স্টিল লাইফ পেইন্টিং ( চিত্রকর্ম )

চিত্রকর্ম এমন একটি বিষয় যা কমবেশি সবার পছন্দ। এই শিল্পটি ছোট-বড় সবাইকেই আকৃষ্ট করে থাকে। এমন অনেক স্বল্প অভিজ্ঞতার চিত্র শিল্পী রয়েছেন যারা তাদের সীমিত জ্ঞানটুকু অল্পবয়সী ছেলেমেয়েদের শেখানোর চেষ্টা করেন এবং কর্মজীবনের সূচনা হিসেবে নিতে চান। সেইসব প্রশংসনীয় ও সাহসী ব্যক্তিদের জন্য কিছু নির্দেশনা আমরা এ অধ্যায়-এ আলোচনা করবো।
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো কিভাবে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের ছবি আঁকানো শেখানো যায়।
বেশিরভাগ সময় পেইন্টিং শেখানোর দায়িত্ব এমন শিক্ষকদের দেয়া হয় যাদের এই ব্যাপারে খুব সীমিত জ্ঞান রয়েছে। সকল ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালক ও শিশুদের শিক্ষা প্রদানের সুযোগ সুবিধা মাধ্যমিক স্কুল শিক্ষকদের কাছ থেকে আশা করা হয়। আর উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষকদের কাছ থেকে উন্নতমানের কিছু কাজ আশা করা হয়।
যুক্তরাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিল্পকলার জন্য কিছু সময় বণ্টন করে দেয়া হয়। এটি সাধারণত সপ্তাহে এক থেকে দুই ঘণ্টা হয়ে থাকে। যেহেতু চিত্র শিল্পটা অনেক সময়ের ব্যাপার সেহেতু প্র্রতিটি পদক্ষেপে একটি করে কৌশল অবলম্বন করা উচিত। তবে প্রতিটি আর্ট শিক্ষক শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছু পদ্ধতি বা কৌশল গ্রহণ করে থাকেন।
আঁকা-আঁকির বিষয়টি খুবই সোজা একটি জিনিস। টেলিভিশন এবং ওয়েব সাইডের বিভিন্ন ডকুমেন্টারি দেখে শেখা যায়। যেমন টেবিলে একটি ফুলদানি রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের সেটাই আঁকতে বলা যেতে পারে।
চিত্রশিল্পের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি যেটা সেটা হচ্ছে: প্রথমে ভালোভাবে নিশ্চিত হতে হবে আমি কি শিখতে চাচ্ছি। তারপর বিষয়টি আঁকা শুরু করতে হবে। আরো পরিষ্কার করে বললে, শিল্পকলা হচ্ছে নিম্নে লিখিত বিষয়গুলোর ভারসাম্য রক্ষার শিক্ষা:
• প্রথমে চিত্রাকারকে দেখার চোখ তৈরি করতে হবে
• শিল্পকলার জন্য দক্ষতা ও কৌশল তৈরি করা
• সৃজনশীলতার লালন-পালন ও প্রতিপালন করা
• শিল্পকলার জ্ঞান উপলব্ধি করা
• কাজ শুরু পূর্বে একটি নকশা তৈরি করা
• শিক্ষার্থীদে কিভাবে শেখাবো তার পরিকল্পনা করা
স্টিল লাইফ পেইন্টিং হচ্ছে ছবি আঁকা শেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মূল বিষয়।

পেন্সিল স্টিল লাইফ:
একটি টেবিলে চারটি মজাদার বস্তু রাখবো। তারপর বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবিগুলোর স্কেচ তৈরি করতে হবে। এরপর ছবিটি স্টিল লাইফ আকারে সেড দিতে হবে। এতে ছবি আঁকতে ২-৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।

পেন্সিল স্টিল লাইফ
পেন্সিল স্টিল লাইফ

কালীর স্টিল লাইফ:

এক্ষেত্রেও টেবিলে চারটি মজাদার বস্তু রাখবো। তারপর বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে ছবিগুলো pen and nib with Indian ink দ্বারা আঁকতে হবে। এরপর ছবিটি স্টিল লাইফ আকারে সেড দিতে হবে। এতে ছবি আঁকতে ২-৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।

কালীর স্টিল লাইফ
কালীর স্টিল লাইফ

কাঠকয়লা স্টিফ লাইফ পেইন্টিং:

এক্ষেত্রেও টেবিলে চারটি মজাদার বস্তু রাখবো। তারপর চারদকি থেকে ছবিগুলো পরিদর্শন করে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকটি বের করতে হবে। এক্ষেত্রে ছবিটি চক দিয়ে আঁকতে হবে। এ পদ্ধতিতে ছবি আঁকতে সাধারণত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা সময় লেগে থাকে।

কাঠকয়লা স্টিফ লাইফ পেইন্টিং
কাঠকয়লা স্টিফ লাইফ পেইন্টিং

মোমের স্টিল লাইফ পেইন্টিং:
এ ছবিটি আঁকার ক্ষেত্রে আমরা প্রথমে চারটি বস্তু একটি জায়গায় রাখবো। তারপর ভালোভাবে এর গঠনটি পর্যবক্ষেণ করতে হবে এবং এর আকর্ষণীয় দিকটি বের করবো। এক্ষেত্রে ছবিটি আমরা মোমের রং দিয়ে আঁকবো এবং ছবির ভেতরে প্র্রতিটি অংশ ভরাট করবো। এতে ছবি আঁকতে ২-৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।

মোমের স্টিল লাইফ পেইন্টিং
মোমের স্টিল লাইফ পেইন্টিং

Tonal Exercise:
এ ছবিটি আঁকার ক্ষেত্রে আমরা প্রথমে চারটি বস্তু একটি জায়গায় রাখবো। তারপর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে এ সবচেয়ে দৃশ্যমান বিষয়টি বের করতে হবে। এ ছবি আঁকার ক্ষেত্রে যেকোনো একটি রং ব্যবহার করতে হবে। তবে এর ব্যাকগ্রাউন্ডটা কালো ও বেসটা সাদা রং করতে হবে। এ ছবি আঁকতেও ২-৪ ঘণ্টা সময় লাগবে।

Tonal Exercise
Tonal Exercise

টুকরা কাপড় বা কাগজ দ্বারা স্টিল লাইফ:
এ ছবিটি আমরা রং-বেরংয়ের টুকরা কাপড় বা কাগজ দিয়ে আঁকবো। এক্ষেত্রে প্রথমে চারটি বস্তু একটি টেবিলের উপর রাখবো। তারপর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে এর সবচেয়ে দৃশ্যমান বিষয়টি বের করতে হবে। এ ছবি রং করার ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন রংয়ের কাগজ ব্যবহার করবো।

টুকরা কাপড় বা কাগজ দ্বারা স্টিল লাইফ
টুকরা কাপড় বা কাগজ দ্বারা স্টিল লাইফ

লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
লিখেছেন:অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

স্টিল লাইফ পেইন্টিং-০২

স্টিল লাইফ পেইন্টিং-০২ আমরা আমাদের আশপাশ যেসকল জিনিস দেখে থাকি সেসব জিনিসের চিত্রাঙ্কনের নিয়মাবলীগুলো হলো:
১. ছবি আঁকার পূর্বে আমাদের সরাসরি আলোর উৎস নিশ্চিত করতে হবে। যাতে রুমের যেদিক থেকেই দেখি না কেন যে বস্তুটির ছবি আঁকা হবে তার উপর আলো পড়ে।

Still life Painting 2.1

২. এই ধাপে এসে একটি কার্ডবোর্ডকে আয়তাকার করে কাটত হবে। কার্ডবোর্ডটিকে এমনভাবে বস্তুটির উপর ধরতে হবে যাতে দেখে মনে হয় একটি ফ্রেম।

Still life Painting 2.2

৩. পরে একটি সাদা কাগজে আয়তাকার করে পেন্সিল দিয়ে বক্স আঁকতে হবে। পরে চার দিকেই ঠিক মাঝ বরাবর পয়েন্ট করতে হবে। যা ছবিটিতে লাল রঙ দিয়ে মার্ক করা হয়েছে।

Still life Painting 2.3

৪. প্রথমে কিনারা ঘেষে ছবি আঁকা শুরু করতে হবে যাতে পরবর্তীতে জায়গার কমতি না হয়। প্রথমে বামে পাশে একটি বক্র রেখা দিতে হবে। তারপর যে বস্তুর ছবি আঁকবো তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোন জিনিসটি কোন সাইডে রয়েছে।

Still life Painting 2.4

৫. আয়তাকার আকারে কাটা কার্ডবোর্ডটি ফ্রেম আকারে বস্তুটির উপর বসাতে হবে। পরে পেন্সিলটি ফ্রেমের বাম পাশের নিচের কোনায় বসিয়ে ৬০ ডিগ্র্রি কোন আকারে ধরতে হবে। এতে ছবির অ্যাঙ্গেলটি ঠিক থাকবে।
Still life Painting 2.5
৬. এরপর প্রথমে ছবির আউটলাইনগুলো দিতে হবে। প্র্রতিটি লাইন হালকা করে পেন্সিল দিয়ে আঁকতে হবে।

Still life Painting 2.6

৭. এখন ছবির বাইরের অংশগুলো মার্ক করতে হবে। এখানে লাল রঙ দ্বারা পয়েন্ট করা হয়েছে।

Still life Painting 2.7

৮. এখন ছবিটি এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখ দিয়ে দেখতে হবে। এতে ছবিটি সমতল হয়েছে কি-না তা বোঝা যাবে। আর এক্ষেত্রে প্রতিবার আমাদের একটি চোখই বন্ধ করতে হবে। প্রথমবার যদি বাম চোখ বন্ধ করি তাহলে পরবর্তীতে একই চোখ বন্ধ করতে হবে। যাতে করে ছবিটির গঠন তৈরি করার সময় তালগোল না পাকিয়ে যায়।
৯. ছবিটি আঁকার সময় আমাদেরকে অবশ্যই মূল বস্তুটি যতবার সম্ভব দেখতে হবে। চিত্রাঙ্কনে কোনো ধরনের অসাঞ্জস্যতা এড়িয়ে চলতে এটি জরুরি।

Still life Painting 2.8

১০. যখনই কোনো ভুল চোখে পড়বে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলতে হবে। অন্যথায় ছবিটি ভুল আকৃতি ধারণ করতে পারে।
১১. ছবিটিকে পুরোপুরি আকৃতি দেয়ার পর প্রতিটি আউট লাইনকে গাড় করতে হবে। এরপর ভেতরে অংশগুলোতে স্কেচ করতে হবে।

Still life Painting 2.9

১২. ছবিটি আঁকার সময় একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন ছায়ার পাশগুলো কালো এবং আলোর পাশগুলো সাদা থাকে। এতে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে।
Still life Painting 2.10
১৩. ছবির চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে কিছুক্ষণ ছবি আঁকা বন্ধ করে হাটাহাটি অথবা বিশ্রাম করতে হবে। এতে করে আসল বস্তুটির সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকলে তা চোখে পড়বে। মূল বস্তুর সঙ্গে কোনো অমিল পাওয়া গেলে তা ঠিক করতে হবে। আর এরপরই আমরা পেয়ে যাবো আকর্ষনীয় ও চমৎকার একটি স্টিল লাইফ পেইন্টিং।
Still life Painting 2.11

স্টিল লাইফ পেইন্টিং – ০১

যা কিছু দেখা যায় তা আঁকাও যায়, এটা সম্পূর্ণ মনন ও চিন্তনের বিষয়। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ তার নিজের মনের মতো করে ছবির ভাষায় বলতে পারে। আমরাও পারবো, আমাদের সবার দ্বারাই সম্ভব, শুধু প্রয়োজন নিজেকে একটু জাগিয়ে তোলা। চিত্র শিল্প বা আঁকাঝোকার একটি অন্যতম সহজ ও আকর্ষণীয় পদ্ধতি হচ্ছে স্টিল লাইফ পেইন্টিং যাকে বলে জীবন্ত অঙ্কন।
স্টিল লাইফ পেইন্টিং কি?
স্টিল লাইফ পেইন্টিং মূলত প্রাচীন রোমান ও গ্রিক থেকে এসেছে। সতেরো শতাব্দীর আগে এটি মূলত ধর্ম বিষয়ক প্রতীকীর ক্ষেত্রে তৈরি করা হতো। কিন্তু পরে হল্যান্ডের মতো কিছু প্রতিবাদী দেশে স্টিল লাইফ চিত্রকর্মের মূল্য বেড়ে যায়। ১৮ শতাব্দীর পরে সর্বস্তরে এটি প্রধান শিল্পকর্ম হিসেবে স্বীকৃত পায়।
লাইফ পেইন্টিং সাধারণত ফল, ফুল, পাখি, নদী, গাছ এবং আমাদের গৃহস্থালী সামগ্রীর প্রাণহীন প্রতিছবি। এটি আমরা আমাদের টেবলি বা সেল্ফে সাজিয়ে রাখতে পারি। একজন চিত্রশিল্পী বিভিন্ন কারণে জীবন্ত ছবি অঙ্কন করে থাকেন। সেগুলো হলো:
• ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশ ও তা সবার মাঝ ফুটিয়ে তোলা
• একটি সুপ্ত ধারণা বা লেখা প্রকাশ করা
• কোনো অস্থায়ী বস্তুর (ফুল, ফল) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য ধারণ করা
• একটি সাক্ষাৎ উপাদানকে অশরীরী কাঠামোতে নিয়ন্ত্রণ করা
আগে জীবন্ত অঙ্কনকে একটি ক্ষুদ্রমাপের চিত্রশিল্প বলে মনে করা হতো। কিন্তু কিছু চিত্রশিল্পীর বাস্তবসম্মত লাইফ পেইন্টিং মানুষের সেই চিন্তাধারা বদলে দিয়েছে। তারা তাদের সৃজনশীলতা দ্বারা সমাজের বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।

Still life Painting 1.1

জীবন্ত অঙ্কন দ্বারা আমরা ছবি আঁকার বেশকিছু পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু পদ্ধতি হলো:
• ছবি আঁকার মৌলিক কৌশল শেখা যাবে
• কাঠপেন্সিল, চক এবং মোমের রঙের ব্যবহার সম্পর্কে জানা যাবে
• রঙ নিয়ে খেলার সহজ পদ্ধতি জানা যাবে।
এছাড়া লাইফ পেইন্টিং সেই সব শিল্পীদের কাজের একটি মাধ্যম তৈরি করে দিয়েছে যারা তাদের নিজস্ব বিশ্বকে সবার মাঝে জাহির করতে চান।

Still life Painting 1.2

চিত্রাঙ্কন শেখার ক্ষেত্রে লাইফ পেইন্টিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কারণ এর মাধ্যমে ছবি আঁকার প্রাথমিক নিয়ম জানা যায়। এটি দ্বারা আমরা জানতে পারি কিভাবে একটি বস্তুকে একজন চিত্রশিল্পীর দৃষ্টিকোন থেকে দেখতে হবে। অর্থাৎ এটি আমাদের একটি চিত্রাঙ্কনের সীমারেখা, আকৃতি, অনুপাত, রঙ, এবং রঙের মিশ্রণ সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে।

জীবন্ত ছবি আঁকার উপকরণ:

Still life Painting 1.3

লাইফ পেইন্টিংয়ের জন্য আমাদের যে সকল জিনিস দরকার হয় সেগুলো হলো:
• টু-বি পেন্সিল
• রাবার
• এ-থ্রি সাইজের কাগজ বা কার্তুজ কাগজ
স্টিল লাইফ পেইন্টিংয়ের নিয়মাবলী
আমরা এখানে দুইটি পদ্ধতিতে লাইফ পেইন্টিংয়ের নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছি। পদ্ধতি দুইটি হলো:

প্রথম ধাপ:

Still life Painting 1.4

প্রতিটি স্টিল লাইফের ক্ষেত্রে এমনভাবে ছবি আঁকতে হবে যাতে দেখে মনে হয় বস্তুগুলো একটি স্বচ্ছ তারের উপর অবস্থান করছে। এ পদ্ধতিতে চিত্রাঙ্কনের সুবিধা হলো যে প্রতিটি গঠনের আকারও অবস্থানের ব্যাপার সচতেন থাকা যাবে। পরবর্তীতে ছবির নকশা বা গঠনে যেকোনো ধরনের পরবির্তনে সহজে মুছে ফেলার জন্য প্রতিটি নকশা হালকা করে আঁকা জরুরি।

দ্বিতীয় ধাপ:

Still life Painting 1.5

স্টিল লাইফ অঙ্কনের ক্ষেত্রে কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে যা ছবির গঠনকে আরো কৌতুহলী করে তুলবে। ছবি আঁকার সময় এর মাত্রা, রেখা, আকার এবং রঙের ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে।
নিচের ছবিটিতে আমরা দেখতে পারছি যে ছবিটি একটি স্বচ্ছ তারের উপর নির্ভর করছে। যার ফলে ছবি আঁকার সময় একটির সঙ্গে অন্যটির সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করছে।

তৃতীয় ধাপ:

Still life Painting 1.6

স্টিল লাইফ ছবিটি আঁকার পর এর আকার, আয়তন এবং গঠন নিয়ে যদি আমরা সন্তুষ্ট থাকি তাহলে কাগজে নির্মিত স্বচ্ছ রেখাগুলো মুছে ফেলতে হবে। এরপর আমরা একটি সুষ্পষ্ট ও সঠিক আকার দেখতে পারবো। তখন দেখবো যে প্রতিটি বস্তু তার সঠিক জায়গায় রয়েছে।
এখান আমরা নিচের ছবিটি যদি আগরে ছবির সঙ্গে তুলনা করি তাহলে দেখবো যে উপরের ছবিটি অনেক বেশি অষ্পষ্ট। ছবিগুলো দেখতেও অনেক অপরচ্ছিন্ন লাগছে। কিন্তু নিচের ছবিটি অনেক বেশি পরিষ্কার ও স্বচ্ছ।

চতুর্থ ধাপ:

Still life Painting 1.7

এখন ছবির প্রতিটি আকারে হালকা করে স্কেচ করতে হবে। পেন্সিল দিয়ে ছবিগুলোর ভেতরে হালকা করে দাগ দিতে হবে।

পঞ্চম ধাপ:

Still life Painting 1.8
Still life Painting 1.8

উপরে চারটি ধাপে আমরা শিখেছি যে কিভাবে ছবির আকার ও গঠন আঁকতে হয়। এখন ৫-৮ নম্বর ধাপে আমরা স্কেচিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরভাবে ছবির আকৃতিটি ফুটিয়ে তুলবো।

ষষ্ঠ ধাপ:

Still life Painting 1.9

এই ধাপে এসে আমরা প্রতিটি ছবির মাঝে যে দূরত্ব রয়েছে তার উপর জোর দেবো। যাতে চিত্রাঙ্কনটি দেখে বোঝা যায় যে এর ভেতর অনেকগুলো বস্তুর সমন্বয় ঘটানো হয়েছে।
অর্থাৎ যতটুকু গুরুত্বের সঙ্গে আমরা উপরের অংশগুলো শেষ করেছি ঠিক ততটুকু গুরুত্বের সঙ্গে ছবিতে স্কেচ করবো।

সপ্তম ধাপ:

Still life Painting 1.10

এই স্টেপে এসে আমরা ছবির পেছনের অংশে জোর দেবো। এখানে ছবির বৈষ্যমের উপর জোর দেবো। যেমন কোথাও হালকা প্রতিছবি হবে আবার কোথাও গাড়। এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। এতে ছবিটি অনেক বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠবে। অর্থাৎ এই ধাপে এসে একটি জিনিসের উপর লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে স্কেচিংয়ের ক্ষেত্রে ভারসাম্যটা ঠিক থাকে।

অষ্টম ধাপ:

Still life Painting 1.11

সবশেষ আবারো ছবির বস্তুগুলোর মাঝে যে দূরত্ব তার বৈষম্যের দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যাতে এর মাঝে আলো ছায়ার একটি খেলা বোঝা যায়। অর্থাৎ ছবির মধ্যে যে দূরত্বগুলো রয়েছে সেগুলো হালকা করতে হবে। আর প্রতিটি বস্তুর পেছনের অংশটুকু গাড় করতে হবে যেনো মনে হয় যে সেগুলো বস্তুর ছায়া।

রং এর পরিভাষা

আমাদের যদি পরিপূর্ণ রং এর পরিভাষা জানা থাকে তাহলে কিভাবে কোন রঙ কোথায় ব্যবহার করবো তা অনেক সহজ হয়ে যাবে। এটি আমাদের শব্দাবলীকে খুব সহজেই কোনো চিত্র বা ডিজাইনে ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে।

যোজনীয় ও হ্রাসমূলক

Colour-7.1

যোজনীর রঙ রঙ্গীন আলোর সংমিশ্রণে তৈরি হয়ে থাকে। টেলিভিশনের স্ক্রিনের রঙ একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে। যোজনীর প্রাথমিক রঙগুলো হলো লাল, সবুজ এবং নীল।
রঙের বর্ণচ্ছটা

Colour-7.2

বর্ণচ্ছটা বলতে বোঝায় প্রাকৃতিক অনুক্রমে সাজানো রঙধনুর মতো একটি সাদৃশ্য। এর রঙগুলো হলো: লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল, বেগুনী এবং বেগনী নীলবর্ণ।

রঙের বিন্যাস

Colour-7.3

রঙের বিন্যাস বলতে মূলত একটি বৃত্তাকার আদেশ বোঝায়। আর এই বৃত্তটি আমাদের প্রাথমিক, গৌণ ও তৃতীয় রঙের মধ্যে সমন্বয় ঘটাতে সাহায্য করে।

প্রাথমিক রঙ

Colour-7.4

লাল, হলুদ এবং নীল হলো প্রাথমিক রঙ। এই তিনটিই মৌলিক রঙ, যা ব্যবহার করে আমরা রঙের বিন্যাস ঘটাতে পারি। এ রঙগুলোর সংমিশ্রণে আরো রঙ তৈরি করা যায়, যেমন: নীল ও হলুদের মিশ্রণে তৈরি হয় সবুজ।

গৌণ রঙ

Colour-7.5

কমলা, সবুজ এবং বেগুনী এ তিনটিহলো গৌণ রঙ। এগুলো দুইটি মৌলিক রঙের মিশ্রণে তৈরি হয়। যেমন: লাল ও নীল দিয়ে তৈরি হয় বেগুনী।

তৃতীয় রঙ

Colour-7.6

তৃতীয় রঙের বিষয়টি খুব সূক্ষ্ম ও কৌশলের বিষয়। এটি প্রাথমিক ও গৌণ রঙের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়।

অনুরূপ রঙ

Colour-7.7

অনুরূপ রঙ দ্বারা বোঝায় নিকটস্থ দুটি রঙের মিশ্রণ। যেমন: লাল বেগুনী ও বেগুনী দিয়ে গাঢ় বেগুনী রঙ তৈরি হবে।

বিপরীত ও সম্পূরক রঙ

Colour-7.8

বিপরীত রঙের মিশ্রণেও ভিন্ন একটি রঙ তৈরি করা সম্ভব। দুটি মৌলিক অথবা দুটি গৌণ রঙ দ্বারা নতুন একটি রঙ তৈরি করা যায়। যেমন: লাল ও সবুজ অথবা নীল ও কমলার মিশ্রণে নতুন রঙ বানানো সম্ভব।

 

অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)
অর্নব নাসির ছাত্রী (ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়)

 

স্টিল লাইফ পেইন্টিং-০২

(স্টিল লাইফ পেইন্টিং) আমরা আমাদের আশপাশ যেসকল জিনিস দেখে থাকি সেসব জিনিসের চিত্রাঙ্কনের নিয়মাবলীগুলো হলো:

১. ছবি আঁকার পূর্বে আমাদের সরাসরি আলোর উৎস নিশ্চিত করতে হবে। যাতে রুমের যেদিক থেকেই দেখি না কেন যে বস্তুটির ছবি আঁকা হবে তার উপর আলো পড়ে।

Still-Life2-1

২. এই ধাপে এসে একটি কার্ডবোর্ডকে আয়তাকার করে কাটত হবে। কার্ডবোর্ডটিকে এমনভাবে বস্তুটির উপর ধরতে হবে যাতে দেখে মনে হয় একটি ফ্রেম।

Still-Life2-2

৩. পরে একটি সাদা কাগজে আয়তাকার করে পেন্সিল দিয়ে বক্স আঁকতে হবে। পরে চার দিকেই ঠিক মাঝ বরাবর পয়েন্ট করতে হবে। যা ছবিটিতে লাল রঙ দিয়ে মার্ক করা হয়েছে।

Still-Life2-3

৪. প্রথমে কিনারা ঘেষে ছবি আঁকা শুরু করতে হবে যাতে পরবর্তীতে জায়গার কমতি না হয়। প্রথমে বামে পাশে একটি বক্র রেখা দিতে হবে। তারপর যে বস্তুর ছবি আঁকবো তার দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে যে কোন জিনিসটি কোন সাইডে রয়েছে।

Still-Life2-4

৫. আয়তাকার আকারে কাটা কার্ডবোর্ডটি ফ্রেম আকারে বস্তুটির উপর বসাতে হবে। পরে পেন্সিলটি ফ্রেমের বাম পাশের নিচের কোনায় বসিয়ে ৬০ ডিগ্র্রি কোন আকারে ধরতে হবে। এতে ছবির অ্যাঙ্গেলটি ঠিক থাকবে।

Still-Life2-5

৬. এরপর প্রথমে ছবির আউটলাইনগুলো দিতে হবে। প্র্রতিটি লাইন হালকা করে পেন্সিল দিয়ে আঁকতে হবে।

Still-Life2-6

৭. এখন ছবির বাইরের অংশগুলো মার্ক করতে হবে। এখানে লাল রঙ দ্বারা পয়েন্ট করা হয়েছে।

Still-Life2-7

৮. এখন ছবিটি এক চোখ বন্ধ করে অন্য চোখ দিয়ে দেখতে হবে। এতে ছবিটি সমতল হয়েছে কি-না তা বোঝা যাবে। আর এক্ষেত্রে প্রতিবার আমাদের একটি চোখই বন্ধ করতে হবে। প্রথমবার যদি বাম চোখ বন্ধ করি তাহলে পরবর্তীতে একই চোখ বন্ধ করতে হবে। যাতে করে ছবিটির গঠন তৈরি করার সময় তালগোল না পাকিয়ে যায়।

৯. ছবিটি আঁকার সময় আমাদেরকে অবশ্যই মূল বস্তুটি যতবার সম্ভব দেখতে হবে। চিত্রাঙ্কনে কোনো ধরনের অসাঞ্জস্যতা এড়িয়ে চলতে এটি জরুরি।

Still-Life2-8

১০. যখনই কোনো ভুল চোখে পড়বে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে ফেলতে হবে। অন্যথায় ছবিটি ভুল আকৃতি ধারণ করতে পারে।

১১. ছবিটিকে পুরোপুরি আকৃতি দেয়ার পর প্রতিটি আউট লাইনকে গাড় করতে হবে। এরপর ভেতরে অংশগুলোতে স্কেচ করতে হবে।

Still-Life2-10

১২. ছবিটি আঁকার সময় একটি বিষয় অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন ছায়ার পাশগুলো কালো এবং আলোর পাশগুলো সাদা থাকে। এতে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতা বেড়ে যাবে।

Still-Life2-9

১৩. ছবির চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে কিছুক্ষণ ছবি আঁকা বন্ধ করে হাটাহাটি অথবা বিশ্রাম করতে হবে। এতে করে আসল বস্তুটির সঙ্গে কোনো পার্থক্য থাকলে তা চোখে পড়বে। মূল বস্তুর সঙ্গে কোনো অমিল পাওয়া গেলে তা ঠিক করতে হবে। আর এরপরই আমরা পেয়ে যাবো আকর্ষনীয় ও চমৎকার একটি  স্টিল লাইফ পেইন্টিং।

Still-Life2-11

পেন্সিল স্কেচ ০২

প্রথমে আমরা কথা বলব পেন্সিল স্কেচ করতে যা যা প্রয়োজন সেই জিনিষগুলো নিয়ে। পেন্সিল স্কেচিং এর জন্য বিভিন্ন লিডের পেন্সিল প্রয়োজন। চিকন দাগের জন্য HB পেন্সিল এবং ছবিতে গাঢ় সেড তৈরিতে লাগবে 2b ও 4b পেন্সিল। আর স্কেচিং এর জন্য ফেবার ক্যাসেল পেন্সিল সবচেয় ভাল। কারণ এর গ্রাফাইট গুলো উন্নতমানে। যা পেন্সিল স্কেচ এর জন্য খুব উপযোগী।

 

Pencil Sketch2.1

ছবি আকঁতে গেলে ভুল তো হবেই। আর সেই ভুল সুধরাতে যা প্রয়োজন তা হল রাবার। পেন্সিল স্কেচ এ রাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। সাধারণ স্টেশনারি দোকানে যেই রাবারগুলো পাওয়া যায় সেই রাবারগুলোর পাশাপাশি প্রয়োজন হবে পেন্সিল শেপ রাবারের। ভুল দাগগুলো মুছে ফেলার পাশাপাশি রাবার দিয়ে সুন্দর কিছু শেড তৈরি করতে পারবেন আপনি। আর রাবার গুলো কিছুটা নরম হতে হবে। যেন মুছতে গিয়ে কাগজের কোন ক্ষতি না হয়।

 

pencilআপনার ছবিগুলোকে নিদিষ্ট একটি খাতায় আঁকতে হবে। এর ফলে প্রতিদিন আপনার কতটা উন্নতি হয়েছে তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন। পেন্সিল স্কেচ এর জন্য আলাদা করে কোন কাগজে প্রয়োজন নেই। যে কোন ধরনের সাদা কাগজেই আপনি আঁকতে পারবেন।

 

rubber

এছাড়া আর যা যা প্রয়োজন হবে তা হল সার্পনার, ড্রইং বোর্ড ও স্কেল। যা আপনি খুব সহজেই জোগাড় করতে পারবেন। এই তো গেল প্রয়োজনীয় জিনিষের ব্যাপার। এই গুলো যদি আপনার হাতে থাকে তাহলে আপনি পেন্সিল স্কেচ

 

পেন্সিল স্কেচ ০১

পেন্সিল স্কেচ ছবি আঁকার এই ধরনটির সঙ্গে সবাই কমবেশি পরিচিত। ওয়াটার কালা, পেস্টেল কালার বা ওয়েল পেইন্ট এর মত পেন্সিল স্কেচ এর একটি আলাদা জায়গা আছে এই শিল্পে। সাদা কাগজে কালো পেন্সিলের দাগ যে একটা ছবিকে কতটা বাস্তবভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে তা দেখিয়ে গেছেন বিশ্বের বড় বড় শিল্পীরা।

pencl-sketching-01

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, ভিসেন্ট ভ্যান গগ ও পাবলো পিকাসোর মত খ্যাতিমান শিল্পীরা পেন্সিল স্কেচ করেছেন। এবং বিশ্বকে উপহার দিয়েছেন অসাধারন কিছু ছবি।

যেই পেন্সিল দিয়ে হয় ছবি আকার এই ভিন্ন মাধ্যম আসুন এবার ছোট করে জেনে নেই সেই পেন্সিলের জন্মের ইতিহাস। সেই ১৬৬২ খ্রীস্টাব্দের কথা। তখন ইংল্যান্ডে প্রচুর পরিমাণে গ্রাফাইট ছিল। কিন্তু এর ব্যাবহার ছিল সীমিত। এই গ্রাফাইটগুলো শুধু ব্যাবহার করা হত ভেড়ার গায়ে দাগ কেটে চিন্হিত করতে। পরবর্তীতে জার্মানী গ্রাফাইট থেকে বানিজ্যিকভাবে পেন্সির তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। আর তার পর থেকে বিভিন্ন বিখ্যাত পেন্সিল তৈরি শুরু হয়। যাদের মধ্যে ফেবার ক্যাসেল পেন্সিলটি শিল্পীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।

পেন্সিল স্কেচ এর বড় সুবিধা হল ছবি আঁকায় কোন ভুল করলে আপনি তা সহজে রাবার দিয়ে মুছে ঠিক করতে পারবেন। কিন্তু রং তুলিতে সেই সুযোগটি নেই। তাই অনেকেই পেন্সিল স্কেচ করতে বেশি পছন্দ করেন।

pencl-sketching-02

ডাক্তার ইন্জিনিয়ার হতে হলে যেমন পড়ালেখা করতে হয় তেমনি ছবি আকাঁর ব্যাপারটিও আলাদা কিছু নয়। ছবি আঁকতে হলে কিছু নিয়ম আপনাকে জানতে হবে এবং সেই অনুসারে আঁকলে আপনিও পারবেন। আসুন তাহলে শুরু করা যাক পেন্সিল স্কেচ এর ক্লাস।

পেন্সিল স্কেচ ০৩

ক্লাস ওয়ান শেষ না করে যেমন ক্লাস টুতে ওঠা যায় না তেমনি, পেন্সিল স্কেচ এর বেসিক জিনিষগুলো না বুঝে পরবর্তী ক্লাস গুলোতে যাওয়া যাবে না। আজকের ক্লাসে আমরা যা নিয়ে আলোচনা করব তা হল কিভাবে পেন্সিল ধরতে হয়। স্বাভাবিকভাবে সবার মনে আসতে পারে, পেন্সিল ধরার ক্ষেত্রে আবার আলাদা কোন ব্যাকরণ আছে নাকি। না নেই, যদি আপনি সাধারণ লিখার জন্য লিখতে চান তাহলে কোন ব্যাকরন প্রয়োজন নেই। কিন্তু যদি আপনি পেন্সিল স্কেচ করতে চান তাহলে আপনাকে এই ব্যাকরণ গুলো জানতে হবে। আসুন এবার আমরা জেনে নেই পেন্সিল ধরার সেই পদ্ধতিগুলো।

ট্রাইপড গ্রিপ:

এই পদ্বতিতে আমরা সাধারণত সবাই পেন্সিল ধরে থাকি। তবে খুব নরম বা খুব শক্ত করে পেন্সিল ধরা ঠিক নয়। তাহলে পেন্সিল ব্যালেন্স করতে সমস্যা হবে। ট্রাইপড গ্রিপে কখনই খাড়া করে পেন্সিল ধরা যাবে না। তিনটি আঙ্গুল ও হাতের উপর ভারসাম্যের সঙ্গে ধরতে হবে পেন্সিলটি। শুধু মাত্র আঁকার সুবিধার জন্য নয় পেন্সিল সঠিকভাবে ধরার মাধ্যমে আমাদের ব্রেনের মোটর নিউরনগুলো সতঃস্ফুত ভাবে কাজ করে যা পেন্সিল স্কেচ এর জন্য সহায়ক।

এক্সটেন্ডেড গ্রিপ:

পেন্সিল ধরার এই নিয়মটি ট্রাইপড গ্রিপের মতই। কিন্তু এই নিয়মে পেন্সিলটিকে আরও উপরে ধরতে হবে। এই পদ্ধতিতে পেন্সিল ধরার ফলে আপনি হাতের খুব কম মুভমেন্টে অনেক বেশি আঁকতে পারবেন।

আন্ডারহ্যান্ড গ্রিপ:

নাম পড়েই বুঝা যায় এই পেন্সিল ধরার নিয়মটির ব্যাপারে। তিন আঙ্গুল দিয়ে ট্রাইপড গ্রিপ ধরার মত করেই ধরতে হবে কিন্তু পেন্সিলটি থাকবে হাতের তালুতে। এই পদ্ধতিতে পেন্সিল ধরা খুব সহজ। সাধারণত বোর্ডে আঁকার জন্য এভাবে পেন্সিল ধরা হয়। হালকা দাগ টানতে এই গ্রিপের ব্যাবহার করা হয়।

 

ওভারহ্যান্ড গ্রিপ:

এই পদ্ধতিটি আন্ডার হ্যান্ড গ্রিপের ঠিক উল্টো। এই পদ্ধতিতে পেন্সিল ধরাটা এবং ভারসাম্য রাখা খুবই সহজ। এই গ্রিপের সাহায্যে দাড়িয়ে বসে সব ভাবেই ছবি আকা সহজ। ছবিতে শেড আনতে ওভারহ্যান্ড গ্রিপ পদ্ধতি ব্যাবহার করা হয়।

পেন্সিল স্কেচ ০৪

এই টিউটোরিয়ালটিতে আমরা শিখব কিভাবে লাইন আঁকতে হয়। পেন্সিল স্কেচ এর ক্ষেত্রে নিদিষ্ট একটি লাইন বলে কিছু নেই। অনেকগুলো লাইন একসাথে মিলে তৈরি হয় একটি ছবি। এই লাইনগুলো সোজা হতে পারে আবার কখনও আঁকাবাকাও হতে পারে। ছবির প্রয়োজনের উপর নির্ভর করবে কিভাবে লাইন আঁকা হবে।

একটি পেন্সিল স্কেচ এ যেই লাইন আঁকা বিভিন্ন ধরন নিয়ে আলোচনা করব এবং কখন কিভাবে সেগুলো আঁকতে হবে সেই ব্যাপারে ধারণা দেয়া হবে।
ফ্লেট লাইন: এই ধরনের পেন্সিল স্কেচ এ অনেকগুলো সোজা লাইন দ্বারা ছবি আঁকা হয়। আপনি সমান্তরাল বা বাকা যেভাবেই আকা শুরু করুন না কোন ছবির লাইনগুলো সোজা হবে। ছবিতে আঁকা লাইনগুলো সমান্তরাল না উল্টো ভাবে আকা হবে তা নির্ভর করে বস্তুটির অবস্থার উপর। যদি স্থির বোঝাতে চাই তাহলে আমাদের একধরনের লাইন টানতে হবে। এভাবে ফ্লেট লাইন টেনে কিভাবে একটি বস্তুর অবস্থান বোঝান যায় তা এখন দেখানো হবে। নিচের ছবিটিতে সমান্তরাল ভাবে আঁকা লাইনগুলো দ্বারা স্থির একটি বস্তুকে বোঝানো হচ্ছে। ছবিটি দেখলে মনে হবে বস্তুটি স্থির ভাবে অবস্থান করছে।

pac-01

একসেন্ট লাইন:

এই পদ্ধতিতে একটু হিজিবিজি ভাবে আঁকা হয়। এলোমেলো বলে তা ছবি না এমন নয়। এই এলোমেলো আঁকার মাঝেও একটি সুন্দর পেন্সিল স্কেচ ছবি পাওয়া যায়। নিচে একটি ছবির মাধ্যমে একসেন্ট লাইনলের উদাহারণ দেয়া হল।

pac-02

ক্রস হেচ লাইন:

নাম শুনেই বোঝা যাচ্ছে এই আঁকার ধরণটা কেমন হতে পারে। ক্রস একে একে একটি সুন্দর পেন্সিল স্কেচ করা যায়। নিচে ক্রস হেচ লাইনের একটি উদাহারণ দেয় হল।

pac-03

ডটেড লাইন :

ডট লাইন দিয়ে এই ছবি আঁকা হয়। ডটেড লাইনের সাহায্যে ছবি আঁকাটা সময় সাপেক্ষ কিন্তু এর একটি ভিন্নতা আছে। নিচের ছবিটিতে ডটেড লাইনে আকঁ একটি ছবি দেয়া হল

pac-04

পেন্সিল স্কেচ ০৫

ছবি আঁকা বা পেন্সিল স্কেচ বলতে কোন কিছুকে শুধু কাগজে আঁকলেই হবে না। বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে ত্রিমাত্রিক হতে হবে। তা না হলে ছবিটি মৃত ছবি ছাড়া কিছুই হবে না। তাই শিক্ষার্থীদের ছবির ত্রিমাত্রিক বাস্তবতার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। সাধারণ চোখে আমরা যেমন দেখি ঠিক তাই কাগজে তুলতে হবে। যেমন একটি বস্তু আমাদের যত কাছে আসে তা তত বড় দেখায় এবং যত দূরে যেতে থাকে তা তত ছোট দেখায়। এই ব্যাপারটি ছবিতে তুলে ধরতে হবে। আরা একটি সোজা লাইন কল্পনা করি।

আমরা যদি বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে ছবির বাম প্রান্তে একজন মানুষকে কল্পনা করি তাহলে মানুষটিকে যতে ডানে নিয়ে যাব তত ছোট হতে থাকবে এবং একটা সময় তা একটি প্রান্তে মিলিয়ে যেতে থাকবে । যাকে বলা হয় ভ্যানেশিং পয়েন্ট। নিচের ছবিটির মাধ্যমে পুরো ব্যাপারটিকে তুলে ধরা হল।নিচের ছবিটিতে আমারা জিরো পয়েন্ট ধরে একটি ছবিকে কিভাবে ত্রিমাত্রিক রূপ দেয়া যায় তা দেখানো হল।

pancil-class-5-web