জার্মানিতে রয়েছে Graphic Designing এবং Video Editing এ পড়াশুনার সুযোগ

জার্মানিতে যতগুলো বিষয়ে উচ্চ শিক্ষায় পড়তে আসা যায় তাদের মধ্যে পড়াশুনার শেষে অন্যতম সেরা সুযোগ সুবিধা মনে হয় Game Designing বা Graphic Designing বা Video Editing রিলেটেড বিষয়ে যারা পড়াশুনা করে। এখানে আজ আমি উল্লেখ করবো এসব রিলেটেড বিষয়ে জার্মানির কোথায় কোথায় ব্যাচেলর করার সুযোগ আছে। বাংলাদেশ থেকে Graphics Designer বা Video Editor বা Creative যে কোন ডিজাইনাররা আবেদন করতে পারবেন। আমার নিচের দেয়া সকল বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে কোন টিউশন ফিস লাগবে না। আর সকল বিষয়গুলি সম্পূর্ণ ইংরেজিতে পড়ানো হয়। তাই জার্মান ভাষা লাগবে না।

১। Darmstadt University of Applied Sciences এর অধীনে খুবই ভালো কোর্স হল BA Animation & Game। বিজ্ঞান ছাড়াও যে কোনো ডিসিপ্লিন থেকে এই কোর্সে ব্যাচেলর করার জন্য আবেদন করা যায়। কোর্স নিয়ে বিস্তারিত পাবেন
https://ag.mediencampus.h-da.de/

২। BA Digital Games কোর্সে আপনারা আবেদন করতে পারেন। এই কোর্স TH Köln (University of Applied Sciences) অধীনে। এতেও যে কোনো ডিসিপ্লিন থেকে ব্যাচেলর করার জন্য আবেদন করা যায়।
বিশদ বৃত্তান্ত পাবেন
http://www.colognegamelab.de/study/digital-games-ba/

৩। ভিডিও এডিটিং বা Graphics Designer দের জন্য আরেকটি সেরা কোর্স।bachelor in Digital Media যা Leuphana University Lüneburg এর অধীনে। যে কোনো ডিসিপ্লিন থেকে আবেদন করা যায়।
http://www.leuphana.de/…/college/bachelor/digital-media.html

৪। খুবই ভালো আরেকটি কোর্সের নাম Information and Communication Design। যা Rhine-Waal University of Applied Sciences এর অধীনে পড়ানো হয়। আবেদন করতে পারবে যে কোন ডিসিপ্লিন থেকে। আবেদনের বিস্তারিত
https://www.hochschule-rhein-waal.de/…/ba…/information-and-2

লেখাটি নেয়া হয়েছে : Bangladeshi Student Forum Germany ফেসবুক গ্রপ থেকে

https://www.youtube.com/watch?v=9Fr3T_frY4w&t=62s

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ১

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ২
নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স / উপরের ডিজাইনগুলো কাজের সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে। এগুলো থেকে নতুন কোনো নকশার তালিকা গঠন করার পদ্ধতি আবিষ্কার করা যাবে। যা আমাদের কাজের চিন্তাধারা বা ধারণার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যাবে। কেউ যদি এ উদাহরণগুলো নিয়ে গবেষণা করে তাহলে Graphic Design Resource Sheets থেকে অন্য চিহ্ন পাবে যা বিনামুল্যে ব্যবহার করা যায়। আর এটা আপনাদেরকে গ্রাফিক্সের ব্যাপারে নতুন কিছু আবিস্কার করতে সাহায্য করবে।

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৩

চিহ্ন-১

নমুনা তৈরি করা:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স 8

স্নোফ্লেক্সের মতো সামঞ্জস্য আকারের চিহ্নগুলো আরো চিহ্ন তৈরি করার জন্য উপযুক্ত। এইগুলো নিজেদের মধ্যে টালির মতো মানানসই হয়ে বসে যায়। এখন আমরা দেখবো যে কিভাবে একটি লুকানো কিউব অথবা বক্স উপরের ডান পাশের নকশার মাঝখানে তৈরি হয়। প্রায়ই নকশার মধ্য নকশা আবিষ্কার করা হয়। একজন ভালো ডিজাইনার নকশা তৈরির সময় সম্ভাব্য সব বিষয় ও বস্তুর দিকে খেয়াল রাখবে।
কমই বেশি?:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৫

এই বড় দিনের কার্ডটির নকশা চিহ্ন তৈরি করাকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছে। যেকোনো প্রকারেই হোক গ্রাফিক্স ডিজাইনে সাধারণত কমটাকেই বেশি ধরা হয়। তাই সহজ চিন্তাধারাগুলোই সবসময় পুরস্কৃত করা হয়।
ছবি ও এর প্রকারভেদ শৃঙ্খলাবদ্ধ করা:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৬

নকশাটির ঠিক মাঝখানে যেই কিউব বা বক্সটি লুকানো রয়েছে সেটা এই নকশাটিকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবহার করার আভাস দেয়। আর এটি একটি রেফ্রিজারেশন কোম্পানির চিহ্ন “দ্য আইস বক্স”।
যে কোনো নকশার ক্ষেত্রেই ছবি ও এর প্রকারভেদের সম্পর্ক থাকাটা খুবই জরুরি এবং তাদেরকে একসঙ্গে সংযুক্ত করার অনেক উপায় আছে। “এরিয়াল ব্লাক” ফন্টকে এই নকশার জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল কারণ এই ফন্টের প্রশস্ততা ছবির লাইনের প্রশস্ততার সঙ্গে মানানসই হয়। ত্রিভুজাকার শৃঙ্খলাবদ্ধতা এবং এর অবস্থানও আমাদেরকে জানান দেয় যে এই নকশাটির গঠনের সঙ্গে স্নোফ্লেক্সের গঠন প্রতিচ্ছবি রয়েছে।
“দ্য আইস বক্স” এর ধারণাকে প্রাথমিক পর্যায় থেকে আরো মিলিত নকশায় রুপান্তরিত করার জন্য এখন আরো বাড়তি চিন্তাধারার দরকার রয়েছে।

 

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৭

তিনটি “আইসি ব্লু” প্রকৃতির রং এই নকশাটির তিনটি ক্ষেত্রের উপর জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই একই রঙগুলো আবার ছবি এবং ফন্টের সংযুক্ততাকে আরো শক্তিশালী করে।

নকশা তৈরি করা:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৮

ট্রায়াল অ্যান্ড এরর পদ্ধতিটি গ্রাফিক্সের কাজ করার ক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য পদ্ধতি। এতে কালো সীমারেখাকে সিগ্রিন ব্যাকগ্রাউন্ড দিয়ে পুনঃস্থাপন করা হয়েছে। এতে ছবিটির সৌন্দর্য নষ্ট হয়েছে এবং লুকানো বক্সটির ক্ষতি করেছে।

নকশা উন্নীত করা:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ৯

নকশাটি সৌন্দর্য্য বাড়াতে গিয়ে এতে বিন্দুমাত্র ছায়া ব্যবহার করা হয়েছে। যাতে ছবিটিকে আরো দৃশ্যমান হয়। আর এ কৌশলটি খুব ভালোভাবেই কাজ করেছে এবং ছবিটিকে আরো সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে।

নকশা চুড়ান্ত করা:

নকশা ও কম্পোজিশন টেকনিক্স ১০

ছায়া ব্যবহার করাতে ছবিটি নাটকীয়ভাবে আরো বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। তবে পেছনের অংশটির অপ্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে তার রঙ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অবশেষে এই নমুনাটি বদল করে শুধু একটি রং ব্যবহার করা হয়েছে যাতে করে নকশাটি আরো ভালোভাবে ফুটে ওঠে। ডিজাইনটির ছায়াও সরিয়ে ফেলা হয়েছে যাতে করে নকশাটি আরো পরিপূর্ণভাবে ফুটে উঠে।
অন্য গ্রাফিক্স নকশার মত “দ্য আইস বক্স” এর ফলও ট্রায়াল অ্যান্ড এরর পদ্ধতিতে উৎপাদিত। যেখানে ভুলগুলো একটি প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে।

লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

নকশা

নকশা এমন এক জিনিস যা আমাদের কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেয়। একজন নকশাকার তার কারুকাজ দ্বারা নিজস্ব চিন্তাধারাকে বিশদাকারে ব্যাখ্যা করে। নকশার মাধ্যমে আমরা আমাদের ক্রমবর্ধমান চিন্তাধারা, কৌশল এবং সৃজনশীল দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে পারি। ফলে একজন ডিজাইনার যখন কোনো নকশা তৈরি করবে তখন তার উচিত নিজস্ব স্বত্তাকে জাগিয়ে পুরোপুরি কাজে মনোনিবেশ করা। তবেই সে তার কল্পনাকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে পারবে।
পুনঃনিদর্শন

পুনঃনিদর্শন

প্রকৃতির নিদর্শন

প্রকৃতির নিদর্শন

কল্পনা দ্বারা নিদর্শন
কিভাবে পুনঃনিদর্শন নকশা তৈরি করা হয় এ বিষয়ে অবগত হওয়া একজন ডিজাইনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি পুনঃনিদর্শন মোটামুটি সব জায়গায় দেখা যায়। কিন্তু যেকোনো নকশা তৈরির ক্ষেত্রে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং আমাদের সংস্কৃতির সম্মুখীন হতে হয়। এ ধরনের নকশা আমরা সাধারণত টাইলিং, ওয়ালপেপার, টেক্সটাইলস, র‌্যাপিং এবং প্যাকেজিং-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকি।
এছাড়াও আমরা বিভিন্ন সাইনবোর্ডের ব্যাক গ্রাউন্ড ও জুয়েলারিতে নকশা করে থাকি। এ ধরনের নকশা সাধারণত একটু বড় পরিসরে করা হয়। সম্প্রতি এ নকশাগুলো আমরা কম্পিউটারে করে থাকি। এতে কাজগুলো নিখুঁতভাবে দ্রুত করা যায়। তবে যদি আমরা ইতিহাসে চোখ রাখি তাহলে দেখবো তখন এ নকশা মানুষ হাতে করতো।

রঙের ব্যাখ্যা

রঙের ব্যাখ্যা

কালার থিউরি

কালার থিউরি

রঙের সীমাবদ্ধতা

রঙের সীমাবদ্ধতা

কালার থিউরি কুইজ

 

এখানে কালার থিউরি দ্বারা আমরা রঙের যে ব্যবহার শেখাবো তা মূলত চিত্রশিল্পী বা নকশাকাররা ব্যবহার করে থাকে। আর কোন রঙ কোথায় ব্যবহার করা হবে তা বুঝতে পারলেই একজন শিল্পী তার একটি কল্পিত নকশাকে সহজেই বাস্তবে রূপ দিতে পারবে।

লোগো

লোগো

লগো টাইপের নকশা (Designing a Logotype)

লগো টাইপের নকশা (Designing a Logotype)

ছাপখানায় মুদ্রণের কৌশল (the art of typography)

ছাপখানায় মুদ্রণের কৌশল

ডিজাইন অ্যা লোগোটাইপ দ্বারা আমরা বিভিন্ন ধরনের মজাদার লোগো বানানোর কৌশল শিখতে পারবো। লোগো কতটা কার্যকরী হবে তা আমরা দ্য আর্ট অব টিপোগ্রাফি মাধ্যমে শিখতে পারবো।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের আইডিয়া কিভাবে সম্প্রসারিত হয়?

গ্রাফিক্স ডিজাইনের আইডিয়া কিভাবে সম্প্রসারিত হয়?

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কৌশল

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কৌশল

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কৌশল

গ্রাফিক্স ডিজাইনের কৌশল
গণনা করা

কম্পোজিশন টেকনিক্স দ্বারা গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরির নতুন নতুন পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারবো। অর্থাৎ উপরে যে কৌশলগুলো উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো থেকে গ্রাফিক্স ডিজাইন তৈরির উপযুক্ত নিয়ম সম্পর্কে ধারণা নেয়া যাবে।

 

অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

রং এর সংকেত

রং সবসময় তার নিদর্শন শক্তির জন্যই সুপরিচিত। বোঝার ক্ষমতা ও বিশ্লেষণ করাই রংকে সময়ের সাথে সাথে তাল মেলাতে এবং বিভিন্ন দেশ ও সাংস্কৃতিক পর্যায়ে পৌঁছাতেও সাহায্য করেছে। রং দিয়ে সুখ, ভালবাসা এমনকি কস্টকেও ফুটিয়ে তুলেছেন অনেক শিল্পী। তাই কিছু ছবিতে রং এর ব্যবহার তুলে ধরার চেস্টা করা হল। আসা করি কাজে আসবে ।

লাল

পল গাউগুইন(১৮৪৮-১৯০৩) “ভিশন আফটার দি সারমন”১৮৮৮(অয়েল অন ক্যানভাস)
পল গাউগুইন(১৮৪৮-১৯০৩)
“ভিশন আফটার দি সারমন”১৮৮৮(অয়েল অন ক্যানভাস)

আগুন ও রক্তের সাথে সব সময় লাল এর সম্পর্ক। বিপদ, ক্রোধ এবং নিষ্ঠুরতা বোঝানোর জন্যও লাল রং ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও লাল রং হৃদয়, ভালবাসা এবং উত্তেজনাকে বোঝায়।

কমলা

মার্ক রথকো(১৯০৩-১৯৭০) “কমলা এবং হলুদ”১৯৫৬(অয়েল অন ক্যানভাস)
মার্ক রথকো(১৯০৩-১৯৭০)
“কমলা এবং হলুদ”১৯৫৬(অয়েল অন ক্যানভাস)

কমলা রং সৃজনশীলতা, বদল, শক্তি এবং ধৈর্যকে বোঝায়। কমলা রং শর‌‌‍‍ৎ‌‌কালকেও বোঝায়। অপ্রধান রং হওয়ার জন্য এটি রংয়ের মূল পদার্থগুলোকে একত্র করে। কমলা লাল রংয়ের শক্তি ও হলুদের উল্লাস হিসেবেও আত্মপ্রকাশ ঘটায়।

হলুদ

ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ(১৮৫৩-১৮৯০) “সূর্যমূখী”১৮৮৯(অয়েল অন ক্যানভাস)
ভিনসেন্ট ভ্যান গঘ(১৮৫৩-১৮৯০)
“সূর্যমূখী”১৮৮৯(অয়েল অন ক্যানভাস)

হলুদ হচ্ছে সূর্যের রং, আমাদের গ্রহের অবলম্বন। এটি মূলত প্রাণ, শক্তি, আনন্দ, ভরসা, আশা এবং আত্মজ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ। এ রংটি বন্ধুত্বের ও প্রতীক।

সবুজ

পল সেজান্নে(১৮৩৯-১৯০৬) “দি ব্রাইড এট মাইনেসি”১৮৩৯(অয়েল অন ক্যানভাস)
পল সেজান্নে(১৮৩৯-১৯০৬)
“দি ব্রাইড এট মাইনেসি”১৮৩৯(অয়েল অন ক্যানভাস)

সবুজ হচ্ছে মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী রং। সবুজ বলতে আমরা মূলত প্রকৃতি যেমন গাছপালা, পাতার রংকে বুঝে থাকি। মাঝে মাঝে এটি কিছু নেতিবাচক (হিংসা, অনভিজ্ঞতা) বৈশিষ্ট্যও তুলে ধরে।

নীল

জেম্’স ম্যাকনেইল রিস্টলার(১৮৩৪-১৯০৩) “নকটার্ণ,ব্লু এন্ড সিলভার :চেলসি,”১৮৭১ (অয়েল অন উড)
জেম্’স ম্যাকনেইল রিস্টলার(১৮৩৪-১৯০৩)
“নকটার্ণ,ব্লু এন্ড সিলভার :চেলসি,”১৮৭১ (অয়েল অন উড)

নীল হচ্ছে সবচেয়ে স্থির এবং উদাসীন রং। আকাশের রং হিসেবে এটি স্বর্গ প্রতিনিধি হিসেবে প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহার করা হচ্ছে। শাস্ত্রীয় পুরাণে নীলকে দেবতার রং হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

কালো

RANG ER SONGKET 06

কালো রং দ্বারা মূলত আমরা অন্ধকারাচ্ছন্ন বুঝি। এটি মৃত্যু, মন্দ, জাদুবিদ্যা, ভয় এবং শোকের রং হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। দুঃখ ও পীড়াদায়ক বিষয়ের জন্য কালো একটি যথাযথ রঙ।

সাদা

RANG ER SONGKET 07

সাদা রং শান্তি, বিশুদ্ধতা এবং ধার্মিকতার প্রতিনিধিত্বতে ব্যবহৃত হয়।

লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
লিখেছেন: অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

 

 

গ্রাফিক ডিজাইন কি?

গ্রাফিক ডিজাইন করা খুবই সহজ, প্রায় সবাই এটা করতে পারেন। এমন ভাবনা রয়েছে অনেকেরই, কিন্তু কথাটা ভুল। বেশ কিছু কঠিন বিষয় আগে মাথায় এবং হাতে আনতে হবে তারপর কাজটি হয়তো সহজ হবে। তাই শুরু থেকে সবগুলো অংশকে মনোযোগ দিয়ে বুঝতে হবে। চলুন শুরু করা যাক. .

যদি কেউ প্রশ্ন করে “আমি কিভাবে গ্রাফিক ডিজাইন করবো?” সে আসলে জিজ্ঞাসা করছে “কিভাবে আমি লোগো ডিজাইন করব?” অথবা “কিভাবে আমি একটি ওয়েব সাইট ডিজাইন করবো?” বা “কিভাবে আমি একটা বিজনেস কার্ড ডিজাইন করতে পারি?” আবার “আমি কিভাবে একটি চলমান গ্রাফিক তৈরী করবো?” এই প্রশ্নের মানে আরো অনেক রকম হতে পারে।

গ্রাফিক শব্দটির অর্থ ড্রইং বা রেখা। গ্রাফিক শব্দটি সেই সব চিত্রগুলোকে বুঝায় যে চিত্রগুলোর সফল পরিসমাপ্তি ড্রইং এর উপর নির্ভরশীল। গ্রাফিক শব্দটি আলাদা ভাবে বোঝার পর বুঝতে হবে ডিজাইন শব্দটির অর্থ। ডিজাইন শব্দটির অর্থ পরিকল্পনা বা নকশা।

গ্রাফিক ডিজাইন এর শুরুতে যা জানতে হবে: বর্তমানে গ্রাফিক ডিজাইন বলতে আমরা সেই সব চিত্র কর্মকে বুঝি যা পরবর্তীতে মূলত: ছাপার জন্য তৈরি হয়ে থাকে। তবে প্রযুক্তির প্রয়োজনে গ্রাফিক ডিজাইন শুধুমাত্র ছাপার গন্ডি পেরিয়ে বহুদূর চলে যাচ্ছে। গ্রাফিক ডিজাইন এর একান্তই অন্তর্ভুক্ত বিষয় গুলি হচ্ছে – ডিজিটাল সাইন, ক্যালেন্ডার, টাইপোগ্রাফি, ব্রোশিয়োর, ওয়েব সাইট ডিজাইন ইত্যাদি ইত্যাদি।
আরো একটা শব্দের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই ডেস্কটপ পাবলিশিং। একটি কথা মনে রাখতে হবে ডেস্কটপ পাবলিশিং এবং গ্রাফিক ডিজাইন হাতে হাত রেখে চলে। সংক্ষেপে যদি বলি, ডেস্কটপ পাবলিশিং হচ্ছে এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে কম্পিউটার এবং সফটওয়্যার ব্যবহার করে মুদ্রণ, ওয়েব, পুস্তিকা, বই, ব্যবসায়ীক কার্ড, ওয়েব পেজ হিসাবে মোবাইল ডিভাইসের জন্য ফরম্যাট,নথি উত্পাদন, গ্রিটিং কার্ড, ইত্যাদি তৈরি করা হয়।

https://www.youtube.com/watch?v=XxHAiReY7ow

লক্ষণীয়:
*গ্রাফিক ডিজাইন একটি সৃষ্টিশীল যার শিল্প পূর্ব শর্ত দৃষ্টি নন্দন হওয়া।
*মাথায় রাখতে হবে Final Output কি? Print না Video? শুরুতেই নির্ধারণ করে নিতে হবে-কি করবো? কাদের জন্য করবো? কিভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো ?

soikot
সৈকত ( ফ্রিল্যান্সর )

 

 

 

রং এবং তার ব্যবহার

রং কে এক সময় মনে করা হত বস্তুকে চিহ্নিত করবার উপকরণ-বস্তুই একটি দৃশ্যমান উপাদান যার সাহায্যে আমরা রংকে নির্ণয় করে থাকি। চিত্রকর্মে বহুদিন পর্যন্ত রং-এর স্বতন্ত্র সত্তা অপরিজ্ঞাত ছিলো। রং যে নিজস্ব আভায় একটি অস্তিত্ব বা সুনিশ্চয়তা সে সম্পর্কে এখনও সকলের ধারণা সুপরিস্ফুট নয়। চিত্রকর্মের ইতিহাসে দীর্ঘকাল পর্যন্ত রং- কে অলঙ্ককরণের উপায় হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। তাঁর ক্রিটিক অব জাজমেন্ট গ্রুপে রং সম্পর্কে প্রচলিত বিশ্বাসের কথাই বলেছেন চিত্রকর্মে, ভাস্কর্যে, ¯’পত্যে এবং উদ্যান-সজ্জায় গঠন-কৌশল এবং আকৃতিই সব কিছু। ……. রং ……. এর সাহায্যে এর ঔজ্জ্বল্য পায় কিন্তু রং আকৃতির সৌন্দর্যময়তার একটি অংশ মাত্র। আধুনিককালে চিত্রকর্মে রংকেই আকৃতির মূলধার বলা হচ্ছে অর্থাৎ রং অলঙ্করণ নয়, রংই অস্বিত্বের মূলে।

রং-এর বিভাগ বৈচিত্র্য সীমাহীন-কত প্রকার সম্ভাব্য মিশ্রণ এবং দীপ্তিগত প্রকাশ যে এর আছে তা সংক্ষিপ্ত গণনায় নির্ণয় করা যায় না। সুতরাং একজন শিল্পীর রং ব্যবহারের প্রচুর সুযোগ থাকে এবং চিত্তের সকল প্রকার ইঙ্গিত ও আশ্বাসকে রং-এর সাহায্যে তিনি প্রকাশ করতে পারেন। রং একটি অসাধারণ প্রকাশক্ষম শিল্প উপাদান এবং প্রকাশ-ক্ষমতার প্রাচুর্যেও কারণেই এর প্রয়োগবিধি জটিল এবং অনবরত পরিবর্তনশীল। কোন দৃষ্টিতে একজন শিল্পী রং-কে দেখেন এবং অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার আয়ত্তে আনেন তা নির্ণয় করা খুবই কঠিন। শিল্পী সত্তাতার উপলব্ধির একান্ত নির্জনতায় সত্যকে যেভাবে আবিস্কার করেন তারই দৃশ্যগত রূপন্তর ঘটে চিত্রকর্মে অকুন্ঠ বর্ণবিভার সাহায্যে। রং-এর অপব্যয়ে নয় কন্তিু নিগুঢ়তম পরীক্ষায় সূক্ষèতিসুক্ষè ব্যঞ্জনায়তার একটি যথার্থ প্রয়োগবিধি অনেকে আবিস্কার করবার চেষ্টা করেছেন কন্তিু বিধিপ্রকরণের মধ্যে তাকে কখনও আবদ্ধ রাখা সম্ভবপর হয়নি। প্রতিবারই নতুন আবিস্কারের মধ্যেই রংএর নির্মাল্য। প্রত্যেক শিল্পীই তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অন্তসার থেকে রংএর স্বভাবকে আবিস্কার করেন এবং নিজস্ব প্রয়োগ পদ্ধতি সুষ্পষ্ট করেন।

নিউটন পরীক্ষা করে দেখিয়েছিলেন, যদিও সূর্যালোক দৃশ্যত বর্ণ-বিভাগহীন, কন্তিু মূলত তা সাতটি বর্ণা রস্মির সম্মিলন-নীল লোহিত বা বেগুনী, গাঢ়নীলাভ, নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা এবং লাল। যে বস্তুতে সব কটি রং-এর প্রতিক্ষেপ ঘটে-তা সাদা দেখায়, আবার যে-বস্তু সব কটি একসঙ্গে শোষণ করে তা কালো দেখায়। শোষণের ফলে আলোর অভাব ঘটে, তাই কালো হচ্ছে সম্পূর্ণ অন্ধকার।

আলোর রষ্মি প্রতিবিন্বিত হলেই বস্তুতে রং পরিস্ফূট হয়। আমরা রং তখনই দেখি যখন বস্তুতে এক বা একাধিক আলোক-রষ্মি প্রতিবিন্বিত হয় এবং অবশিষ্ট রষ্মি গুলো শোষিত হয়। যে-রষ্মি গুলো শোষিত হয় সেগুলো সম্পূর্ণ হারিয়ে যায় এবং আমাদের দৃষ্টিতে ধরা পরে না। যে আলোক-রষ্মি বস্তুতে আপতিত হয়ে শোষিত হচ্ছে না অথবা বস্তুর মধ্য দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারছে না তার প্রতিক্ষেপ ঘটবে অর্থাৎ বস্তু সে-রষ্মিকে বিক্ষিপ্ত করবে। যে কৌণিকরূপে রষ্মি বস্তুর উপর নিক্ষিপ্ত হচ্ছে, বস্তুর একই কৌণিক পরিমাপে তাকে বিক্ষেপ করবে। কোন বস্তুর বহির্দেশ যদি অসমতল থাকে তবে তা নিস্তেজ বা অনুজ্জ্বল দেখাবে তার কারণ আপতিত আলো তীক্ষèভাবে প্রতিবিম্বিত না হয়ে যততত্র ছড়িয়ে পড়ে অর্থাৎ তা বহুকৌণিকতায় বিভক্ত হয়ে তীক্ষè তাহারিয়ে ফেলে। অন্যপক্ষে সুমসৃণ বস্তুর উপর নিক্ষিপ্ত আলোর বর্ণাঢ্যতা অসাধারণ উজ্জ্বল।

স্বচ্ছ বস্তুর মধ্য দিয়ে গমনকালে সূর্যকিরণের গতি বিবর্তিত হয়, কিন্তু যে-বস্তু আংশিকভাবে স্বচ্ছ কিছুর ষ্মিতারমধ্যে শোষিত হয় এবং কিছু রষ্মি বিক্ষিপ্ত হয়। কোনও ঘন কঠিন বস্তুই পুরোপুরি স্বচ্ছ নয় অথবা পুরোপুরি অস্বচ্ছও নয়। সকল বস্তুতেই আলোর কিছুটা শোষণ এবং কিছুটা প্রতিবিক্ষণ ঘটে। তাছাড়া বাতাস কখনই পুরোপুরি পরিস্কার নয়। তাই বাতাস ভেদ করে যে-সূর্যকিরণ নামে তার স্পর্শে বস্তুপুঞ্জ বিচিত্র আকৃতি ধারণ করে। তাই প্রায় সকল বস্তুর উপরেই রং-এর লীলা-বৈচিত্র্য ঘটে।

আলোর মধ্যেই যতো রং-এর খেলা। তাই আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে রং-এর পরিবর্তন ঘটে। তাছাড়া একটি বস্তুকে এদিক-ওদিক নাড়লে রং ও নড়াচড়া করে। এভাবে রং-এর পরিবর্তনের সঙ্গে বস্তুর আকৃতিরও পরিবর্তন ঘটে।

অনেক শিল্পী দৃষ্টিতে রং-এর যে বৈচিত্র্য ধরাপরে তার বিজ্ঞানগত বিশ্লেষণ করে তা প্রয়োগ করেছেন কন্তিু এ-রকম শিল্পী খুব কম। শিল্প একটি মানসপ্রক্রিয়া-বিজ্ঞানের বিচারকে শিল্প অস্বীকার করে না কন্তিু হৃদয়ের অভিপ্রায়কে সে মান্য করে। রং-এর বিমিশ্রণ কে শিল্পীর জানতে হয় এবং এভাবে প্রয়োগতজ্ঞানের সাহায্যে শিল্পী রং-এর তাৎপর্যকে প্রকাশ করেন। আলোর স্বাভাবিক আবহকে ব্যাখ্যা করবার জন্য বিভিন্নরূপে-এর বিমিশ্রণ ঘটাতে হয়। রং-এর বিভাজন-জনিত সিদ্ধান্তকে নিম্নরূপে উপস্থতি করা যায়:

হলুদ, লাল এবং নীল এ-তিনটি রং অবিমিশ্র মৌলিক। এগুলোকে প্রাইমারী রং বলা হয়। অন্যান্য রং এ-তিনটি রং-এর বিভিন্ন সংমিশ্রণে সৃষ্টি। আবার মৌলিক রং তিনটি যে- কোনও দুটির মিশ্রণে সেকেন্ডারী রং-এর সৃষ্টি হয়। সেকেন্ডারী বা দ্বৈত পর্যায়ের রং হচ্ছে কমলা (হলুদ+লাল); বেগুনী (লাল+নীল), সবুজ (নীল+হলুদ)। মিশ্রণের ঘনত্বের তারতম্যে এবং দুটি রং-এর পারস্পরিক অনুপাতের তারতম্যে সেকেন্ডারী রং-এর বিচিত্র বিভাজন ঘটানো যায়। যেমন সবুজ রংটি নীলের কাছাকাছি হতে পারে, আবার হয়তো হলুদের কাছাকাছি আসতে পারে। খাঁটি সবুজ নীল-হলুদের মাঝামাঝি।

for color

উপরের বৃত্তে যে কটি রং চিহ্নিত করা হয়েছে ঘনত্ব ও ঔজ্জ্বলের তারতম্যের ক্রম অনুসারে তার প্রত্যেকটিকে আবার ছ’ভাগে ভাগ করা যায়। এর ফলে মোট বাহাত্তুরটা রং পাওয়া যাবে। এভাবে অগ্রসর হয়ে আরও রং নির্ণয় করা যায়। উপরের বৃত্তে একটি রং-এর অবিকল বিপরীতে যে-রংটি আছে তার পরস্পর একে অন্যের অনুপূরক। লাল হচ্ছে সবুজের অনুপূরক। লাল-বেগুনী, হলুদ-সবুজের, বেগুনী হচ্ছে হলুদের ইত্যাদি। আলো যেমন অন্ধকারের বিপরীতে ধরা পরে অথবা উষ্ণতা শীতলতার, তেমনি অনুপুরক রং একে অন্যের বিরোধাভাসে ধরা পরে। কিন্তু দুটো অনুপূরক রং একে অন্যের সঙ্গে মিশ্রিত হলে তারা একে অন্যকে নিশ্চিহ্ন করে ধূসর বা কালো হয়ে যায়। তিনটি মৌলিক রং-এর যে- কোনও দুটির মিশ্রণে যে রংটি তৈরী হবে, তা হবে তৃতীয় রংটির অনুপূরক যেমন হলুদ ও নীলের সংমিশ্রনের তৈরী সবুজ হচ্ছে লাল রং-এর অনুপুরক। ইমপ্রেশনিষ্ট বা সংবেদনগ্রস্থ শিল্পীর মৌলিক বা প্রাথমিক রং-এ আঁকা কোনও বস্তুর ছায়াকে অনুপূরক রং-এ চিত্রিত করতেন।

শেজাঁ প্রথম প্রমাণ করলেন, দৃষ্টিতে বিভিন্ন রং-এর আনুপাতিক অপসৃয়মানতা আছে, অর্থাৎ একই সমতলে থাকলেও কোনও রং মনে হয় সামনে এগিয়ে আসছে এবং কোন রং পিছিয়ে যাচ্ছে। লাল রং-এর একটি স্বতঃসম্মুখবর্তিতা আছে। ক্যানভাসের যেখানেই এ রং-এর সংস্থাপন ঘটুকনা কেন মনে হবে অন্য সব রংকে ব্যবহার করা যায়। তাছাড়া আমাদের দৃষ্টিগত অনুভূতিতে রং-এর অপসৃয়মানতার যে স্বভাব ধরা পড়ছে তার সাহায্যে শিল্পীরা বস্তুর ঘনত্ব এবং পরিপ্রেক্ষিত নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছেন।

মতিস রং সম্পর্কে তাঁর প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, রং-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে চিত্রের প্রকাশময়তা কে যতটা সম্ভব সফল করা। প্যারিসে‘ ফভবাদ এসেছিলো প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড়ের মতো, স্বস্পকালীন বিক্ষুব্বতা শিল্প-জগৎ কে চিহ্নিত করেছিলো, অবিমিশ্র রং-এর প্রগলতায় ক্যানভাসকে আপ্লুত করেছিলো কিš‘ ফভবাদীদের মধ্যে বেঁচে রইলেন একমাত্র মাতিসতাঁর প্রকাশময়তার জন্য। আলোর অভিব্যঞ্জনা থেকে চিত্রকে মুক্ত করে, তথাকথিত বস্তুগত বর্ণসাক্ষ্য থেকে চিত্রকে অভিব্যক্তির বিভায় প্রকাশময় করে মাতিস জীবনকে নতুন ভাবে সম্ভাষণ করলেন। রং-এর ক্ষেত্রেই এ কথাটা সত্যি। চিত্র হচ্ছে ঐক্যতানের মতো। যেখানে রংই প্রধান সেখানে রং-এর সাহ্যয্যেই ফর্ম উদ্ভাসিত হচ্ছে এবং পরিসরের বন্ধন-সীমায় পরিপ্রেক্ষিত এবং গভীরতার ইঙ্গিতময়তা সৃষ্টি হচ্ছে।

(সৈয়দ আলী আহসান এর বই থেকে সংগৃহীত)

 

 

রেজুলেশন

গ্রাফিক্স টার্মিনোলজিতে রেজুলেশন দ্বারা প্রতি ইঞ্চিতে কি সংখ্যায় পিক্সেল রয়েছে তা বোঝান হয়।
পিপিআই (ppi) পিক্সেল পার ইঞ্চি।
ডিপিআই (dpi) ডটস পার ইঞ্চি।
এলপিআই (lpi) লাইনস পার ইঞ্চি।
ছবির রেজুলেশন সাধারণত এই তিন ভাবেই বোঝান হয়ে থাকে। ডট পার ইঞ্চি বা ডিপিআই দিয়ে বোঝান হয়

ইমেজিং ডিভাইসের আউটপুটকে, ছবির সত্যিকারের রেজুলেশন বোঝাতে ব্যবহার হয় পিক্সেল পার ইঞ্চি বা পিপিআই, আর লাইন পার ইঞ্চি বা এলপি আই দিয়ে বোঝান হয় কমা র্শিয়াল প্রিন্টিংগুলোর মাপ।
* আপনি যদি কোন ওয়েবসাইটে একটি ছবি পোস্ট করতে চান তাহলে, ছবিটি হতে হবে ৭২ ডিপিআই এর।
* আর যদি আপনি সেটি প্রিন্ট করতে চান তা হলে, এটি হতে হবে অন্তত: ৩০০ ডিপিআই এর।
৩০০ পিস্কেল পার ইঞ্চির একটি রেজুলেশন ছোট পিক্সেল প্রডিউস করবে। আর ৭২ পিক্সেল পার ইঞ্চি বড় পিক্সেল প্রডিউস করবে। আপনি যদি এমন কোন রেজুলেশন এন্টার করান যা খুবই কম,তাহলে পিক্সেলগুলো চোখে দেখা যাবে।
এখানে একই মাপের ছিবতে তিনটি ভিন্ন রেজুলেশন এর মাধ্যমে ছবির স্বচ্ছতার পার্থক্য পরিস্কার করে বোঝানো হয়েছে।

REsulation-1

আপনি যদি অনেক বেশি রেজুলেশন এন্টার করান, সেক্ষেত্রে প্রিন্টিং এর সময় আপনি চোখে কোন পরিবর্তন দেখতে না পেলেও, ছবিটি প্রিন্ট হতে অনেক বেশি সময় লাগবে।
প্রিন্ট সাইজ অনুযায়ি সবচেয়ে ভাল রেজুলেশন সিলেক্টকরা:
* ছোট প্রিন্ট কাছ থেকে দেখা হয়। আর তাই ছোট মাপের ছবির রেজুলেমন বেশী হোয়াই উচি‍‍‌‌‍ৎ।
* বড় প্রিন্ট সাধারণত কিছুটা দুর থেকে দেখা হয়, তাই ভাল বড় ছবির জন্য রেজুলেমন মধ্যম মানের হলেই চলে।
* অথাৎ প্রিন্ট সাইজ যত বড় হবে, রেজুলেশন ততটাই কম প্রয়োজন হবে।

ছবি: ১২০x৯০ ইঞ্চি রেজুলেশন : ২০ (সঠিক রেজুলেশন)
ছবি :১২০x৯০ ইঞ্চি রেজুলেশন : ১০০ (অপ্রয়োজনীয় রেজুলেশন)

উদাহরণ :
* একটি বিল বোর্ড সাইজের ছবির রেজুলেশন হয় ১০ থেকে ২০ পিপিআই।
* এর রেজুলেশন বেশি হওয়ার প্রয়োজন হয় না কারণ, যে ব্যাক্তি ছবিটি দেখবে সে অনেক দুর থেকে তা দেখবে।
* একটি ছবির সাইজ যদি ৩০x৪০ ইঞ্চি এবং এর রেজুলেশন যদি ৩০০ পিক্সেল হয় তাহলে এটি কত বড় সাইজে প্রিন্ট করা যাবে?
* ১০০ পিক্সেল রেজুলেশন মানে এর সাইজ হবে ১০০%। তাই ৩০০ পিক্সেল রেজুলেশন মানে,আপনি যখন প্রিন্ট করবেন এর সাইজ হবে ৩০০%। এতে ৩০x৪০ ইঞ্চি প্রিন্ট হতে পারে ৯০x১২০ ইঞ্চি সাইজে।
আপনি যদি একটি ছোট ছবিকে বড় করতে চান, তাহলে প্রথমে এটিকে ৩০০ ডিপিআই এ প্রিন্ট করুন। এবার ছবিটিকে ৬০০ ডিপিআই এ স্ক্যান করুন। এটি বড় রেজুলেশনে সেভ হবে। এবার ইমেজ >ইমেজ সাইজে >ইমেজটিকে রিস্যামপল করুন এবং ডিপিআই পরিবর্তন করে ৬০০ থেকে ৩০০ তে আনুন। ছবিটি বড় হয়ে যাবে এবং এটি হাই কোয়ালিটির ছবি হিসেবে সেভ হবে।
রুলস অব থাম্ব (Rules of Thumbs):

* কম রেজুলেশনের ছবি সাধারণত ডিজাইন করা হয় কম্পিউটার ডিসপ্লে বা মনিটরের জন্য। এটি সবচেয়ে ভাল বোঝান যায় পিক্সেল ডাইমেনশনে। যেমন- ৬৪০ পিক্সেল ওয়াইড ৪৮০ পিক্সেল।
* ইঙ্কজেট প্রিন্টার সাধারণত ১৮০ থেকে ৩৬০ পিপিআই রেজুলেশনে ভাল কাজ করে। যেমন- ১৮০ পিপিআই এ ৮x১০ ইঞ্চিতে।
* অফসেট প্রিন্টিং স্ট্যান্ডার্ড হলো ৩০০ পিপিআই।
* নিউজ পেপার প্রিন্ট সাধারণত ৮৫ এলপিআই রেজুলেশনে করা হয়। এতে ছবির সব চেয়ে ভাল রেজুলেশন হয় ১৭০ পিপিআই এ।
* ছবি সব সময়ই সঠিক অ্যাসপেক্ট রেশিওতে কাটতে বা ক্রপ করতে হয়। যেমন- ১০২৪x৭৬৮ হলো ৪:৩ অ্যাসপেক্টরেশিও। যেখানে ওয়াইড স্ক্রিনে ১৯২০x১০৮০ হলো ১৬:৯ অ্যাসপেক্টরেশিও। কোথায় কাটতে হবে তা বোঝা যায় কারণ এটি ছবির কম্পোজিশন পরিবর্তন করে দেয়। এছাড়াও, ছবিটি নির্দিষ্ট স্ক্রিনে ফিট করতে চাইলে আপনি ছবির পাশ দিয়ে বর্ডার ব্যবহার করতে পারেন।

নুরুল আযম মামুন মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার
নুরুল আযম মামুন মোশন গ্রাফিক্স ডিজাইনার

শিল্প কলার নানান মাধ্যমের মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন

মানব সভ্যতার উষালগ্ন থেকেই মানুষ তার প্রয়োজনের তাগিদে দৈনন্দিন কাজকর্মের সঙ্গে উপলব্দি করছে সত্য ও সুন্দরের উপাসনা করার, আর এই মানব সভ্যতার সবচাইতে পুরাতন সৃষ্টি হচ্ছে শিল্প কলা। সভ্যতার অন্যসব গুনাগুন থেকে যাকে কিছুতেই আলাদা করা যায় না।

Shilpokola মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি হলো মাটিতে,দেয়ালে,কাগজে, এমনকি বই পুস্তুকে দাগ কাটা বা রেখা টানা ।এই দাগ কাটা বা রেখা টানার স্বভাবই মানুষরে হৃদয় গভীরে লুকিয়ে থাকা শৈল্পিক অনুভুতিকে জাগ্রত করে।জাগ্রত করে রুপের কিংবা সৌন্দর্যের অনুভুতিকেও।খূ: পূ: ৩০০০, এই সময়কালের কোন এক সময় মানব সন্তানের কোন একজন যত্র-তত্র পড়ে থাকা হাড় কিংবা নল খাগড়ার টুকরো দিয়ে ভেজা নরম মাটিতে একান্ত মনের বশে দাগ কাটতে থাকে। সেই দাগ কাটার মধ্যদিয়েই মানব সভ্যতার বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। অবাক বিস্ময়ে পৃথিবীর মানুষ তাকিয়ে দেখে সেই হিজিবিজি দাগ বা রেখার মধ্যে জন্ম নিয়েছে আজকের উন্নত বিশ্ব আর সভ্য সমাজের অহংকার গুহাকৃতির অলেৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন বিশেষ ধরনের চিহ্ণ। যা পরবর্তী সময়ে “কিউনিফর্ম” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই কিউনিফর্মই লিখন পদ্ধতির আদিরূপ। ছবি আকাঁর শুরু এমন ধরনের দাগ কাটার মধ্যে দিয়ে।খৃ: পূ: ১০.০০০, যাকে শিল্পের শুভলগ্ন বা জন্মলগ্ন বলে গন্য করা হয়। এই সময় ম্যাগভেলিনিয়াম গুহাবাসী মানুষরে গুহাগাত্রে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমেই শুরু হয় চিত্র শিল্পের তথা শিল্প কলার সমস্ত পদচারনা।

আদিম যুগের গুহাবাসী মানুষ অন্ধকার গুহা থেকে বেরিয়ে যেদিন উন্মুক্ত পরিবেশে বসতি স্থাপন করে, প্রথম বীজ বপন করা তাদের রোপিত বীজ থেকে নরম তুলতুলে কচি চারা মাটির বুক চিরে যেদিন মুক্ত অলোয় আত্নপ্রকাশ করে, যেদনি তারা মাটির নিচের মহামুল্যবান রত্ন ভান্ডারের রহস্য উন্মোচন করে, পৃথিবীর প্রতিকুল কৌশল যেদিন তারা আয়ত্ত করতে উদ্যোগী হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যে দিন যোগাযোগ স্থাপনে সচেষ্ট হয়, প্রকৃতপক্ষে সেদিন থেকেই আধুনিক সভ্যতার সাথে গুহাগাত্রে শিল্পকলার চর্চার যে প্রচলন হয়েছিল তার অপ্রতিরোধ্য গতি বিশ্বের সর্বত্র অব্যাহত থাকে। বিশ্বের অনান্য অঞ্চলের মত ক্ষুদ্র এবং হত দরিদ্র বাংলাদেশেও শিল্প কলার গতি অব্যাহত রয়েছে। অব্যাহত গতিধারার অগ্রসরমান শিল্পের এই জগতটিকে বোধ করি একমাত্র জগত যার জন্য বাংলাদেশ আজ গর্ব করতে পারে।

শিল্প কি? ভাববাদী পন্ডিতদের মতে “মনোরম আকার দানের প্রচেষ্টা” এদিকে শিল্পকে বাস্তববাদী রস ও ভিন্ন অর্থে দাড় করানো| শিল্প তা কাজে সমাজের সদস্য হিসাবে একজনের অভিজ্ঞতার প্রতিফলন। আমরা চিন্তা জগতের বিস্তৃতির জায়গা করে দিয়ে বলতে পারি, শিল্প সৌন্দর্যানুভুতির প্রকাশ হতে পারে। আবার ব্যক্তির সামাজিক অভিজ্ঞতার অভিজ্ঞান ও হতে পারে।

শিল্প কলার নানান মাধ্যমের মধ্যে গ্রাফিক্স ডিজাইন হল আর্ট বা কলার অন্যতম একটি শাখা| ডিজাইনার তার কাজের মাধ্যমে শিল্প ব্যবহারকারীর মধ্যে একটি ভাল প্রভাব ফেলতে পারেন। যেটি সেই ব্যবহারকারীর মনে বিশেষ দাগ কাটে। তাই গ্রাফিক্স ডিজাইনার তিনিই যিনি গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কিছু রং, টাইপস ইমেজ এবং এ্যানিমেশন ব্যবহারের মাধ্যমে তার চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হন। এটার আউটপুট ডিজিটাল, প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া সহ নানান মাধ্যমে হতে পারে।

Shilpo Kola

শিল্পকলার গ্রাফিক্স জিজাইন হল এমন একটি শাখা যেখানে কাজের কোন সীমা পরিসীমা নেই। কি হয়না এমাধ্যমে। Paper Ad, Billboard, Hording, Pak Design, Foil Design, Product Animation, Book Cover, Illustration. Web Design, Set Design, 2D 3D Animation.

বাংলাদেশেরে প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয়ে চারু ও কারু কলা বিভাগ রয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রায় সব স্কুল ৮ম শ্রেনী পর্যন্ত ড্রইং বাধ্যতামূলক। আমার মতে একজন সৃজনশীল মানুষই পারে নিজ উদ্যোগে শিল্প চর্চা করতে এর উদাহরনও রয়েছে। তার পরও কথা থেকে যায়, যে কোন ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর কম্পোজিশান, ফর্ম, কালার, পার্সপেকটিভ, ডিজাইনের ধারনা থাকাটা প্রয়োজন। পাশাপশি কোন প্রডাক্ট বা যে জিনিসের ডিজাইন করতে হবে সেই সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা থাকতে হবে। ধরা যেতে পারে কবিতার ইলাসট্রেশন, Foil, TV-CG, Programme Titel, Product Payoff Line, Music GB সার্বিক বিষয়ে একজন ডিজাইনারের যদি সামান্য ধারনা না থাকে তাহলে তার করা ডিজাইন ভাল হওয়া যথেষ্ট কঠিন। আর এ জন্য প্রয়োজন অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠান থেকে শিল্প চর্চার প্রাথমিক ধারনা। তাহলে একজন সৃষ্ঠিশীল মানুষের কাছ থেকে আমরা একটি ভাল, দৃষ্টিনন্দন ডিজাইন পাব।

আমাদের দেশে এখন অনেক ভাল ভাল ডিজাইনার রয়েছেন যাদের কাজ আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে দেখতে পাই এবং সকলের কাছে তাদের কাজ প্রসংশীত। কিন্তু এরা কোন এক সময়ে কিছু একটার অভাব বোধ করেন যার প্রভাব তার কাজে পরে| তাদের করা সব ডিজাইন ঘুরে ফিরে মনের ভুলে একই রকম হয়ে যায়। এই শিল্পীরা যদি ডিজাইনের উপরে প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিল্প শিক্ষা গ্রহন করতেন তাহলে অবশ্যই আমরা আরো ভাল ভাল ডিজাইন পেতে পারতাম।

স্বাভাবিকভাবেই লোকে জানতে চায় একজন বড় শিল্পী কোন কলেজ বা ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করেছেন। তাতে শিল্পী বা কলেজ উভয়েরই মর্যাদা বাড়ে। ঠিক এরকমই এক ঘটনা ঘটেছিল ১৯৫৫ সালে চিত্র শিল্পী এ্যান্ড্র ওয়েথকে হার্ভাডের প্রেসিডেন্ট ন্যাথান প্যশে“ড.অব ফাইন আর্টস” সম্মানে ভুষিত করেন। তিনি কথার ছলে হাসতে হাসতে জিজ্ঞাস করেছিলেন আপনি কোন কলেজ থেকে পাশ করেছেন? “ওয়েথ হাসতে হাসতেই উত্তর দেন” আমি কোন কলেজে ঢুকিনি। এমনকি কখনও কোন স্কুলেও যাইনি।

এ্যাকাডেমিক্যালি তিনি কোন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেননি সত্যি, কিন্তু শিল্পগত ভাবে স্বীকার করতেই হবে যে তার বাবা এন.সি.ওয়েথই তার প্রথপ্রদর্শক ছিলেন। সুতরাং স্বীকার করতে হবে একজন ভাল ডিজাইনার হতে হলে অবশ্যই তাকে প্রথমে শিল্প মনা হতে হবে। শিল্পোকে বুঝতে হবে, ভালবাসতে হবে এবং সর্বপরি তাকে কোন স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে নুনতম ডিজাইন সম্পর্কে সাধারন জ্ঞান অর্জন করতে হবে।

খালেদ মাহমুদ রাজন ফ্রিলেন্স আর্টিস্ট
খালেদ মাহমুদ রাজন ফ্রিলেন্স আর্টিস্ট

ডিজাইন এর মৌলিক বিষয়

কিভাবে নকশা বা ডিজাইন করবো তা জানতে হলে প্রথমেই মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে। কারণ যেকোনো কিছুর ক্ষেত্রেই প্রাথমিক জ্ঞান সবচেয়ে জরুরি। গ্রাফিক্স ডিজাইন বলতে বোঝায় রং, আকার, আকৃতির সমন্বয়। এই ক্ষুদ্র বিষয়গুলো সুন্দরভাবে করেই একটি ডিজাইনের মুখ্য বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়। অর্থাৎ একটি ক্রিয়েটিভ প্রসেস বা আইডিয়া আর্ট ও টেকনোলজির সমন্বয়ে প্রকাশ করাই হচ্ছে গ্রাফিক্স ডিজাইন। আমরা যদি কাউকে ডিজাইনের কাজ শেখাতে যাই তাহলে প্রথমেই নিজেদের সর্বোচ্চ জ্ঞান থাকতে হবে।

যারা এখন পর্যন্ত জানেন না যে কিভাবে গ্রাফিক্স ডিজাইন করতে হয় তাদের জন্য কিছু নির্দেশিকা দেয়া হলো। লওর্যার‌্যান ম্যারি (Lauren Marie) একজন অ্যামেরিকান গ্রাফিক্স ডিজাইনার যার একটি আর্টিকেল নিয়ে নিচে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো।

রং:

Rong

একটি ডিজাইনের ক্ষেত্রে রংয়ের প্রভাব অনেক বেশি। এটি কেমন রূপ বা আকৃতি ধারণ করবে তা অনেকটাই নির্ভর করে রংয়ের উপর। যেমন লাল রং খুব কঠিন ও কড়া একটি প্রভাব বিস্তার করে যা ভালোবাসা, রাগ এবং উত্তেজনাকে বোঝায়। নীল ও সাদা রংয়ের ডিজাইনটির মধ্যে এক ধরনের শান্ত, শান্তিপ্রিয়, সুশীল এবং শুভ্রতা প্রকাশ পায়।

রেখা:

Rekha

ডিজাইনের ক্ষেত্রে এর লাইন বা রেখাটি কেমন হবে সোজা না চিকন বা পুরু ও সরু তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রকার বা প্রকৃতি কেমন দাঁড়াবে তা অনেকটাই লাইনের উপর নির্ভর করে। একটি পুরু রেখা বালক বা কিশোরদের মনোভাব ফুটিয়ে তোলে আবার একটি সোজা বা চিকন লাইন অনেক বেশি পরিশুদ্ধ ও বোধশক্তি সম্পূর্ণ। দুটি লাইনের মধ্যে কিভাবে পরস্পর ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া হবে তাও গুরুত্বপূর্ণ।

আকৃতি বা গঠন:

Gothon

কোন একটি ডিজাইনের গঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারণ এর দ্বারা বোঝা যায় যে নকশাটির আলোচ্য বিষয় কি নিয়ে। কোনযুক্ত যেমন চারকোণা বা ত্রিভুজ আকৃতির ডিজাইন পুং জাতীয় বিষয়কে বোঝায়। আবার সমতল বা বক্র রেখাগুলো স্ত্রী জাতীয়। চারকোণা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত একটি আকার ফলে এটা অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য ও স্থায়ী। আর গোলাকৃতির ডিজাইন আহলাদিত, শান্তিপ্রিয় ও ঐক্যতার রূপ তুলে ধরে।

আয়তন:

Ayoton

প্রতিটি গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে এর মৌলিক উপাদানগুলোর ভারসাম্য, রংয়ের ব্যবহার আকার ও আয়তনের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে।

স্থান:

Location

গ্রাফিক্সের ক্ষেত্রে স্থান মূলত একটি সুশীল ও সমৃদ্ধ বিষয়কে বোঝায়। ডিজাইনের যে অংশটি দেখলে চোখের শান্তি হবে যা দৃষ্টিসুলভ। যে নকশা যত হালকা তার ব্যাপ্তি তত বেশি। জায়গার অসৎ ব্যবহার একটি ডিজাইনকে কুৎসিত ও অসুভ করে তুলতে পারে। আবার ডিজাইনের ক্ষেত্রে অনেক বেশি খালি জায়গা থাকলে তা অসম্পূর্ণ মনে হতে পারে। ফলে ভেবেচিন্তে জায়গার যথাযথ ব্যবহার করা উচিত।

গঠন বিন্যাস:

Gothon Binnash

টেক্সচারের মাধ্যমে ডিজাইনের বাস্তবতা ফুটিয়ে তোলা হয়। চাক্ষুস সৌন্দর্য্য তুলে ধরতে এর কার্যকরী অনেক। এটি একটি ডিজাইনকে অনেক বেশি সুলভ ও তুলনাহীন করে তোলে।

মূল্য বা মর্যাদা:

Price

কোন একটি ডিজাইনের মূল্য তার একতা অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়। এটা খুবই অসাধারণ একটি কৌশল যার কারণে কেন্দ্রীয় বিষয়টি নজর কাড়ে। এটি দ্বারা প্রত্যেকটি অংশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়।

গ্রাফিক্স ডিজাইনের উদ্দেশ্য:

Uddeswo

গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রধান উদ্দেশ্য হলো যোগাযোগ বা সমন্বয়। একটি নকশা সম্পূর্ণ হওয়ার পর যদি আমরা নিজেকে প্রশ্ন করি যে কিভাবে প্রতিটি উপাদান ব্যবহার করা হলো বা কোন রং কেন ব্যবহার হলো, তাহলে এর উদ্দেশ্য জানা যাবে। আপনার আশেপাশের বস্তুগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য করুন দেখুন তাতে একটি ডিজাইন আছে এবং তা একটি অর্থও প্রকাশ করছে এবং তার একটি প্রয়োজনও আছে। মূলত এ বিষয়গুলোর জন্যই গ্রাফিক্স ডিজাইন।

লেখাটির ছবি ইন্টারনেট থেকে নেয়া

 

অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

কালার সাইকোলজি ইন মার্কেটিং

মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে আমরা কোন কালারটি বেছে নেবো? কেন আমরা একটি রঙ পছন্দ করবো ? আমাদের মাথায় কি কোনো আলাদা মার্কেটিং এর চিন্তা আছে ? রঙ আমাদের দর্শককে নির্দিষ্ট ম্যাসেজ দিতে পারে; এটা গুরুত্বপূর্ণ ভিজুয়াল আকর্ষণ তৈরি করে। আপনি কি জানেন যে এই ম্যাসেজটা কী?

Colour-Technology-2

মার্কেটিং এর ডিজাইনের সময় বুদ্ধিমানের মতো রঙের মানসিকতা বুঝে বাছাই করতে হবে। বিজনেস কার্ড, ভাউচার, ওয়েবসাইট যাই হোক না কেন তা ভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। আর রঙ শুধু জিনিসটির গুরুত্বই বাড়ায় না, বরং আমাদের আচরণেও প্রভাব ফেলে। আর যদি আমরা আমাদের টার্গেট কাস্টমারের মানসিকতা বুঝতে পারি তাহলে রঙ বাছাই করাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
যেমন, আমরা লক্ষ্য করবো যে, ফাস্টফুডের রেস্টুরেন্টগুলো গাঢ় লাল ও কমলা রঙ দিয়ে ডেকোরেশন করা থাকে। গবেষণা বলে যে, এই রঙ দুটি দ্রুত খেয়ে স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ। ফাস্টফুডের রেস্টুরেন্টে এমনই হওয়া উচিত তাই এ রঙ দুটি ব্যবহার করে থাকে।
এডাল্ট ওয়েব সাইটগুলোতে পাবেন অনেক লাল ও কালো রঙের সমাহার। বস্তুত এটা যৌন আবেদন নির্দেশ করে।
বাচ্চাদের বই বা খেলনাতে থাকে উজ্জল রঙের ব্যবহার। শিশুরা এমন রঙ ইতিবাচকভাবে সহজেই ধারণ করতে পারে এবং তা প্রয়োগের চেষ্টা করে।

সংস্কৃতি ভেদে রঙের অর্থ ও ব্যবহার ভিন্ন হয় বলে টার্গেট অডিয়েন্সের রুচি ও সংস্কৃতি অনুযায়ী রঙের প্রয়োগ ঘটাতে হবে।
যেমন, চায়না সংস্কৃতিতে সাদা হলো মৃত্যুর রঙ, কিন্তু ব্রাজিলে মৃত্যুর রঙ হলো বেগুনি। চীনে হলুদ রঙ পবিত্রতার প্রতীক, কিন্তু গ্রিসে তা দুঃখ এবং ফ্রান্সে তা ঈর্ষার প্রতীক। উত্তর আমেরিকায় সবুজ মূলত ঈর্ষা বোঝায়। উত্তর আমেরিকায় মূলধারার সংস্কৃতিতে নিচের রঙগুলো এই ধরনের অর্থ প্রকাশ করে থাকে।
লাল – উত্তেজনা, শক্তি, যৌন, আবেগ, গতি, বিপদ
নীল – (সবচেয়ে জনপ্রিয় রঙ হিসাবে তালিকাভুক্ত) বিশ্বাস, নির্ভরযোগ্যতা, একাত্মতার, অমিল
হলুদ – উষ্ণতা, রোদ, খাওয়াদাওয়া, সুখ
কমলা – উষ্ণতা, স্পন্দনশীল
সবুজ – প্রকৃতি, তাজা, শান্ত, বৃদ্ধি, প্রাচুর্য
বেগুনি – রাজকীয়, আধ্যাত্মিকতা, মর্যাদা
পিঙ্ক – নরম, মিষ্টি, শিক্ষাদান, নিরাপত্তা
হোয়াইট – হালকা, তেজী, বিশুদ্ধ, কুমারী, পরিষ্কার
কালো – কুতর্ক, মার্জিত, প্রলোভনসঙ্কুল, রহস্য
গোল্ড – প্রতিপত্তি, ব্যয়বহুল
সিলভার – প্রতিপত্তি, ঠাণ্ডা, বৈজ্ঞানিক

মার্কেট গবেষকদের মতে, কাস্টমারের কেনাকাটার বিষয়টি অনেকটাই রঙের উপর নির্ভর করে। সাধারণত ইমপালস কাস্টমাররা লাল, কমলা, কালো এবং গাঢ় নীল রঙ দেখে প্রভাবিত হয়ে থাকে। অনেকটা রঙ দ্বারা প্ররোচিত হয়েই তারা কোনো অপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনে থাকে। যারা বাজেট করে শপিং করে তারা মূলত গোলাপী, হালকা নীল, নেভি ব্লু এ ধরনের রঙের বিষয়ে আকৃষ্ট হয়ে থাকে। আর ট্রেডিশনাল ক্রেতারা হালকা গোলাপী, গোলাপী, আকাশি রঙ পছন্দ করে।

অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

অর্নব নাসির, ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)