমরা ভিডিও সম্পাদনার আলাদা আলাদা প্রকার হিসেবে ভাবি, তাহলে একজন সম্পাদক একটি শাখা নিয়েই কাজ করবেন। কারন: এটি একটি শিল্প, একজন শিল্পী শিল্পের সব শাখাতেই ভাল দহ্মতা দেখাতে পারবেন সেটা সঠিক নয়। উদাহরন হিসেবে বলতে পারি উন্নত বিশ্বে কখনই একজন ভিডিও এডিটর সব শাখাতে কাজ করেন না। তার অতি ঘনিস্ট পরিচালকও তাকে দিয়ে সব শাখার কাজ করাবেন না। পরিচালক কাজের ধরন দেখে সম্পাদক নির্বাচন করবেন। তাতে কাজের সৌন্দর্য ও মান অক্ষুন্ন থাকবে।
আমরা ভিডিও সম্পাদনার প্রতিটি শাখায় যারা দীর্ঘদিন যাবত কাজ করছেন তাদের কাছ থেকে সম্পাদনার খুটিনাটি নিখুত ভাবে যেনে নেব। আমাদের এই চেষ্টায় যে কোন পেশাদার যদি তার লেখা দিয়ে সাহায্য করেন সেটা আমরা আনন্দের সাথে clickntech.com সংগ্রহ করবো। এবং আসা করছি নতুনদের সেটা কাজে আসবে। ধন্যবাদ …….

আলী আহমেদ নেমান ভিডিও এডিটর ইনচার্জ (দেশটিভি)

নির্মাণের ক্ষেত্রে লাইটিং ব্যাবস্থা

নাটক বা সিনেমায় একটি বাস্তব ঘটনাকে ফুটিয়ে তোলার জন্য গল্পের বিভিন্ন অংশকে একীভূত করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। প্রযুক্তিগত উপাদানগুলোর মধ্যে (সাউন্ড, লাইটিং এবং এডিটিং) লাইটিং একটি গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করে। দর্শকদের উপর ভিজুয়্যাল ইম্প্রেশন সম্পুর্নভাবে পরিপুর্ণ লাইটিং এর উপর নির্ভর করে। যথেষ্ঠ কাজে আসে লাইট, দর্শকের চোখ ধরে রাখতে পর্দায়।

যদিও বাজারে লাইটিংএর জন্য বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়, তবে কিছু সাধারণ ক্ষেত্রে বাজারে সচরাচর পাওয়া যায় এবং কম দামী জিনিষ থেকেই লাইটিং এর সরঞ্জাম বানানো যায়। সাধারণ যে কোন হার্ডওয়্যারের দোকান থেকে মেটাল রিফ্লেক্টরের লাইট কেনা যায়, যেগুলো রিপেয়ারের দোকানে ব্যবহার করা হয়। এগুলো ক্লিপে আটকিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা যায়।

সাদা আলো নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি হোয়াইট বোর্ড থাকতে হবে। ফিল্ম শুট করার সময় এটি বেশ গুরুত্বপুর্ন। এছাড়া কোন জিনিষের উপর আলো প্রতিফলিত করার জন্য এটি প্রতিফলক হিসেবেও ব্যবহার করা হয়।

লাইটিঙ্গের আরেকটি সরঞ্জাম হল ডিফিউজার। এটি এক ধরনের সাদা স্বচ্ছ এবং পাতলা পলিথিন। এর মূল কাজ হচ্ছে অন্যপাশ থেকে আসা আলোকে ছড়িয়ে দেয়া। এই প্রক্রিয়ার ফলে আলোর বিপরীত পাশে যে বস্তুটি থাকে তা বেশী উজ্জ্বল দেখায় না।

একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে, কোন লাইটিং সবসময় সাদা থাকেনা বরঞ্চ অন্য রঙ ধারন করে। ক্যামেরা ব্যবহার শুরু করলে এটা ভালোভাবে বোঝা যায়। যেমনঃ যদি একটি রুমের মধ্যে থাংস্টানের বাল্ব ব্যবহার করে শুট করা হয় তাহলে মুভি হলুদ রঙের হবে। আবার ফ্লুরসেন্টের লাইটে করলে সবুজ হবে।

প্রাকৃতিক আলোর দৃষ্টিনন্দন প্রভাব পেতে চাইলে সূর্যাস্তের সময় শুট করতে হবে। এই সময়ের আলো একটি সুন্দর কারামেল কালার দেয়। কিন্তু সুর্যাস্তের পুর্বে কেবল কয়েক মিনিট সময় পাওয়া যায় শট নেয়ার জন্য। বিশেষ করে বসন্ত এবং গ্রীষ্মের শেষে শুট করার জন্য সবচেয়ে উপযোগী সময়।

এছাড়া আপনি থ্রী পয়েন্ট লাইটিং স্টান্ডার্ডস শিখতে পারেন, এটি ক্যামেরা ম্যান এবং ফটোগ্রাফারদের কাছে সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে আলাদা আলাদা উদ্দেশ্যে তিনটি লাইট ব্যবহার করা হয়। প্রথম লাইটটি মূল বস্তুটিকে উজ্জ্বল করে, দ্বিতীয়টি প্রথম লাইটের ছায়া মুছে দেয় এবং তৃতীয়টি মূল বস্তুর একেবারে পিছনে বসানো হয় এর ত্রিমাতৃক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে। আপনার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার জন্য লাইটগুলোকে ঠিকভাবে অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। এই পদ্ধতিটি বিভিন্ন ভাবে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করা হয়। তাই আপনি চাইলে এটি অনুশীলন করে দেখতে পারেন এটি আপনার ক্ষেত্রে কেমন কাজে দেয়।

যারা এ বিষয়গুলোতে এক বারেই নতুন তাদের একটি অনুরোধ করছি। আজ থেকে টেলিভিশনের পর্দায় যাই দেখবেন সেটার আশে পাশে লাইট কোথায় আছে এবং কয়টা আছে ভাবতে চেষ্টা করবেন। আমাদের সাথে আলোচনার সময় আপনার কাজে দেবে। আমরা লাইটিংএর উপরে অনেক আলাপ নিয়ে আসবো, সাথেই থাকবেন।

 

 

Pre-production কি ?

মানুষ তার কাল্পনিক চিন্তাভাবনাকে ক্যামেরায় ধারণ করে তার একটি বাস্তবরুপদানের প্রয়াস চালায় এবং কারো প্রয়াস যখন সফল হয় তখন তা নাটক বা সিনেমা অথবা অন্যকোন রুপে দর্শকদের সামনে হাজির হয় ।আবার কোন কোন ক্ষেত্রে বাস্তব ঘটনাকে কাল্পনিক চরিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয় । আর এটি হচ্ছে মানুষের সৃজনশীল কাজের বহিপ্রকাশ । যে কোন কাজ করার পূর্বে সুন্দর এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা সে কাজকে অনেক বেশী সুন্দর ও গ্রহনযোগ্য করে তোলে । আর নাটক বা সিনেমা অথবা যে কোন vitualization মত creative কোন কাজ তাহলে তো পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই । সুন্দর একটি পরিকল্পনা আপনার সৃষ্টিকে অনেক বেশী প্রাণবন্ত ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে , যা আপনার দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ ঘটাবে । এবং আপনার কাজকে অন্য সবার কাজ থেকে ভিন্নতা এনে দেবে ।
আপনি ঠিক করলেন আপনি একটি Video Production নির্মাণ করবেন । সেটি হতে পারে নাটক, সিনেমা ,গান বা অন্য কিছু । তার জন্য আপনাকে কোন Production house এর সাথে চুক্তিবদ্ধ হতে হবে অথবা আপনার নিজেরেই যদি Production house থাকে তাহলে নিজেই তা produce করতে পারেন । তবে যে ভাবেই আপনি নির্মাণ করার কথা ভাবেন না কেন ,তার জন্য আপনাকে একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু এবং শেষ করতে হবে । আর এই পরিকল্পনাকে তিনটি ধাপে আলাদা আলাদা ভাবে সাজাতে হবে এবং প্রতিটা ধাপের কাজ প্রতি ধাপেই শেষ করতে হবে । Media Production এর এই তিনটি ধাপ হচ্ছে
1.Pre-producton
2.Production
3.Post Production
এই প্রত্যেকটি ধাপ যদি আপনি সফলভাবে শেষ করতে পারেন ,তাহলে কাজটা অনেক উপভোগ্য মনে হবে এবং আপনার Confidence বাড়িয়ে দিবে বহুগুন । একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, এই পর্যায়গুলো Production অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হবে । যেমন সিনেমার বেলায় পরিসরটা হবে অনেক বড় , আবার নাটকভেদে সেটা হবে আবার ভিন্নরকম, আর অন্যকোন Production বেলায় পরিকল্পনাটা একেবারে ভিন্ন । তবে ভাবনার জায়গায় কোন তফাৎ নেই বললেই চলে । আর ভাবনা ও জ্ঞান থাকলে আপনি যে কোন Project আপনি তৈরী করতে পারবেন।

নিলফার ইয়াছমিন

নিলুফার ইয়াছমিন

অডিও বা ভিডিও কোডেক

কেন ভিডিও বা অডিও ফাইল আমাদের কম্পিউটারে না চলা মানে কোডেক নাই। তখন আমরা কোডেক ইনসটল করি। কোডেকের দুটি কজের মধ্যে প্রথম যেটা সে করে তা হলো, নির্দিষ্ট ফাইলকে de-code করে তা আবার কম্পিউটারের নিজস্ব ভাষায় en-code করে। সুতরাং আমাদের কম্পিউটার তখন তা সহজে read করতে পারে এবং আমরা তা দেখতে পারি।
যে কোডেক ইঞ্জিন যত সহজে decode-encode ক্যলকুলেশন করতে পারে সেই পিসি ততই সহজে ভালো রিজুলেশন আউটপুট পাওয়া যাবে। মুলত কোডেক ডিজিটাল ডেটাকে এক ফরমেট থেকে অন্য ফরমেটে পরিবর্তন করে। কোডেক শব্দটি কোডার এবং ডিকোডার শব্দদুটির সমন্বয়ে গঠিত।
অন্যভাবে বললে, ভিডিও কোডেক হচ্ছে এমন একটি সফটওয়্যার, যা সাধারণত একটি কমপ্রেস করা ভিডিওকে ডিকমপ্রেস করে এবং একটি সাধারণ ডিজিটাল ভিডিওকে কমপ্রেস করে। অধিকাংশ ভিডিও কমপ্রেশনেই ডেটা লস হয়ে থাকে (লসি কমপ্রেশন)। ভিডিও কমপ্রেশনের একটি মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ব্যবহৃত ডেটার আকৃতি ছোট করা। সাধারণত ভিডিও ডেটার আকার (সাইজ) খুব বড় হয়ে থাকে এবং সেটাকে সরাসরি হার্ড ডিস্কে সংরক্ষণ করা বা নেটওয়ার্কে ট্রান্সফার করা খুব কষ্টসাধ্য। তাই ভিডিও কমপ্রেশনের মাধ্যমে ছোট করে ফেলা হয় এবং সেটাকে সংরক্ষণ করা হয়। ভিডিও কমপ্রেশনের ফলে ভিডিওর আকার ছোট হলেও ক্ষতিকর যেটা হয়, তা হলো ভিডিওর মান কমে যাওয়া। ভিডিওর আকার যত বেশী কমানো হয়, ভিডিওর মানও তত বেশী খারাপ হয়ে যায়। তাই কমপ্রেশন এমন ভাবে করতে হবে, যেন ফাইলের সাইজও ধারণক্ষমতার মধ্যে থাকে, এবং ভিডিওর মানও দর্শনযোগ্য হয়।
সাধারণত বিভিন্ন ভিডিও প্লেয়ারের সাথা কোডেক খাকে। অর্থাৎ যখন আমরা সেই প্লেয়ার ইন্সটল করি কখন তা আমাদের সিসটেম ফাইলে লোড হয়ে যায়। ভিডিও ল্যন কমপ্রেশন (ভিএলসি) সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয়ো প্লেয়ার এযাবৎ কালে। তাছারা এমকেভি প্লেয়ারের অডিও আউটপুটের সুনাম শোনা যায়।

কামরুল হাসান শিবলী,ভিডিও এডিটর, যমুনা টেলিভিশন

 

 

 

 

 

ভিডিও এডিটিং কি ? ( টেকনিক)

ভিডিও এডিটিং হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে একটি ভিডিও ফুটেজকে এডিটর পছন্দশীল ভাবে ঢেলে সাজিয়ে একটি পরিপূর্ণ গল্প ফুটিয়ে তোলে। যে কাজ গুলো করার নির্দেশনা আছে তা হল Correction, Organization, Modifications and Accurate এগুলো প্রডাকশনের সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন। এটি হচ্ছে একটি পোস্ট প্রোডাকশন কাজ। যেখানে ভিডিওর টাইটেল, গ্রাফিক্স, কালার কারেকশন, সাউন্ড মিক্সিং, ইফেক্ট সহ সব ধরণের কাজ করা হয়, বিশেষ করে নন লিনিয়ার বা কম্পিউটার এডিটিং এর জন্য। এই অংশে আমরা এর টেকনিক্যাল ব্যাপারে জানবো এবং বিস্তারিত ভাবে জানবো, কেন নন লিনিয়ার এডিটিংকে পোস্ট প্রোডাকশন কাজ বলা হয়।

নন লিনিয়ার এডিটিং এ একজন এডিটর নিম্নলিখিত কাজগুলো করে থাকেন:
শুটিং এর সময় যে ফুটেজ নেয়া হয় তাতে এমন কোন গল্প তৈারী হয় না। যেট এডিট প্যানেলে সম্ভব। এবং আনুসাংগিক আরো অনেক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রডাকশনটি দর্শক প্রিয় করে তোলা।

অপ্রয়োজনীয় ফুটেজ বাদ দেয়া :
ভিডিও এডিটিং এর একটি অপরিহার্য কাজ হচ্ছে ভিডিও ফুটেজের অপ্রয়োজনীয় অংশগুলোকে বাদ দেয়া। ভিডিওতে অনেক ধরণের শট থাকতে পারে যা অপ্রয়োজনীয়, তাই সেগুলো বাদ দিয়ে এডিটিং এর কাজটি আরও সহজ ও সুন্দর করা সম্ভব।

ভাল ফুটেজগুলোকে আলাদা করা :
ভিডিও শুট করার পর ভাল এবং প্রয়োজনীয় ফুটেজগুলোকে আলাদা করে রাখা। তার জন্য আপনাকে আগেই ভেবে নিতে হবে আপনি গল্পের সাথে মিলিয়ে কি কি শট ব্যাবহার করবেন। এরপর ফুটেজগুলোকে প্রয়োজন অনুসারে এডিটিং এর জন্য সাজিয়ে রাখা হয়।

গ্রাফিক্স ও মিউজিক যোগ করা :
ভিডিও এডিটিং এর এই অংশটি ভিডিওতে এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। গ্রাফিক্স ও মিউজিক যোগ করলে ভিডিওকে আরও বেশি আকর্ষনীয় করে তোলা যায় । যার ফলে দর্শক আকৃস্ট হয়।

ভিজুয়্যাল ইফেক্ট ও সাউন্ড ইফেক্ট:
একজন ভালো ভিডিও এডিটর ফুটেজে কি ধরণের ইফেক্ট ব্যাবহার করা উচিত সেই সর্ম্পকে জানে,বোঝে। ভিডিওর সঙ্গে সাউন্ড ইফেক্ট এবং বিভিন্ন ভিজুয়াল ইফেক্ট ব্যাবহার করে ভিডিওকে আরও বেশি প্রানবন্ত এবং আকর্ষনীয় করে তোলা হয়।

ভিডিও দ্বারা একটি নিদিষ্ট ঘটনা বোঝানো :
একটি ভিডিও নিদিষ্ট ঘটনার বর্ণনা করে কোন ধরনের ধারাভাষ্য বা লেখা ছাড়াই। ভিডিও এডিটর তার দক্ষতার সাহায্যে সেই তথ্য একজন দর্শককে পরিপূর্ণভাবে বোঝাতে পারেন। বিশেষ করে যারা শব্দ শোনে না।

 

লিনিয়ার ভিডিও এডিটিং (টেপ টু টেপ)

লিনিয়ার এডিটিং এর জন্য কমপক্ষে দুইটি VTR প্রয়োজন তবে দুই এর অধিকও হতে পারে । যদি দুইটি VTR এ হয় তাহলে একটিতে থাকবে মূল ভিডিও। এবং অন্য আরেকটিতে একটি খালি টেপ থাকবে। এডিটর তার সিকোয়েন্স অনুসারে খালি টেপটিতে ভিডিও রেকর্ড করবেন। যেই টেপে মূল ভিডিও থাকে তাকে বলা হয় Source এবং অন্যটিকে বলা হয় রেকর্ডার। এভাবেই বিভিন্ন টেপ থেকে র্নিদিস্ট ভিডিওগুলি সম্পাদক রেকর্ডারে রেকর্ডার করবেন। লিনিয়ার ভিডিও এডিটিং এর পদ্ধতিটি অনেকটা এরকম ।

* দুইটি VTR (ভিডিও টেপ রেকর্ডার ) যেখানে AV আউটপুট থাকবে। যদি AV আউটপুট না থাকে সেক্ষেত্রে RF বা এরিয়াল আউটপুট ব্যাবহার করতে হবে।

* দুইটি মনিটর প্রয়োজন এই এডিটিং এর জন্য। যদি ভিডিও মনিটর না থাকে সেক্ষেত্রে টেলিভিশন মনিটর ব্যাবহার করা যেতে পারে তবে সেটা পেশাদ্বার ব্যবহারের জন্য নয়।

* বিভিন্ন কানেকশন কেবল।

* দুইটি টেপ। একটিতে ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ থাকবে এবং আরেকটি খালি টেপ, যেখানে রেকর্ড করা হবে।

নন লিনিয়ার বা কম্পিউটার এডিটিং আসার আগে লিনিয়ার এডিটিং খুবই জনপ্রিয় ছিল। বর্তমানে লিনিয়ার ভিডিও এডিটিং প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এখন অধিকাংশ প্রজেক্টে কাজ করার জন্য নন লিনিয়ার এডিটিং কে প্রাধান্য দেয়া হয়। কারণ তাতে কাজ করার সুবিধা অনেক বেশি । লিনিয়ার এডিটিং পদ্ধতির জন্য কিছুটা প্রশিক্ষণ প্রয়োজন রয়েছে। তবে মাথায় রাখতে হবে এর কর্মক্ষেত্র দিনে দিনে কমে আসছে।

সম্পাদনা (দৃষ্টিকোন – ভিডিও সম্পাদনা )

ভিডিও সম্পাদনা একটি দৃষ্টি সংক্রান্ত শিল্প। অনেকটা ফুলের তোড়া বানানোর মতো। বেছে নেয়া বিভিন্ন ধরনের ফুল, চমৎকার কিছু পাতা, একটি ঝকঝকে ঝুড়ি তারপর এসবগুলোর নিজ নিজ সৌন্দর্য্য ধরে রেখে আরো সুন্দর করে তোলা। যদিও আমরা কখনোই ভাবিনা কে ফুলের তোড়াটা বানিয়েছে কিন্তু তোড়াটা ভাল হয়েছে সেটা বলি।

চলচ্চিত্র, নাটক, মিউজিক ভিডিও, তথ্য চিত্র, সংবাদ, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রে ভিডিও সম্পাদনার প্রয়োজন পড়ে থাকে। তবে এর বহুবিধ ব্যবহারের প্রসার ঘটছে দিন দিন। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে এটি হয়েছে অনেকটা সহজ। তবে প্রযুক্তি বলুন আর শিল্পই বলুন দর্শক যদি না বোঝেন আর টেলিভিশনের পর্দায় যদি দর্শকের চোখ বেঁধে রাখা না যায়, তবে সব কষ্টই বৃথা। আমরা যে লক্ষ্য নিয়েই প্রোডাকশন বানাই না কেন, সবকিছু শেষ মূল্যায়নের দায়িত্ব দর্শকের। কারন তারা যথেষ্ট বোদ্ধা। যদিও তারা পরিচালক নয়, চিত্রগ্রাহক নয় আবার সম্পাদনাও বোঝে না কিন্তু দুই লাইনেই বলে দেবে “ভাল হয়েছে” বা “এটা কিছু হলো?”

এবার চলুন ভিডিও সম্পাদনার প্রাণকোষ নিয়ে আলোচনা শুরু করি। যুক্তি, বাস্তবতা, ধারাবাহিকতা এবং শিল্প হচ্ছে এর প্রধান অঙ্গ। যদিও বিভিন্ন সময় সম্পাদনার ধরন অনেকটা পাল্টে যায়। কিছু ক্ষেত্রে যুক্তির প্রয়োজন হয় আবার কিছু ক্ষেত্রে যুক্তিকে দূরে রাখাই ভালো। ধারাবাহিকতা ছাড়া কাহিনী হবে এলোমেলো, আবার বাস্তবতা ছাড়া বিশ্বাসযোগ্যতা পাওয়া যাবে না। সব মাথায় রেখেই কাজ করতে হবে।

এগুলো যে শুধু সম্পাদকেরই দায়িত্ব, তা নয়। পরিচালকই প্রধান, তিনি একটা স্বপ্নের জন্ম দেবেন এবং সম্পূর্ণ বিষয়টা একে একে গুছিয়ে নিয়ে আসবেন। নাট্যকার চিত্রনাট্য তৈরি করবেন দর্শকের চাহিদার কথা ভেবে। শিল্পী চরিত্রকে ধারন করবে গল্পের খুব ভেতরে ডুকে। চিত্রগ্রাহক ছবিগুলো আলো দিয়ে আঁকবেন। এর সঙ্গে লাইট, সাউন্ড, মেকাপ এক কথায় দলের প্রতিটা মানুষ নিজ নিজ কাজকে শিল্পে রূপ দেবেন। শিল্প নির্দেশক অগোছালো শিল্পগুলোকে নিখুঁত করে তুলবেন। সঙ্গীত পরিচালক গল্পের ধরন বুঝে সঙ্গীত নির্বাচন করবেন। সম্পাদক ছবিগুলো মালার মত করে গাঁথবেন, আলো ছায়ায় দেবেন প্রান, শব্দগুলোকে করবেন শ্রতিমধুর, এভাবেই পরিচালকের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপান্তর করবেন। সফল হবে পুরো দলের পরিশ্রম।

ভিডিও সম্পাদনা প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ঘটছে দিনে দিনে। নতুন প্রযুক্তি প্রোডাকশনের একটি অংশের ব্যাপক মান উন্নয়ন ঘটাবে। তবে যদি আমরা ভাবি শুধু প্রযুক্তি ও এডিটিং সফটওয়্যার বা ভাল কোন ক্যামেরা জানলেই প্রোডাকশন ভাল হবে, সেটা ভুল। মূল হচ্ছে গল্প ও পরিচালক সহ পুর দলটির চেষ্টা, ভাবনা ও মেধা । গল্পের চরিত্রগুলো দর্শককে এতোটাই প্রভাবিত করবে যে, দর্শকের বাস্তব জীবনের একটি অংশ হয়ে দাঁড়াবে চরিত্রগুলো। তখন ফেলুদার পাশে বসে দর্শক চা খাবেন। ঢাকার রাস্তায় বাকের ভাইয়ের জন্য আবারও মিছিল হবে।

অনেক সময় পরিচালকের সঙ্গে সম্পাদকের মতের মিল নাও হতে পারে। তখন সম্পাদকের দায়িত্ব তার যুক্তি তুলে ধরা। যদি তার যুক্তিতে জোর থাকে পরিচালক তাতে মত দেবেন। কারণ একটি প্রোডাকশন পরিচালকের সন্তানের মতো, সে নিশ্চয়ই তার সন্তানের ক্ষতি চাইবেন না। আবার বিষয়টা উল্টাও ঘটতে পারে সেক্ষেত্রেও সম্পর্কের বাঁধনটা একই রকম।

একজন সম্পাদকের থাকতে হবে অফুরন্ত ধৈর্য, হাজারো ভুলকে সংশোধন করার। বাড়াতে হবে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা। খুঁজে বের করতে হবে খুঁটিনাটি। নিজের কাজকে ভালবাসতে হবে এবং উপভোগ করতে হবে। দেশি-বিদেশি সিনেমা, নাটক এবং বিভিন্ন টেলিভিশন দেখতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সাথে থাকতে হবে। আলোচনা করতে হবে সেগুলো নিয়ে।

এই লেখাটিতে আমি কোন টেকনিক্যাল ভাষা ব্যবহার করছি না। চাচ্ছি সর্ব-সাধারনের গ্রহণযোগ্যতা। তবে ধীরে ধীরে আমরা সব কিছু নিয়েই অলোচনা করবো। আমার কর্মজীবনে আমি বেশ কিছু মানুষ পেয়েছিলাম যারা আমাকে দীক্ষা দিয়েছেন নিঃস্বার্থ ভাবে। সেই দীক্ষার সাথে কিছু বই আর ইন্টারনেট থেকেও শিখেছি। সব মনে রাখতে পারিনি। এতো কিছু ভুলে যাবার পর যা মনে আছে তাই আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আমার এই লেখার সাথে আপনাদের ভাবনা এবং লেখা সংযুক্ত করে clickntech.com কে আরো সমৃদ্ধ করার অনুরোধ জানাচ্ছি।

আলী আহমেদ নেমান ভিডিও এডিটর ইনচার্জ (দেশটিভি)

https://www.youtube.com/watch?v=wcFTE1qXp04