মডিউলেশন (Modulation)

এপর্যায়ে আমরা মডিউলেশন (Modulation) কি,বা কাকে বলে, Modulation এর শ্রেণী বিভাগ Modulation Technique, কেন Modulation ব্যবহার করা হয় ইত্যাদি সম্পর্কে সামান্য ধারনা নিয়ে আলোচনা করবো। Modulation হচ্ছে দুজন ব্যাক্তি যখন কাছাকাছি কোন স্থান থেকে কথোপকথন বা মত বিনিময় বা তথ্যের আদান প্রদান করে তখন কোন Problem হয় না। আমরা কোন তথ্য বা তত্ব Data কে Signal বলি। এই Signal কে দূরবর্তী কোন স্থান থেক অক্ষত অবস্থায় আদান প্রদান করার জন্য Modulation অত্যাবশ্যক, এপর্যায়ে বলে রাখা ভালো যে, Signal এবং Carrier কি?

Modulation 1
Signal : signal হলো আমাদের ব্যাক্তিগত তথ্য বা তত্ব (Audio, Video, Text, Voice etc) যা আমাদের কাম্য।
Carrier: Carrier যার শাব্দিক অর্থ বাহক অর্থাৎ signal যার মাধ্যমে পরিবাহিত হবে তাতে আমরা Carrier বলি। এটি কোন একটি আলাদা Frequency যা Carrier নামে পরিচিত।

Modulation2

Modulation:
Modulation হচ্ছে Signal এবং Carrier এর mixing process বা সংমিশ্রণ পদ্ধতি বা প্রেরণ কৃত signal এর বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে। নিম্নে Modulation এর technique প্রদর্শন করা হলো।

Modulation 3

যেহেতু Modulation ব্যবহার করা হয়,Signal Transmission এর ক্ষেত্রে সেহেতু একে Receiving এর Demodulation Technique ব্যবহার করা হয়।

Demodulation:
আগত Signal কে পূর্ণ উদ্ধার এর জন্য এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় মূলত Demodulation হলো Modulation বিপরীত Processes । নিম্মে এর একটি Block Diagram দেখানো হলো।

Modulation 4

এখন আমরা Signal কে Demodulation করার ফলে Transmitted Signal কে হুবহু পূর্ণউদ্ধার এবং উপস্থাপনা করা সক্ষম হই। এক্ষেত্রে আগত Modulated Signal থেকে আমরা Carrier কে বাদ দেই এবং Filtering করে Amplify করি। পরে কাঙ্খিত মানে পরিণত হয়। এখন Modulation এর শ্রেণী বিভাগ জানবো

Modulation: মূলত দুই প্রকার
1. Analog Modulation.
2. Digital Modulation

Modulation 5

 

আবিদুর রহমান এসিসট্যান্ট ইন্জিনিয়ার(দেশ টিভি)
আবিদুর রহমান এসিসট্যান্ট ইন্জিনিয়ার(দেশ টিভি)

টেলিভিশনে সংবাদ প্রযোজনা ও প্রযোজকের দায়িত্ব পর্ব- ০২

প্রযোজকের দায়িত্ব
সংবাদ প্রযোজকরা অত্যন্ত সংগঠিত এবং ছোট থেকে বড় প্রতিটি বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তারা চাপের মধ্যে ভালো করেন এবং সংবাদ সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন। প্রযোজক সাধারনত সংবাদ লেখায় অসাধারন হবেন, বিশেষ করে চাপের মুখে এবং তাৎক্ষনিকভাবে খুব স্বল্প সময়ের নোটিশে প্রতিবেদন তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

সংবাদ প্রযোজক দায়িত্ব অনেকদূর বিস্তৃত, এবং এর কোনটিই অন্যটির চাইতে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। যেমন:

• প্রযোজক উপস্থাপকের জন্য স্ক্রিপ্ট লিখে দেন, যদিও কোখাও কোখাও একাজটি উপস্থাপক নিজেই এ কাজটি করে থাকেন।
• নিউজ শো সম্পূর্ণ গুছানোর কাজটি করে থাকেন, যাতে পর পর সংবাদগুলি সঠিক অবস্থানে ঠিক থাকে।
• সম্ভাব্য ক্ষেত্রে প্রতিবেদনের শিরোনাম গুলো ঠিক করে নেন।
• নতুন কোন গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ আছে কিনা তার জন্য প্রযোজক বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার দেয়া সংবাদগুলো লক্ষ্য রাখেন।
• প্রতিবেদনের ভিডিও সম্পাদনা ঠিক করে দেন।
• সংবাদের সময় নিয়ন্ত্রণ করেন যাতে তা সঠিক সময়ে শুরু এবং শেষ করা যায়; প্রয়োজনীয় বিজ্ঞাপন বিরতি ঠিক করেন।
• উপস্থাপক,স্টুডিও ক্রু এবং ক্যামেরা পারসনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন এবং নির্দেশনা দেন।
• যখন কোন ঘটনা ঘটতে থাকে তখন আউটডোরে থাকা রিপোর্টার এবং ক্রু-দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন।
• নিউজ শো-এর আগে পরে নানা টিজার, হেডলাইন লিখেন ও তৈরির নির্দেশনা দেন।
• সরাসরি সম্প্রচারে থাকা প্রযোজক ও রিপোর্টারের সাথে কাজের সমন্বয় করে থাকেন।

উপরের আলোচনা থেকে বুঝতে পারছি আদর্শগতভাবে বা বলা যায় বিশ্বজুড়ে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে একজন সংবাদ প্রযোজক কিভাবে কাজ করেন বা সংবাদ প্রযোজকের কাজ কি। বলে রাখা ভালো আমাদের দেশের কোন চ্যানেলই এই কর্ম পদ্ধতি অনুযায়ী কাজ করা হয় না। এর রয়েছে নানা কারন এবং ইতিহাস যা আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়।
এবার আসা যাক সংবাদ প্রযোজনা বিভাগের কাজে। পূর্বে যদিও প্রযোজকদের কাজ সম্পর্কে একটি আদর্শ ধারনা দেয়া হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবেও অনুসৃত হয়ে আসছে। বাংলাদেশে প্রযোজনা বিভাগের কর্মীরা মূলত সংবাদের কারিগরি দিক বিশেষত নিয়ন্ত্রণ কক্ষ পরিচালনা, এবং অডিও-ভিডিও সম্পাদনার মান নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। অবশ্য অভিজ্ঞতার বিচারে সিনিয়র প্রযোজকরা সংবাদের স্ক্রিপ্টসহ নানা বিষয়ে নিজেদের মতামত দিয়ে থাকেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তও নেন।
টেলিভিশনে প্রযোজকদের কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান হচ্ছে সংবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ বা PCR (Presentation/Production Control Room)। মূলত স্টুডিওতে ক্যামেরার মাধ্যমে উপস্থাপক এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতির মাধ্যমে সংবাদে ভিডিও প্রতিবেদন সংযোজনে নির্দেশনা, সংবাদে প্রতিবেদন সমূহের ক্রম ঠিক রাখা এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কর্মরত অন্যান্য কর্মীদের তাৎক্ষনিক নির্দেশনা প্রদান এসবই হচ্ছে সংবাদ প্রযোজকের কাজ। আর এই কাজগুলো করার পূর্বেই প্রযোজক বার্তাকক্ষে থেকে পুরো সংবাদ বুলেটিনের প্রতিবেদন ও অন্যান্য অলংকারিক বিষয়গুলী গুছিয়ে নেন, সম্ভাব্য সবক্ষেত্রে স্ক্রিপ্ট দেখে কোন ভুল মনে হলে সংশোধন করার জন্য বার্তা সম্পাদক বা সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন বা কাজটি করিয়ে নেন।

প্রডাকশন দৃষ্টিকোণ থেকে মোটামুটি নব্বই’র দশক পর্যন্ত বাংলাদেশে (মূলত বিটিভি) সংবাদ সম্প্রচারের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যেমন-
• কারিগরি সিমাবদ্ধতার কারনে সংবাদে শুধু উপস্থাপক এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের ছবিই শুধু দেখানো সম্ভব হত।
• প্রথমদিকে রিপোর্টারের ভাষায় তার রিপোর্ট বর্ণনা করা সম্ভব হত না।
• সংবাদ পুরোটাই উপস্থাপকের মাধ্যমে পাঠ করা হতো এবং তার কথার সাথে কিছু কিছু ছবি দেয়া সম্ভব হত।
• তখন স্টুডিও’র বাইরে বা আউটডোরে দৃশ্যধারন অনেক ব্যয়বহুল এবং ঝামেলাপূর্ণ ছিল, তাই সংবাদ থাকলেও অনেক সময়ই ছবি থাকতো না।
• সংবাদে গ্রাফিক্সের ব্যবহারও ছিল না বললেই চলে।
• উপস্থাপককে প্রায় পুরো সংবাদ চলাকালীন একটি ক্যামেরায় একই ফ্রেমে রাখা হতো।
• লাইভ বা সরাসরি কোন স্থান থেকে সম্প্রচার বা রিপোর্টারের মাধ্যমে ঘটনার কাছে যাওয়া প্রায় অসম্ভবই ছিল। এখন যা হরহামেশাই বিভিন্ন চ্যানেলে হতে দেখা যায়।
বর্তমান সময়ে এসে সংবাদ পরিবেশনায় এসেছে অনেক বৈচিত্র, আছে চ্যালেঞ্জ, শুধুমাত্র উপস্থাপকের পারফরম্যান্সের উপর নয় বরং সংবাদের ক্রমে, তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে দর্শকের সংযোগ স্থাপন এবং পরিবেশনায় নানামুখী নিত্য নতুন চিত্তাকর্ষক বিষয়াদি যুক্ত করে সংবাদ হয়ে উঠেছে এক উপভোগ্য আয়োজনে। ফলে দর্শক এখন অনেক বেশি সংবাদমুখী হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবাদ প্রযোজকদের সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে হতে হয় চৌকষ। দিনের ঘটনার প্রতি প্রযোজকের থাকতে হবে তীক্ষ্ণ মনযোগ। সময়ের প্রেক্ষিতে টেলিভিশনের পর্দায় যেসব ছবি দেখা যায় তাতে যেমন এসেছে নানা বৈচিত্র্য, তেমনি কোন দৃশ্য বা ছবি সব ধরনের দর্শকের জন্য নয়, কোন বিষয় টিভি পর্দায় প্রদর্শন যোগ্য আর কোনটি যোগ্য নয়, কোনটি শিশুদের জন্য নয়, এসব নানা বিষয়ে এসেছে বাধ্যবাধকতা, এথিকস্ ইত্যাদি নানা বিষয়। টেলিভিশনের একজন প্রযোজকের সাধারনভাবে যেসব দায়িত্ব পালন করতে হয় তার সাথে এখন এসব বিষয়ও যুক্ত হয়েছে। ফলে কাজের প্রয়োজনে প্রযোজককে হয়ে হয় একজন পরিচালক, একজন সম্পাদক এবং সর্বোপরি একজন সাংবাদিক।
পাশাপাশি এখন সময়টাই এমন যে, সংবাদ আর পরের দিনের প্রত্রিকার পাতার বিষয় নয়, এখন সময় তাৎক্ষনিক সংবাদের, মানুষ এখন ঘটনার সময়ই জানতে চায় কি ঘটছে। তাই সংবাদে লাইভ বা সরাসরি ঘটনাস্থল থেকে সংবাদ পরিবেশন হয়ে উঠেছে একটি অত্যাবশ্যকীয় এবং চ্যালেঞ্জিং। এমনও দেখা যায়, এখন প্রতিটি সংবাদ বুলেটিনে পরপর একাধিক বা পাঁচ-ছয়টিও লাইভ বা সরাসরি সম্প্রচার থাকে। এতে অবশ্য আধুনিক প্রযুক্তির অবদান অনস্বিকার্য। একটি সংবাদ বুলেটিনে পরপর বেশ কয়টি লাইভ ইভেন্ট করতে প্রযোজকদের প্রয়োজন হয় বিশেষ দক্ষতার। একজন বুলেটিন প্রযোজকের আদর্শ দায়িত্ব ও কর্তব্যগুলো আমরা পূর্বেই আলোচনা করেছি। এবার দেখে নেই সময়ের প্রেক্ষিতে এখন একজন প্রযোজককে আরও কোন কোন বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হয়।
• প্রযোজক বুলেটিনের পূর্বেই জেনে নিবেন কোথায় কি ঘটছে, এবং সংবাদের কোন অবস্থানে লাইভ ইভেন্ট অন এয়ারে যাবে।
• সাথে সাথে প্রস্তুতি নিতে হবে এর সাথে প্রয়োজনীয় গ্রাফিক্স, পূর্বের রেফারেন্স ছবি থাকলে তা প্রস্তুত রাখা পাশাপাশি পরিবেশনের জন্য।
• প্রযোজককে আরেকটি বিষয়ে বেশ গুরুত্ব দিতে হয়, তা হচ্ছে যোগাযোগ। এই যোগাযোগ স্বতস্ফুর্ত এবং আন্তরিক হতে হবে ঘটনাস্থলে অবস্থানরত রিপোর্টার, ক্যামেরা পারসন, টেকনিশিয়ান থেকে শুরু করে নিজের সহকারী প্রযোজক, বার্তা সম্পাদক, এ্যাসাইনমেন্ট ডেস্ক, উপস্থাপক এবং সবশেষে কন্ট্রোলরুমে যারা বুলিটিন পরিচালনায় কাজ করছে এমন প্রতিটি ব্যাক্তির সাথে।
• বুলেটিন শুরুর আগেই সবাইকে প্রযোজক কি করতে চাইছেন, কিভাবে করবেন, কোন ঘটনার পর কোন ঘটনা ইত্যাদি বিষয় ভালোভাবে এবং সহজে ব্যাখ্যা করে দিবেন।
• সংবাদ পরিচালনাকালীন প্রযোজককে থাকতে হবে শান্ত, প্রতিটি কমান্ড দিবেন পরিষ্কারভাবে এবং উচ্চস্বরে যাতে কন্ট্রোলরুমের সকলে তা পরিষ্কারভাবে শুনতে পায়।
• বলার অপেক্ষা রাখে না স্টুডিও সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিষয়, যেমন- ক্যামেরা, লাইট, কন্ট্রোলরুমের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কার কি দায়িত্ব এসব বিষয়ে প্রযোজকের থাকতে হবে স্বচ্ছ ধারনা, তবেই তিনি সফলভাবে সবকিছু পরিচালনা করতে পারবেন।
• সর্বোপরি একজন প্রযোজক হবেন একটি টিভি স্টেশনের প্রতিটি বিভাগের কাজের সাথে সমন্বয়কারী একজন ব্যাক্তি এবং থাকতে হবে সবার সাথে সুসম্পর্ক।
টেলিভিশনে ভাল মানের প্রডাকশন দিতে হলে, যাকে বলে সংবাদ বুলেটিন বা অনুষ্ঠানের মান বাড়াতে হলে তার প্রযোজকদের মানের উন্নয়নের কোন বিকল্প নাই। আর এটি করতে হলে ব্যাক্তি পর্যায়ে যারা প্রযোজক হিসেবে নিজেদের ক্যারিয়ার গড়তে চান তাদের অবশ্যই নিজের কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যা পূর্বেই আলোচনা করেছি। পাশাপাশি টেলিভিশন স্টেশনগুলোর উচ্চ পর্যায়ের বা সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। প্রযোজকের মান উন্নয়ন যেখানে টিভি পর্দার কাজের মান বৃদ্ধি করবে সেখানে তাদের মান উন্নয়নে কর্তৃপক্ষও নিতে পারে নানা পদক্ষেপ। সময় সময় বিভিন্ন ট্রেনিং, ওয়ার্কশপ, দেশের বাইরের অভিজ্ঞ প্রযোজকদের সাথে মত বিনিময় বা ওয়ার্কশপ, প্রয়োজনে দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা, এসবই কর্তৃপক্ষ করতে পারে।
টেলিভিশন প্রযোজক, বাংলাদেশে এই পেশা যেমন নতুন, তেমনি আশার কথা এই যে এদেশের প্রযোজকরা তাদের কাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আধুনিক সময় এবং প্রযু্ক্তির নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে যেভাবে তাদের কাজ করে যাচ্ছে, তা কোন অংশেই খাটো করে দেখার নয়। আধুনিক বিশ্বের প্রযোজকদের কাজের ধরন এবং ধারনার সাথে আরও পরিচয় ঘটলে তারা গুনে মানে আরও ভালো কাজ করতে পারবে এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

Iqbal Ahmed Khokan

ইকবাল আহমেদ খোকন
নির্বাহী প্রযোজক, যমুনা টিভি

টেলিভিশনে সংবাদ প্রযোজনা ও প্রযোজকের দায়িত্ব পর্ব- ০১

প্রযোজনা বিভাগ, টেলিভিশনে যা প্রডাকশন বিভাগ নামেই পরিচিত।
প্রডাকশন কথাটা শুনলেই সবার মানসপটে যে ছবি ফুটে ওঠে তা মূলত কোন শিল্প-কারখানায় পণ্য উৎপাদন-কে বূঝায়। “প্রডাকশন” ভালো বলতে উৎপাদনের মান ও পরিমান ভাল এই-ই আমরা বুঝি। কিন্তু প্রাথমিকভাবে টেলিভিশনে প্রডাকশন বলতে তা হলে আমরা কি বুঝবো ?

মজার বিষয় হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি বলতে যে শিল্প বুঝায় সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে টেলিভিশন একটি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া আর কিছুই নয়। এখানেও রয়েছে পণ্য উৎপাদন, বিপণণ বা বাজারজাত করণের মতো বাণিজ্যিক সব কর্মকান্ড। মূল প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে তাই এ বিষয়গুলো সম্পর্কে খানিকটা ধারণা দিতে চাই। টেলিভিশনে পণ্য হচ্ছে তার অনুষ্ঠান, সংবাদ কিংবা হালে টিভি’র পর্দা জুড়ে থাকা নানা ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচারের কৌশল বা টিভি পর্দার স্হান, সময় ইত্যাদিকেই বুঝায়। টেলিভিশনের বিপনণ বা মার্কেটিং বিভাগের কর্মীরা এই অনুষ্ঠান, সংবাদ বা অন্যান্য বিজ্ঞাপন প্রচার উপযোগী বিষয় গুলোকে স্পন্সর বা যারা বিজ্ঞাপন দেন এমন বাণিজ্যিক বা প্রতিষ্ঠান সমূহের কাছে নিয়ে যান এবং বিজ্ঞাপন সংগ্রহ করেন। মূলত সাদা কথায় এটাই হচ্ছে টেলিভিশনের পণ্য কেনা-বেচার প্রক্রিয়া।
এতো গেল বিপনণ বা মার্কেটিং-এর কাজ। পাশাপাশি বাজারজাত করণ হচ্ছে তাই-ই যা আমরা টিভি’র পর্দায় দেখি এবং ঘরে ঘরে টিভি’র পর্দা পর্যন্ত নিজ নিজ চ্যানেলকে পৌঁছে দিতে কাজ করে টেলিভিশনের ডিস্ট্রিবিউশন বিভাগের কর্মীরা। এরা মূলত ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের সাথে মিলে এ কাজটি করে থাকে। আমাদের আলোচনায় আমরা সে বিষয়ের গভীরে আর যাব না, তা না হলে আলোচনার কলেবর বেড়ে যাবে এবং অপ্রসঙ্গিকও হবে।

টেলিভিশন সংবাদ বিভাগে মূলত কাজ করে রিপোর্টার, বার্তা সম্পাদক অর্থাৎ যারা সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি এবং তা সম্পাদনা করে সম্প্রচার উপযোগী করার কাজটি সরাসরি করে থাকেন। এরাই মূলত সাংবাদিক। সংবাদ বিভাগেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-বিভাগ হচ্ছে ‘প্রডাকশন’।

এবার আসা যাক মূল প্রসঙ্গে, অর্থাৎ প্রডাকশন বা উৎপাদন বিভাগের আলোচনায়। উৎপাদন বলতে পণ্য অর্থাৎ টেলিভিশনের ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান, সংবাদ ইত্যাদিকেই বুঝায়, তা আমরা আগেই জেনেছি। শিল্প-কারখানার মতোই এখানেও রয়েছে এক ঝাঁক কর্মী যারা এই উৎপাদন অর্থাৎ সংবাদ বা অনুষ্ঠান তৈরি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িয়ে আছেন। এখানেও অন্যান্য উৎপাদন ব্যবস্থার মতো দু’টি ভাগ আছে, একটি হচ্ছে কাঁচামাল সরবরাহ আর অন্যটি ফাইনাল প্রডাকশন বা পণ্য উৎপাদন। এক্ষেত্রে ক্যামেরায় ধারণ করা ছবিই হচ্ছে প্রাথমিক কাঁচামাল এবং তা থেকে বিভিন্ন প্রাক্রিয়া ও অনুবিভাগ হয়ে তৈরি হয় পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান বা সংবাদ, অর্থাৎ পণ্য।

বিভিন্ন সাংবাদিক বা রিপোর্টার এবং ক্যামেরাম্যান মিলে দৃশ্য ধারণ এবং প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রায় একইভাবে দৃশ্য বা সংলাপ যাই বলি না কেন, তা নিয়ে এডিট বা সম্পাদনা (ভিডিও এবং স্ক্রিপ্ট) –এর মাধ্যমে তৈরি করেন বিভিন্ন রিপোর্ট বা স্টোরী। তারপর সব রিপোর্ট বা স্টোরী এক করে দিয়েই তৈরি হয় পূর্ণাঙ্গ সংবাদ বা অনুষ্ঠান। সংবাদ বা অনুষ্ঠান তৈরির এই কর্ম প্রক্রিয়ার পরিবেশনা এবং সঞ্চালনের ভাগে জড়িয়ে আছেন টেলিভিশনের প্রডাকশন বিভাগের কর্মীরা, যারা প্রডিউসার বা প্রযোজক হিসেবে পরিচিত।
টেলিভিশনের কর্ম প্রক্রিয়াটিই এমন যে, এখানে কেউ এককভাবে বা কোন বিভাগ এককভাবে কোন অনুষ্ঠান বা সংবাদ তৈরি করতে পারেন না, সবাই মিলে দলগতভাবে তৈরি হয় টেলিভিশনের প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ বা অনুষ্ঠান। কাজের ধরন অনুযায়ী প্রডাকশন বিভাগ বা প্রযোজকদের কাজকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। এক. প্রডাকশন (মূলত অনুষ্ঠান বা কোন রিপোর্ট/স্টোরী নির্মাণ, যা প্রযোজক বা রিপোর্টারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে), দুই. প্রডাকশন অপারেশন (মূলত সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠান বা সংবাদ পরিচালনা বা প্রযোজনার কাজ)।

টেলিভিশনের দুটি পণ্য অনুষ্ঠান এবং সংবাদ, এই দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করলে উপরের বিষয়টি আরো ভালোভাবে বুঝা যাবে।
টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণ, এই প্রক্রিয়াটি মূলত ক্ল্যাসিক। নিত্য নতুন ধারনা বা কনসেপ্ট-এর পরিবর্তন ছাড়া অনুষ্ঠান নির্মাণ প্রক্রিয়া সেই শুরু থেকেই একই থেকে গেছে। তবে ক্যামেরা ও ভিডিও সম্পাদনার যান্ত্রিক দিক বিজ্ঞানের অগ্রগতির সাথে সাথে এগিয়েছে অনেকদূর। টেলিভিশনের দর্শন যোগ্য অর্থাৎ টিভি পর্দার ছবির মান আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যমে বেড়েছে অনেক গুণ; এটি অবশ্য টেলিভিশনের কি অনুষ্ঠান, কি সংবাদ, কি বিজ্ঞাপন সব ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য। তাই একটি অনুষ্ঠান কতোটা ভালো হবে বা অন্যভাবে বললে কতোটা দর্শক গ্রহণযোগ্যতা পাবে তা নির্ভর করে অনুষ্ঠানটির কনসেপ্ট বা ধারনা, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ভালো স্ক্রিপ্ট এবং সর্বোপরি অনুষ্ঠানের প্রযোজকের দক্ষতা ও রুচির উপর। যুগের চাহিদা, উন্নত প্রযু্ক্তি এসব বিষয় অনুষ্ঠান প্রযোজনায়ও এনেছে অনেক বৈচিত্র। আমরা আমাদের আলোচনা অবশ্য সংবাদ প্রযোজনাকে ভিত্তি ধরেই করবো, তাই অনুষ্ঠান প্রযোজনার বিষয়ে আলোচনা আর এগিয়ে নেব না।

সংবাদ প্রযোজনার ক্ষেত্রে বিষয়টি অনেকটা ভিন্ন প্রকৃতির, কলেবরটাও অনেক বড়। এখানেই মূলত প্রযোজকরা অপারেশনাল কাজে জড়িয়ে থাকেন। যুগ যুগ ধরে সময়ের বিবর্তনে টেলিভিশনে সংবাদ প্রযোজনার ধরণ, কৌশল, নতুনত্ব, উপস্থাপনা, কারিগরি সুযোগ-সুবিধা, এসব কিছুতেই এসেছে আমূল পারিবর্তন এবং এখনও নিয়ত এগুতে থাকা ও পরিবর্তনশীল এক প্রক্রিয়া সংবাদ প্রযোজনা।

আদর্শগত ভাবে একজন প্রযোজক সংবাদের মূল চালক বা ড্রাইভার বা ক্যাপ্টেন। প্রযোজক সংবাদের প্রতিটি রিপোর্ট সম্পর্কে জানবেন, স্ক্রিপ্ট দেখবেন, প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় ছবির সজ্জা বা সম্পাদনা দেখে দেন, সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিডিও মান ঠিক রাখবেন, সংবাদ পরিবেশনের ক্রম ঠিক করবেন, উপস্থাপকের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তৈরি করেন, সর্বোপরি সরাসরি সম্প্রচারের সময় কারিগরি নির্দেশনা দেয়াও তার অন্যতম কাজ, সচরাচর তিনি একজন জেষ্ঠ্য প্রযোজক হয়ে থাকেন। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্থাৎ সংবাদ সংগ্রহ, প্রতিবেদন তৈরি, সম্পাদনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রযোজক, সহযোগী ও সহকারী প্রযোজকরা তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকেন এবং একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ বুলেটিন তৈরি করেন। ফলে কাজেরক্ষেত্রে প্রযোজকরা কখনও রিপোর্টার, কখনও বার্তা সম্পাদক বা কখনও সংবাদ নিয়ন্ত্রণ কক্ষে টেকনিক্যাল বা অপারেটরের ভূমিকায় থাকেন। বহির্বিশ্বে (যেমন- বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা) একটি রিপোর্ট বা ঘটনা বা ইভেন্ট কাভার করতে মূলত একটি টিম বা দল কাজ করে। এই দলে থাকেন ঘটনার ধরন অনুযায়ী এক বা একাধিক প্রযোজক ও তার সহকারী, রিপোর্টার বা পারফরমার (যিনি ক্যামেরার সামনে থাকবেন), ক্যামেরা পারসন, সাউন্ড রেকর্ডিস্ট, অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও এডিটরও এই দলে থাকেন। স্থান-কাল বা ঘটনার ধরন অনুযায়ী এই দলে শুধুমাত্র রিপোর্টার এবং ক্যামেরা পারসন বা যেকোন একজন দিয়েই ইভেন্ট কাভার করা হয়, সেক্ষেত্রে রিপোর্টারকে অবশ্যই তার স্টেশনের প্রযোজকের দিক নির্দেশনা নিয়েই কাজ করতে হয়। ইভেন্ট কাভার করার এই দলে নেতৃত্ব দেন প্রযোজক, যার থাকে রিপোর্টিং সম্পর্কে জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা, তিনি অডিও-ভিডিও সহ নানান কারিগরি দিক গুলো বোঝেন। ইভেন্ট কাভার করতে গিয়ে তিনিই রিপোর্টারকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেন, তার স্ক্রিপ্ট দেখে দেন, স্টোরি এঙ্গেল ঠিক করেন। প্রযোজক টিভি সেন্টারের বুলেটিন প্রডিউসার-কে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট সম্পর্কে অবহিত করেন এবং প্রয়োজনীয় সময় বরাদ্দ নেন এবং রিপোর্টটি সম্পূর্ন তৈরি করা এবং তা বুলেটিন প্রযোজককে বুঝিয়ে দেয়াও তার দায়িত্ব। অপারেশনাল (স্টুডিও/প্রডাক্শন কন্ট্রোল রুম) বা রিপোর্ট/ইভেন্ট প্রযোজক উভয়ই চুড়ান্ত এবং প্রয়োজনীয় সকল ক্ষেত্রে টেলিভিশন সেন্টারের সংবাদের দায়িত্বে থাকা বার্তা প্রধান বা প্রধান বার্তা সম্পাদক কিংবা প্রযোজকের উর্ধ্বতন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ করে থাকেন। বলা বাহুল্য প্রযোজক সংবাদের স্ক্রিপ্ট ঠিক করা বা সম্পাদনার কাজের জন্য বার্তা সম্পাদক এর উপর নির্ভর করে থাকেন। তবে চুড়ান্তভাবে তিনিই এটি সম্প্রচারের উপযোগী হয়েছে কিনা দেখে নেন।
বার্তকক্ষের কাজের ক্রমানুসারে সংবাদ প্রযোজক নির্বাহী প্রযোজকের অধিনে কাজ করেন, তিনি বার্তা পরিচালককে তার কাজের জন্য জবাদিহি করেন। তবে এই ধারাবাহিকতা বিভিন্ন চ্যানেল থেকে চ্যানেলে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। তবে একটি নির্দিষ্ট সংবাদ বুলেটিনে প্রযোজকই হন পরিচালক এবং তিনি স্টুডিও ক্রু, রিপোর্টার, আউটডোর ক্রু, ক্যামেরা পারসন, বার্তা সম্পাদক, ভিডিও সম্পাদক প্রত্যেকের কাজকে নিয়ন্ত্রণ করেন।
Iqbal Ahmed Khokan
ইকবাল আহমেদ খোকন
নির্বাহী প্রযোজক, যমুনা টিভি

 

টেলিভিশন প্রডাকশন (ভিডিও)

কাজী তাপস ( হেড অফ প্রডাকশন, এটিএন নিউজ) টেলিভিশন প্রডাকশন এবং ফিল্ম প্রডাকশনের পার্থক্য নিয়ে কথা বলেছেন এবং টেলিভিশন প্রডাকশনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন। ভিডিওটি দেখতে ক্লিক করুন ।

 

ভিশন মিক্সার আদ্য-পাত্য

Vision mixer / ভিশন মিক্সার (একটি স্বতন্ত্র ইউরোপিয়ান শব্দ)
(also called online video switcher or video production switcher)
এক বা একাধিক ভিডিও ক্যামেরা সংযুক্ত করে বিভিন্ন ভিডিও উৎস মিশ্রিত করে মাষ্টার আউটপুটের জন্য ব্যবহৃত একটি ডিভাইস। (কেউ যদি একাধিক মাষ্টার আউটপুট চায় সেটা সম্ভব, তবে সেটি নির্ভর করবে ভিশন মিক্সারের মডেলের উপর) আমাদের দেশে (বাংলাদেশ) এটিকে বলে থাকে অনলাইন এডিটিং বা ভিডিও সুইচিং।

Vision Mixer-4

Vision Mixer কোথায় ব্যবহার হয়:
সাধারণত ভিশন মিক্সার টেলিভিশন চ্যানেলের ষ্টুডিও, ওবি ভ্যান, পোষ্ট প্রোডাকশন হাউসে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Capabilities এবং ভিশন মিক্সারের Control প্যানেল:
ভিশন মিক্সার বিভিন্ন মডেলে হয়ে থাকে যেমন: 1 M/E (Mix Effect), 2 M/E, 4.5M/E এবং এখন ভিশন মিক্সারে দুই ধরনের connection ব্যবহৃত হয়। এর একটি হল newer এনালগ ইনপুট আউটপুট (component connections) অন্যটি হল Serial Digital Interface (SDI). Older ভিশন মিক্সারে কাজ করা হতো এনালগ সিগন্যাল ইনপুট আউপুট যাকে বলা হয় Composite Video বা S-Video যা এখনো ছোট আকারের প্রোডাকশন ব্যবহৃত হয়। ভিশন মিক্সার বিভিন্ন প্যানেলে বিভক্ত।

Vision Mixer-3

. মেনু প্যানেল (system control)
. Effects প্যানেল টি-বার, ফেডার বার অথবা Lever Arm (Cut, Mix, Wipe)
. Keying প্যানেল (Linear Key, Luminance Key, and Chroma key) etc
. Positioner or Joystick (Move, Up and Down)
. Global memory System (Store, Recall, Undo, and Modify)
. Pattern Control (Aspect, Border, Soft, Rotation,)
. Bus row (Program bus, Preview bus, key bus, Auxiary bus, Utility bus ctc)

Operation (ব্যবহার)
ভিশন মিক্সারের মূল Concept হলো bus, Basically তিনটি বাস একত্রিত হয়ে বেসিক Vision Mixer. যা হলো P

rogram bus/Preview bus (sometimes Called P/P or PGM/ PST) অন্যটি হল Key bus. তবে এর মধ্যে Program bus হলো Main out (PGM) আর Second bus হলো main previous bus. Program bus এর প্রত্যেকটি button একেকটি করে ক্যামেরা সোর্স বা টেপ আইটেম, গ্রাফিক্স প্রতিনিধিত্ব করে এবং Same Source Preview bus এ বিদ্যামান। Program bus এ যে বাটনটি press করা হবে সেটিই ভিডিও আউট হিসেবে প্রদর্শন হবে ভিডিও মনিটরে, অনেক সময় আমরা Program বাসকে Active বা hot বাস বলে থাকি এবং Preview bus এর জন্যেও নির্ধারিত ভিডিও মনিটর আবশ্যক। ভিশন মিক্সারের আরেকটি অন্যতম ফিচার হলো

Transition Lever যেটাকে আমরা টি-বার, ফেডার বার বলে থাকি। এটির কাজ অনেকটা অডিও ফেডারের মত। এটি দিয়ে দুই বাসের মধ্যে (PGM/PST) Smooth Transition তৈরী করা হয়। যখন কোন ইফেক্ট টি-বার হাত দিয়ে Manually move করা হয়,তখন ইফেক্ট এর Duration user তার ইচ্ছে মতে define করতে পারে অথবা auto transition ও ব্যবহার করা যেতে পারে। Transition বার এর পাশে আরেকটি বাটন হলো, cut or take যা দিয়ে কোন ইফেক্ট ছাড়া ডিরেক্টলি Program and Preview বাস এর সাথে one shot to Another shot করতে ব্যবহার হয়। ভিশন মিক্সারের common Transition হলো dissolves (Similar to an audio cross-fade) and pattern wipes.

Vision Mixer-2

Key বাসটি ব্যবহৃত হয় com positing এর জন্য একটি ভিশন মিক্সারে একের অধিক Key বাস থাকে। একটি Key এর জন্য একটি সিগন্যাল, যেমন সেটি হতে পারে on screen graphic বা কোন ইমেজ, পিকচার ইন পিকচার (P in P), Chrominance, Luminance, (That is called additional video signal similar, to an Alpha Channel. আর তখন program বাস এ যে ভিডিও দেখা যাবে তার উপর এটি প্রদর্শিত হবে এবং program বাস তখন Background mode এ থাকবে। আরও একটি keying stage আছে যেটাকে বলা হয় downstream keyer (DSK) এটি ব্যবহৃত হয় keying text or graphics এর জন্য। যখন সিগন্যালকে Black এর সাথে মিক্স করা হয়,তখন সেটিকে বলে fade to Black. (Usually Called FTB)
এছাড়াও ভিশন মিক্সারের আরো কিছু Additional functions আছে যেমন Talk-back System, Tally System, VTR Controlling, (Serial Communication) Auxiliary- রাউটিং Another ভিডিও সিগন্যাল for Program out এবং DVE, (Digital Video Effects) Memory Register যা দিয়ে কোন ইফেক্টস তৈরী করে Store বা Recall করা যায়।
Setup

ভিশন মিক্সারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- Synchronization যেমন Professional video Camera, VTR, on screen Graphics, Text এই সব সোর্স এর একটির সাথে অন্যটির proper Synchronization যেটাকে বলা হয় Genlocked With Coloburst যা দিয়ে ভিডিও সিগন্যাল জেনারেট হয়। অনেক ভিশন মিক্সারে Internal sync থাকে, আর যে সব ভিশন মিক্সারে internal sync নেই, সেখানে আলাদা frame-sync আবশ্যকীয়। এ ছাড়াও Cable Length, Temperature এই বিষয় গুলোও মাথায় রেখে ভিশন মিক্সার Setup করা হয়। যেকানে ভিশন মিক্সার প্যানেলটি Setup হবে সেখান থেকেই এটি Control করা হয় আর সেই জায়গাকে বলা হয় Production Control Room (PCR). সেই জায়গাটি কোন ইনডোর ষ্টুডিও বা আউটার place ও হতে পারে।
Manufacturers:
. Grass Valley
. Ross Video
. Snell & Wilcox
. Black Magic Design
. Data Video
. Sony
. Philips
. Roland

রিপন সাহা সিনিয়র অন-লাইন এডিটর (দেশ টিভি)

 

 

 

 

 

ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইটিং

লাইট সোর্স (Light Sources): সব ভিডিওই কোন না কোন ধরণের লাইটিং ব্যবহার করে। এটা হতে পারে প্রাকৃতিক লাইট আবার হতে পারে আর্টিফিসিয়াল লাইট। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো, ভিডিও ধারণের জন্য উপযুক্ত লাইটিং কন্ডিশনটি খুজে বের করা। প্রথমত আপনাকে প্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবস্থা করতে হবে অথবা খুজে বের করতে হবে। আপনাকে এটি নিশ্চিত হতে হবে যে, আপনি যে লাইটে কাজ করছেন তা আপনার ব্যবহৃত ক্যামেরাটি ধরতে বা রেকর্ড করতে পারবে। আধুনিক ক্যামেরায় অনেক কম লাইটেও অনেক বেশি কনট্রাস্ট পাওয়া যায়। অর্থাৎ, এতে খুব কম আলোতেও ফটো শুট করা যায়। ধরুন, আপনার কাছে প্রয়োজনীয় লাইটের ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনাকে লাইটের উপযুক্ত ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং সেই লাইট ব্যবহার করে সবচেয়ে ভাল ছবিটি ধারণ করতে হবে। তবে, যদি আপনার সামনে এমন মুহুর্ত আসে যেখানে লাইটের সমস্যা রয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনার ছবির রঙ ভাল আসবে না। এক্ষেত্রে ছবির কালার অনেকটাই খারাপ হয়ে যাবে। যদি সম্ভব হয়, এসব ক্ষেত্রে নিজে নিজেই লাইট সোর্স ঠিক করে নেওয়া উচিত। যখন আপনি শুটিং এর জন্য জায়গা পরিবর্তন করবেন, তখন মনে রাখতে হবে- আপনি কোন লাইট সোর্স ব্যবহার করছেন। আপনি যদি বাইরের কোন স্পট থেকে ঘরের ভেতরের কোন স্পটে যান তাহলে, আপনাকে আর্টিফিসিয়াল লাইট ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে লাইটের পরিমাণ একই দেখা গেলেও, ছবির কালারে পরিবর্তন দেখা যাবে। দুই জায়গার ছবি দুই কালারের হবে। এতে ছবি খারাপ হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে আপনাকে নতুন লাইট সোর্স অনুযায়ি ক্যামেরার হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করে নিতে হবে। তাহলে কালারে পরিবর্তন চোখে পড়বে না।

কনট্রাস্ট রেশিও (Contrast Ratio): কনট্রাস্ট রেশিও হলো ব্রাইটনেস আর ডার্কনেসের মধ্যকার পার্থক্য। কনট্রাস্ট রেশিও দিয়ে অতিমাত্রার আলো ও অতিমাত্রার অন্ধকারের মধ্যকার পার্থক্য বোঝানো হয়। এক্সট্রিম কনট্রাস্টের সঙ্গে ভিডিও কখনই মিল খাবে না। এমনকি অতিমাত্রার অন্ধকারের সঙ্গেও ভিডিও মিল খায় না। শুধু ভিডিও নয় ফিল্মও এই একই ধারায় চলে। ঠিক মানুষের চোখের মত। বেশি কনট্রাস্টের কারণে যা হবে- ছবির কিছু অংশ অনেক বেশি সাদা আসবে, আর কিছু অংশ হবে কালো। ফলে ছবির ডিটেইল খারাপ দেখাবে। আর এজন্যই আপনাকে লাইটের বিষয়ে খুব সতর্ক নজর রাখতে হবে।

contrast-ratio-01

ক্যামেরা মাউন্টেড লাইট (Camera-Mounted Lights): ছবি অথবা ভিডিও ধারনের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারিদের জন্য ক্যামেরা মাউন্টেড লাইট খুবই কার্যকর। এই লাইট ক্যামেরার ব্যাটারি থেকে পাওয়ার ব্যবহার করে। এটি আলাদা কোন পাওয়ার সোর্সের সঙ্গেও জুড়ে দেওয়া যায়। তবে মনে রাখবেন, এই লাইট ক্যামেরার ব্যাটারি ব্যবহার করে তাই খুব অল্প সময়েই ক্যামেরার ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতে পারে। এ ধরণের লাইট কখনই প্লিজিং ইফেক্ট তৈরি করে না। এটি একটি ব্লান্ট ইনস্ট্রুমেন্ট যা একটি নরমাল ক্যামেরা অ্যাকশানের জন্য সিনকে প্রস্তুত করতে সাহাজ্য করে। তবে এটি একটি সিম্পল ও প্রাকটিক্যাল সলিউশন।

নাইট মোড ভিডিও শুটিং (Night Mode Video Shooting): কিছু ক্যামেরায় নাইট মোড ভিডিও শুটিং এর সুবিধা থাকে। এটি আপনাকে অন্ধকারে রেকর্ড করার মতো সুবিধা দিয়ে থাকে। এ মোডটি ভিজ্যুয়াল লাইটের পরিবর্তে ইনফ্রারেড লাইট ব্যবহার করে। যখন আপনার কাছে অন্য কোন অপশন থাকবে না তখন এই নাইট মোড আপনাকে ভিডিও শুট করতে সাহায্য করবে। তবে এই মোডে শুট করা ভিডিওর কোয়ালিটি খারাপ হবে। তবে কোন স্পেশাল ইফেক্ট করা ভিডিওর ক্ষেত্রে আপনি এই মোড ব্যবহার করতে পারেন। ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইটিং

ভিশন মিক্সার ( Vision Mixer )

ভিশন মিক্সার হলো একটি ডিভাইস যা কয়েকটি ভিডিও সোর্সকে একসঙ্গে একটি মাস্টার আউটপুটে প্রদর্শন করে। এ মিক্সার যে পরিরচালনা করে তাকে বলা হয় ভিডিও সুইচার বা প্রোডাকশন সুইচার অনেক জায়গাতে অনলাইন এডিটরও বলে থাকেন। মিক্সার ডিভাইসকে সহজ ভাষায় ভিশন মিক্সার এবং শুধু মাত্র সুইচার ও বলা হযে থাকে।
উদাহরণ স্বরূপ:
এটি একটি ছোট প্রোডাকশন স্টুডিও অথবা ফিল্ড প্রোডাকশন ইউনিটের জন্য বেশি উপযোগী। তুলনামূলক ছোট ডেস্ক কনসোল। এটি মাঝামাঝি আকারের প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী।

Vision-Mixer-pic-01

 

একটি বিশাল আকৃতির কনসোল। এটি বড় আকারের প্রোডাকশনের জন্য বেশি উপযোগী।

Vision-Mixer-pic-02

ভিশন মিক্সার কি করে :                                                                                                                    

একটি ভিশন মিক্সারের প্রধান কাজ হলো, একটি মাস্টার আউটপুট তৈরি করা যা, ভিডিও রেকর্ডিং বা ব্রডকাস্টের জন্য উপযুক্ত। সাধারণত ভিশন মিক্সার লাইভ ইভেন্টের জন্য ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এছাড়া এমন কোন ইভেন্ট যেখানে একাধিক ভিডিও লিঙ্ককে একই সময় কম্বাইন্ড ভাবে দেখাতে হবে সেসব ক্ষেত্রেও এর প্রয়োজন হয়। ভিশন মিক্সার ব্যবহার করে নানা ধরণের ভিডিও ইফেক্ট তৈরি করা যায়। এছাড়া, দুটি ভিডিও সোর্সের ভেতর সাধারণ মিক্স অথবা ওয়াইপ ইফেক্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি কাজ করে।

 

ভিশন মিক্সার কিভাবে কাজ করে :                                                                                              

ভিশন মিক্সার অনেকটা অডিও মিক্সারের মতো। এটি অনেকগুলো ইনপুট সোর্স একসঙ্গে গ্রহণ করতে পারে। শুধু তাই নয় এতে প্রয়োজনীয় ইফেক্ট ও কাজও করতে পারে। কাজ শেষে একসঙ্গে এক বা একাধিক আউটপুটও দিতে পারে। বেশিরভাগ ভিশন মিক্সারই প্রিভিউ বাস ও প্রোগ্রাম বাস ঘিরে কাজ করে। যাদের প্রতিটির আলাদা আলাদা মনিটর থাকে।

১. প্রোগ্রাম বাস হলো প্রধান আউটপুট ফিড। যা রেকর্ড অথবা ব্রডকাস্ট করা হয়। প্রোগ্রাম বাসে যে সোর্স থাকে তাকে অনলাইন বলা হয়।
২. যে সোর্সকে অনলাইনে দেওয়া হবে তা সিলেক্ট করা অথবা প্রিভিউ করার ক্ষেত্রে প্রিভিউ বাস ব্যবহার করা হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: সবসময় প্রিভিউ বাস ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। যদি প্রয়োজন হয় অনেক ক্ষেত্রে এর ব্যবহার ছাড়াই সরাসরি ফিড অনলাইনে দেওয়া যায়। তবে কোন ভিজুয়্যাল ইফেক্ট ব্যবহার করতে হলে প্রিভিউ বাসের প্রয়োজন হয়। কারণ ইফেক্টটিকে সঠিক ভাবে বসানো এবং এর কাজ শেষ করার জন্য প্রিভিউ বাস অনেক বড় ভূমিকা রাখে।
ভিশন সুইচারের কাজ (The Role of Vision Switcher): ভিশন সুইচার সরাসরি ডিরেক্টারের কাছ থেকে নির্দেশনা পায়। সাধারণত ডিরেক্টই নির্ধারণ করে, কি করতে হবে এবং সে অনুযায়ি সুইচারকে নির্দেশনা দেয়। নির্দেশনা গুলো হতে পারে-
ডিরেক্টরের নির্দেশনা (Director’s Instruction)- অর্থ (Meaning)
“১ নেক্সট” – ক্যামেরা ১ প্রিভিউ করুন এবং অনলাইনে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।
“টেক” – ক্যামেরা ১ কে অনলাইনে দিন।
“২ নেক্সট” – ক্যামেরা ২ প্রিভিউ করুন এবং অনলাইনে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।
“মিক্স” – ক্যামেরা ২ অনলাইনে মিক্স করুন।

কালার বার এবং এর ব্যবহার প্রণালী

কালার বার হলো কৃত্রিম ইলেকট্রিক সিগন্যাল যা তৈরি করা যায় ক্যামেরায় অথবা কোন পোস্ট প্রোডাকশন ইকুইপমেন্টের সাহায্যে। পোস্ট প্রোডাকশনের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ রেফারেন্সের জন্য একটি ভিডিও টেপের শুরুতেই কালার বার দেওয়া হয়। একাধিক ক্যামেরা শটে দুটি ক্যামেরার আউটপুট ম্যাচিং ও ভিডিও মনিটর সেটাপের ক্ষেত্রেও কালার বার ব্যবহার করা হয়।
সামনে এগুনোর আগে বলে নেওয়া ভাল যে, কম্পিউটার মনিটর আসলে ভিডিও মনিটর ও টিভির থেকে আলাদা। আপনি কম্পিউটার মনিটরে যে ছবি দেখেন, তা একটি ভিডিও মনিটরে একই মানের হবে না। শুধু তাই নয়, আপনি যদি একটি কম্পিউটার মনিটরে গ্রাফিক্স তৈরি করেন, সেটি একটি ভিডিও মনিটরে একই মানে দেখাবে না। শুধুমাত্র সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে অ্যাডজাস্ট করা ভিডিও মনিটরেই গ্রাফিক্সটির সত্যিকারের কালার দেখা যাবে।
এখানে দেওয়া গ্রাফিক্সটি শুধুমাত্র আপনাদের দেখার সুবিধার্থে দেওয়া হয়েছে। সত্যিকারের কালার বার ব্যবহার করতে হলে আপনাকে একটি ক্যামেরা ব্যবহার করে, তা দিয়ে একটি ভিডিও মনিটর অথবা টিভিতে কালার বার এনে দেখতে হবে।

ভিডিও মনিটর অথবা টিভি সেটাপ
১. কয়েক মিনিটের জন্য আপনার মনিটরটিকে চালু করে রেখে দিন, এতে মনিটরটি একটু গরম হবে।
২. রুমের লাইট হাল্কা করে দিন ও মনিটরে কোন ধরনের আলোর প্রতিবিম্ব যেন না পড়তে পারে তা নিশ্চিত করুন।
৩. এবার মনিটরে কালার বার আনুন, এই কাজটি আপনি ক্যামেরা অথবা আপনার এডিটিং সিস্টেমের হাউস বার ব্যবহার করেও করতে পারেন।
৪. কনট্রাস্টকে ঠিক মাঝামাঝি পয়েন্টে সেট করুন।
৫. ক্রোমা বা কালারকে একেবারে নিচে নামিয়ে আনুন, যতক্ষণ না এটি সাদা কালো রুপ নেয়।

Color-bar-02

৬. চার্টের ডান দিকে মাঝামাঝি জায়গায় থাকা ৩.৫, ৭.৫ এবং ১১.৫ লেখা ন্যারো বারগুলোর দিকে লক্ষ্য করুন। এগুলো হলো প্লাগবার, যা আসলে ছবির লাইনআপ তৈরির যন্ত্রাংশ হিসেবে পরিচিত।
এবার মাঝখানের ৭.৫ ইউনিটটি যতক্ষণ না ভালভাবে দেখা যাচ্ছে ততক্ষণ ব্রাইটনেস এডজাস্ট করুন। এক্ষেত্রে ডানদিকের ১১.৫ ইউনিটের বারটি খুব অল্পই দেখা যাবে। যদি এটি না দেখা যায়, তাহলে ব্রাইটনেস বাড়িয়ে দিন যতক্ষণ না এটি দেখা যায়।
এতে ৭.৫ ইউনিটটি ভিডিওতে দেখানো বারের মতোই কালো হয়ে যাবে, এক্ষেত্রে বাম পাশের ৩.৫ ইউনিট ও মাঝের ৭.৫ ইউনিটের মধ্যে আপনি কোন পার্থক্য খুজে পাবেন না। এদের মধ্যে দুটি অংশকে আলাদা করার মতো কোন দাগও থাকবে না। আপনি শুধু ১১.৫ ও ৭.৫ লাইনের মধ্যে পার্থক্য খুজে পাবেন। (আপনার ভিডিও ক্যামেরাতে সাদাকালো মোড সেট করতে এই একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।)
৭. পরের ধাপটি হলো কনট্রাস্ট কন্ট্রোল, এতে হোয়াইট লেভেল একেবারে সঠিক হবে। এমনটি করতে হলে, কনট্রাস্টকে একেবারে বাড়িয়ে দিন। এক্ষেত্রে সাদা ১০০ ইউনিটের বারটি একেবারে জ্বলজ্বল করবে। এবার সাদা বারটি দেখতে না পাওয়া পর্যন্ত হোয়াইটনেস কমাতে থাকুন। নিচের ছবিটি দেখাচ্ছে, এটি দেখতে ঠিক কিরকম হবে।

চিত্র: কোন রঙ ছাড়া একটি সঠিক এনটিএসসি (NTSC)কালার বার। ## নিচের ছবিটি সঠিক নয়, এটি একটি ইনকারেক্ট কালার বার।

 

চিত্র: কোন রঙ ছাড়া একটি ভুল এনটিএসসি (NTSC) কালার বার। ওপরের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি মনিটর যার ব্ল্যাক লেভেল অথবা ব্রাইটনেস খুব বেশি। যেখানে তিনটি প্লাগবারের কেবল ১১.৫ বারটি দেখা যাওয়ার কথা।

রঙিন কালার বার:
প্রথমে হিউ ( hue) অ্যাডজাস্টের সর্টকাট: সামান্য অভিজ্ঞতা থাকলেই আপনি পরবর্তি ধাপদুটো স্কিপ করে যেতে পারেন। শুধুমাত্র হলুদ ও ম্যাজেন্ডা আইবলিংয়ের মাধ্যমে। হলুদ রঙটি হতে হবে লেবুর মতো হলুদ। এতে কোনভাবেই কমলা অথবা সবুজ রঙের ছোয়া থাকতে পারবে না। আর ম্যাজেন্ডা মোটেও লাল অথবা পারপেল কালারের হতে পারবে না।
অন্য উপায়:
অনেক প্রফেশনাল মনিটরেই শুধু নীল কালারের সুইচ থাকে। যদি আপনার মনিটর সেরকম হয়, তবে এটি চালু করুন। আর যদি আপনার মনিটরটিতে নীলের সুইচ না থাকে, তাহলে আপনি একটি নীল লাইটনিং জেল ব্যবহার করতে পারেন। এটিকে আপনার চোখের সামনে ধরে রাখুন আর মনিটরের দিকে তাকান। এবার আপনি যদি লাল, সবুজ অথবা হলুদের কোন একটি রঙ দেখতে পান, সেক্ষেত্রে ব্লু -ইফেক্ট বাড়াতে চোখের সামনে জেলের পরিমাণ ডবল করে দিন।

## নীল রঙের সুইচ অথবা ব্লু-জেল ব্যবহার করে, আপনি ছবি থেকে লাল ও সবুজ রঙ সরিয়ে ফেলেছেন। এবার শুধু নীল রঙ থাকবে। যদি টিন্ট এবং কালার সঠিক হয়, তাহলে আপনি একই উজ্জলতার কয়েকটি বার দেখতে পাবেন। এভাবেই একটু অভিজ্ঞতা ব্যবহার করেই আপনি আই বলের এই ধাপটি শেষ করতে পারবেন।
৮. নীল সু্ইচ অন করে অথবা আপনার চোখের সামনে ব্লু-জেল ধরে ক্রোমা অথবা কালার বাড়াতে থাকুন। যতক্ষণ না আপনার বামের গ্রে বার ও ডানের নীল বারটি একই উজ্বলতার হয়।ট্রিকটি হলো, আপনার গ্রে অথবা নীল বারের যে সাব বার রয়েছে তা মিলিয়ে নেওয়া।
৯. হিউ (hue)কন্ট্রোল অ্যাডজ্যাস্ট করুন, যতক্ষণ না নীলচে-সবুজ বার ও ম্যাজেন্ডা বার একই উজ্বলতার হয়।এটিকেও আপনি সাব বার দিয়ে ম্যাচ করিয়ে নিতে পারেন।এক্ষেত্রে গ্রে, নীল, নীলচে-সবুজ এবং ম্যাজেন্ডা একই উজ্বলতার হতে হবে। আর হলুদ,সবুজ ও লাল একেবারে কালো দেখাবে। ঠিক নিচের ডায়াগ্রামের মতো।

Color-bar-04

এটি রঙিন হলে যেরকম দেখাবে-

Color-bar-05

এখন আপনার সামনে একটি সঠিক মানে অ্যাডজাস্ট করা মনিটর রয়েছে। তবে যদি সঠিক রঙ দেখতে না পান, তাহলে আপনাকে ক্রোমা ও হিউ আরো অ্যাডজাস্ট করে নিতে হবে। এজন্যই ইঞ্জিনিয়াররা বলেন, এনটিএসসি বলতে বোঝায় নেভার টোয়াইস দ্য সেম কালার, অর্থাৎ একই রঙ দুবার নয়।

চিত্র: একটি সঠিক এনটিএসসি কালার বার।

একটি ওয়েভফ্রম মনিটরে একই কালার বার যেরকম দেখায়-

Color-bar-07

মনিটরটি সেটাপ করে নেওয়ার পর এটিকে এভাবেই রেখে দিন। যদি আপনার কাছে ওয়েভফ্রম অথবা ভেক্টরস্কেল না থাকে। এটি একমাত্র যন্ত্র যেখানে আপনি দেখতে পাবেন যে,আপনার ভিডিওটি কতটা নিখুঁত। এটি আপনার ক্যামেরা ভিউফাইন্ডারের মতই সঠিক।

ওয়াইডস্ক্রিন টিভি কিনবেন কেন?

এ সিদ্ধান্তটি নির্ভর করে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর….

১. আপনার কি আসলেই একটি নতুন টিভি প্রয়োজন?
আপনি যদি আপনার নতুন টিভি ও আগের ৪:৩ ফরমেটের টিভি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় থাকেন তাহলে, আমরা বলবো ওয়াইডস্ক্রিন প্রযুক্তিতে যান। তবে ৪:৩ প্রযুক্তির টিভি কেনার ক্ষেত্রে আপনার যদি কোন বিশেষ ও নির্দিষ্ট কারণ না থাকে তাহলে।
একটি টেলিভিশন বহু বছর আপনাকে সার্ভিস দেবে। সেক্ষেত্রে নতুন প্রযুক্তির টেলিভিশন কিনলে ভবিষ্যতে যখন চারদিকে ওয়াইডস্ক্রিনের দখলদারিত্ব থাকবে, তখন আপনার টিভিটি পুরাতন হয়ে যাবে না।

২. ওয়াইডস্ক্রিনে আপনি কি দেখেন এবং এতে কি দেখা যায়?
আপনি যদি অনেক বেশি ডিভিডি দেখেন, বিশেষ করে ফিচার ফিল্ম, তাহলে আপনি ওয়াইডস্ক্রিনের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করবেন। যেখানে VHS মুভি সাধারণত বানানো হয় ৪:৩ রেশিওর টিভির জন্য। ডিভিডি সাধারণত ওয়াইডস্ক্রিন ভিউ এর জন্য বানানো হয়ে থাকে।
টেলিভিশন প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে আপনাকে জানতে হবে যে, আপনার এলাকার ক্যবাল নেটওয়ার্কে কোন কোন চ্যানেল ওয়াইডস্ক্রিন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বেশিরভাগ উন্নত দেশেই ওয়াইডস্ক্রিন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। তবে যদি আপনি দেখেন যে আপনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ প্রোগ্রামই ৪:৩ রেশিওতে বানানো, তাহলে আপনি ওয়াইডস্ক্রিনের বিষয়ে আগ্রহ নাও পেতে পারেন। তবে ওটা হয়ত আর বেশি দিন থাকছে না।

৩. দামের তারতম্য
যদি ওয়াইডস্ক্রিন ও ৪:৩ ফরমেটের মধ্যে দামের তারতম্য থাকে, সেক্ষেত্রে এটি আপনার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা রাখবে।

উপরোক্ত বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত আসতে পারে, কিন্তু আমরা মনে করি-আপনি যদি টেলিভিশন অথবা ভিডিও প্রোগ্রাম বানানোর কাজে নিয়োজিত থাকেন, তাহলে আপনাকে এখনই ওয়াইডস্ক্রিন প্রযুক্তিতে প্রোগ্রাম বানানো শুরু করা উচিৎ অথবা এটি নিয়ে ভাবা উচিৎ।
বেশিরভাগ ভোক্তার জন্য, এখনই ওয়াইডস্ক্রিন টিভি কেনার তাড়া নেই। তবে যদি আপনি একটি নতুন টিভি কিনবেন বলে ঠিক করেন, সম্ভব হলে ওয়াইডস্ক্রিন টিভি কিনুন নতুবা নতুন টিভিতে এগোবার কথা থাকলেও আপনি প্রযুক্তিতে পিছিয়ে যেতে পারেন।

পরিচিত লাইটনিং টার্মিনোলজি

পরিচিত লাইটনিং টার্মিনোলজি

অ্যামবিয়েন্ট লাইট (Ambient Light) এটি হলো সেই লাইট যা অতিরিক্ত লাইট লাগানোর আগে থেকেই সিনে বা শুটিং এর স্থানে মজুদ থাকে।

ইনসিডেন্ট লাইট (Incident Light) এ ধরণের লাইটের সোর্সকে সরাসরি দেখা যায়। যেমন-সূর্য অথবা ল্যাম্প।

প্রতিফলিত লাইট (Reflected Light) কোন সারফেস বা পৃষ্টে প্রতিফলিত হয়ে যে লাইট সাবজেক্টের ওপর পড়ে তাকেই প্রতিফলিত লাইট বলা হয়।

রঙের মাত্রা (Color Temperature) এটি লাইটের ধরণ মাপার একটি স্ট্যান্ডার্ড। একে কেলভিনে মাপা হয়ে থাকে।

কনট্রাস্ট রেশিও (Contrast Ratio) এটি হলো একটি ছবির উচ্চ মাত্রার সাদা এবং কালোর মধ্যকার পার্থক্য।

প্রধান লাইট (Key Light) এটি সাবজেক্টের ওপর পড়া প্রধান লাইট। এটি একটি সাবজেক্টের বেশিরভাগ কনট্রাস্ট পূরণ করে থাকে।

ফিল লাইট (Fill Light) এটি সাবজেক্টের পাশে রাখা হয়, এর মাধ্যমে ছবি থেকে ছায়ার প্রভাব কমিয়ে ফেলা যায়। এটি প্রধান লাইটকে ব্যালান্স করে থাকে।

ব্যাক লাইট (Back Light) এটি সাবজেক্টের পেছনে লাইট দেওয়ার জন্য ব্যবহার হয়। এর সাহাজ্যে সাবজেক্টের পেছনের লাইটের মাত্রা ঠিক করা হয়।

হার্ড লাইট (Hard Light) এটি কোন সোর্স থেকে পাওয়া সরাসরি আলো। যেমন-সূর্য। এটি কোন বাধা ছাড়াই সরাসরি সাবজেক্টের ওপর এসে পড়ে।

সফট লাইট (Soft Light) এ লাইট সরাসরি সাবজেক্টের ওপরে পড়ে না। এর ব্যবহারে হার্ড লাইটেরকারনে তৈরি হওয়া ছাঁয়ার প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

দাগ (Spot) এটি একটি নিয়ন্ত্রিত এবং খুব কম পরিমাণে ব্যবহার হওয়া লাইটের বিম।

ফ্লাড (Flood) এটি স্পটের ঠিক উল্টো, এটি অনেকটাই অনিয়ন্ত্রিত এবং খুব বেশি পরিমাণে ব্যবহার হওয়া লাইটের বিম।

ট্যাংস্টেন (Tungsten) এটি একটি সাধারণ লাইট। দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সাধারণ বাল্বে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এর ভেতর দিয়ে বিদ্যুত প্রবাহিত হলে এটি জ্বলে ওঠে। ট্যাংস্টেন কালার টেম্পারেচার সাধাহরণত ২ হাজার ৮শ’ ক্যালভিন থেকে ৩ হাজার ৪শ’ ক্যালভিন হয়ে থাকে।

হ্যালোজেন (Halogen) এটি এমন একটি লাইট যাতে ট্যাংস্টেন তার ব্যবহার করা হয়। তবে এটিতে এই তারটি একটি টিউবের ভেতরে বসানো থাকে, আর টিউবটি ভরা থাকে হ্যালোজেন গ্যাস দিয়ে।

ফ্রিসনেল (Fresnel) এ ধরণের লাইটে একটি লেন্স সংযুক্ত থাকে, যা লাইটের বাইরের দিকে বসানো থাকে। ফ্রিসনেল লেন্স সাধারণত লাইট বিম ফোকাস করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।

ইনক্যানডিসেন্ট (Incandescent) ইনক্যানডিসেন্ট লাইট সাধারণত তাপ উতপন্ন করে থাকে। এ লা্ইটে একটি ফিলামেন্ট তার অনেক বেশি গরম হতে থাকে, যতক্ষণ না এটি জ্বলে ওঠে।

PAL, NTSC, SECAM কি

এনটিএসসি (NTSC)
এনটিএসসি একটি ভিডিও ফরমেট যা ১৯৪১ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্ট্যান্ডার্ড ভিডিও ফরমেট হিসেবে গ্রহণ করে। তখন থেকেই যেকোন ভিডিও ও টেলিভিশনের ক্ষেত্রে এই ফরমেট ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি এখনও বেশ প্রচলিত একটি ফরমেট। এনটিএসসি বলতে মূলত বোঝায় ন্যাশনাল টেলিভিশন স্ট্যান্ডার্ড কমিটি। এই ফরমেটকে যুক্তরাষ্ট্রে টেলিভিশন ব্রডকাস্টের স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে অনুমোদন দিয়েছিল এফসিসি (FCC) অর্থাৎ ফেডারেল কমিউনেকেশন কমিশন।

এনটিএসসি (NTSC) নির্ভর করে একটি ৫২৫ লাইনের ওপর (525-line )। এটি ৬০ ফিল্ড অথবা ৩০ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড অনুপাতে ছবি দেখায় (60 fields/30 frames-per-second )। এ ফরমেটে ছবি অথবা ভিডিও দেখাতে হলে ৬০ হার্টজ (60Hz) ট্রান্সমিশন সিস্টেম প্রয়োজন হয়। এটি একটি ইন্টারল্যাস্ড সিস্টেম যেখানে প্রতিটি ফ্রেমকে ২৬২ লাইনের (262 lines) দুটি ফিল্ডে স্ক্যান করা হয়। যা পরে একটি ফ্রেম অথবা ভিডিও দেখানোর জন্য ৫২৫ স্ক্যান লাইনের (525- scan line ) সাহায্যে মিলিত হয়।

এই সিস্টেমটি বেশ ভালই কাজ করে, তবে যখন এই সিস্টেম প্রথম অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তখন রঙ্গিন টিভি অথবা ডিসপ্লে নিয়ে হিসাব করা হয়নি। ফলে ১৯৫০ সালে একটি উভয়সঙ্কট সৃষ্টি হয়। কিভাবে এনটিএসসিতে রঙ অন্তর্ভূক্ত করা যায়? তাও আবার বাজারে থাকা লাখ লাখ সাদাকালো টেলিভিশন নষ্ট না করেই। শেষপর্যন্ত ১৯৫৩ সালে এনটিএসসিতে রঙ অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রক্রিয়া অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে, এই ফরমেটে রঙ যুক্ত করার প্রক্রিয়া এর জন্য একটি দুর্বলতা। এই ফরমেটকে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই বলে থাকেন, নেভার টোয়াইস দ্য সেম কালার, অর্থাৎ একই রঙ দুবার নয়।

এনটিএসসি (NTSC) ভিডিও স্ট্যান্ডার্ড যুক্তরাষ্ট্রের অফিসিয়াল স্ট্যান্ডার্ড। এছাড়াও, কানাডা, মেক্সিকো, সেন্ট্রাল ও সাউথ অ্যামেরিকার কয়েকটি অংশ, জাপান, তাইওয়ান এবং কোরিয়াতেও এই ফরমেট ব্যবহার করা হয়।

পাল ( PAL )
বিশ্বব্যাপী অ্যানালগ টেলিভিশন ব্রডকাস্টিং এবং ভিডিও ডিসপ্লের জন্য পাল ( PAL ) একটি প্রভাবশালী ফরমেট। এটি নির্ভর করে ৬২৫ লাইনের (625 line) ওপর। এটি ৫০ ফিল্ড অথবা ২৫ ফ্রেম রেটে ছবি ও ভিডিও প্রদর্শণ করে (50 field/25 frames a second)। এ ফরমেটের জন্য প্রয়োজন হয় ৫০ হার্টজের সিস্টেম (50HZ)। এনটিএসসির (NTSC) মত পালের সিগন্যালও ইন্টারল্যাস্ড। অনেক বেশি স্ক্যান লাইন থাকার কারণে পাল ফরমেটের ছবি এনটিএসসি ফরমেটের ছবির চেয়ে ভাল হয়। এতে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনের মধ্যকার কালারের তারতম্য কম হয়। তবে, পাল ফরমেটের একটি অসুবিধাও রয়েছে, এতে প্রতি সেকেন্ডে ফ্রেমের সংখ্যা কম হওয়ায়, অনেক সময় হাল্কা ফ্লিকার (Flicker) দেখা যায়। ঠিক প্রজেকশনের মাধ্যমে ছবি দেখতে গেলে যেরকমটি হয়।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: ব্রাজিল পালের ভিন্ন একটি ফরমেট ব্যবহার করে, সেটি হচ্ছে পাল-এম (PAL-M)। পাল-এম ৫২৫ লাইন অথবা ৬০ হার্টজের সিস্টেম ব্যবহার করে। পাল-এম আসলে উপযুক্ত সাদাকালো ফরমেটের ডিভাইসের ক্ষেত্রে। তবে, এনটিএসসি ফরমেটের ডিভাইসেও এটি ব্যবহার হয়।

বিশ্বব্যাপী পাল ফরমেটের আধিপত্যের কারণে এর একটি বিশেষ নাককরণ করা হয়েছে, একে বলা হয় পিস এট লাস্ট অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত শান্তি। যুক্তরাজ্য, জার্মানী, স্পেন, পর্তুগাল, ইতালি, চীন, ইন্ডিয়া, আফ্রিকার বেশিরভাগ দেশ, এবং মধ্যপ্রাচ্যে পাল ফরমেট ব্যবহার করা হয়।

সিক্যাম (SECAM )
অ্যানালগ ভিডিও স্ট্যান্ডার্ডের ক্ষেত্রে সিক্যাম (SECAM ) আসলে বহিস্কৃত একটি ফরমেট। এই ফরমেটের আবিস্কার করা হয় ফ্রান্সে। সিক্যাম এনটিএসসির ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হলেও, পালের ক্ষেত্রে খুব একটা নয়। আর তাই যেসব দেশ সিক্যাম ফরমেট বেছে নিয়েছিল, তারা পালে পরিবর্তিত হচ্ছে, অনেক দেশ আবার ব্রডকাস্টের জন্য দুই ধরণের সিস্টেমই রাখছে।

পালের মতই এটি ৬২৫ লাইন, ৫০ ফিল্ড অথবা ২৫ ফ্রেম প্রতি সেকেন্ড ইন্টারল্যাস্ড সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে এর কালার কম্পোনেন্ট পাল এবং এনটিএসসির থেকে আলাদা। সিক্যাম বলতে বোঝায়, সিক্যোয়েনসিয়াল কালার উইথ ম্যেমরি। এর ভিন্ন কালার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের জন্য ভিডিও প্রফেশনে এর নাম দেওয়া হয়েছে সামথিং কনট্রেরি টু অ্যামেরিকান মেথড অর্থাৎ অ্যামেরিকান মেথডের চেয়ে ভিন্ন কিছু। যেসব দেশ সিক্যাম সিস্টেম ব্যবহার করে তার মধ্যে রয়েছে, ফ্রান্স, রাশিয়া, ইস্টার্ন ইউরোপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ।
সিক্যাম সম্পর্কে আরেকটি বিষয় জানিয়ে রাখা উচিৎ- তা হলো, এটি একটি টেলিভিশন ব্রডকাস্ট ট্রান্সমিশন ফরমেট। কিন্তু এটি কোন ডিভিডি প্লেব্যাক ফরমেট নয়।

চালানোর সুবিধার জন্য ডিভিডি সাধারণত এনটিএসসি ও পাল ফরমেটে কোড করা থাকে। তবে যেসব দেশে সিক্যাম ব্যবহার করা হয়, সেসব দেশের ডিভিডিগুলো থাকে পাল ভিডিও ফরমেটে।

অন্যভাবে বলা যায়, যেসব দেশে সিক্যাম ভিডিও ফরমেট ব্যবহার করা হয়, সেসব দেশের মানুষ পাল ফরমেটও ব্যবহার করে, তবে যখন এটি ডিভিডি ভিডিও প্লেব্যাকে আসে। সিক্যাম ফরমেটের যত টেলিভিশন আছে, তার সবগুলোই পাল ফরমেটেও ছবি দেখাতে পারে। যেমন- ডিভিডি প্লেয়ার (DVD player), ভিসিআর (VCR) এবং ডিভিআর (DVR)।