সত্যজিৎ রায় । চলচ্চিত্র নির্মাতা । সম্পাদক

কোনো চলচ্চিত্র নির্মাতা তার প্রথম চলচ্চিত্র দিয়েই ১১ টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতেছেন; এমন নজির পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই আছে। কিন্তু সেই নজিরবিহীন কাজটিই করে দেখিয়েছিলেন সত্যজিৎ রায়; তার ‘পথের পাঁচালি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। পথের পাঁচালিই সত্যজিতকে এনে দেয় কান চলচ্চিত্র উৎসবের ‘শ্রেষ্ঠ মানব দলিল পুরস্কার-বেস্ট হিউম্যান ডকুমেন্টারি এ্যাওয়ার্ড’।
শুধু পথের পাঁচালিই নয় নির্মাতা হিসেবে সত্যজিৎ যেমন ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী; তার সৃষ্টি সম্ভারও ছিলো বিপুল। বর্নাঢ্য জীবনে নির্মান করেছেন ৩৭ টি পূর্ণদৈর্ঘ কাহিনীচিত্র, প্রামাণ্যচিত্র ও স্বল্পদৈর্ঘ চলচ্চিত্র। পথের পাঁচালি, অপরাজিত ও অপুর সংসার এই তিনটি চলচ্চিত্রকে একসঙ্গে বলা হয় অপু ত্রয়ী। এবং এই চলচ্চিত্র-ত্রয়ী তার জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ বা ম্যাগনাম ওপাস হিসেবে বহুল স্বীকৃত।

বহুমূখী প্রতিভার অধিকারী সত্যজিৎ রায় শুধু চলচ্চিত্র নির্মানই করেননি; চিত্রনাট্য রচনা, চরিত্রায়ন, সঙ্গীত স্বরলিপি রচনা, চিত্র গ্রহণ, শিল্প নির্দেশনা, সম্পাদনা, শিল্পী-কুশলীদের নামের তালিকা ও প্রচারণাপত্র নকশা করাসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট প্রায় সবরকম কাজেই পারদর্শী ছিলেন তিনি। চলচ্চিত্র নির্মানের বাইরেও সত্যজিৎ ছিলেন একাধারে কল্পকাহিনী লেখক, প্রকাশক, চিত্রকর, গ্রাফিক নকশাবিদ ও চলচ্চিত্র সমালোচক।
আর, সত্যজিৎ রায়ের অনবদ্য সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’র কথা তো সবারই জানা। ফেলুদার চরিত্রে প্রদোষচন্দ্র মিত্র, ফেলুদা’র প্রধান সহকারি তার খুড়তুতো ভাই তপেশ চন্দ্র মিত্র ওরফে তপশে এবং জটায়ু নামধারী লেখক লালমোহন গাঙ্গুলির নাম আজো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ফেলুদা’র গোয়েন্দা কাহিনী নিয়ে হয়েছে অনেক উপন্যাস আর চলচ্চিত্র।
কি চলচ্চিত্র আর কি উপন্যাস সবক্ষেত্রে সুনাম কুড়ানো সত্যজিৎ রায় ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পৈত্রিক ভিটা কিশোরগঞ্জে; কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে। জন্মেছেন ভারতের কলকাতায় ১৯২১ সালে। সত্যজিতের পিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ছিলেন ১৯ শতকের বাংলার ধর্মীয় ও সামাজিক আন্দোলন ‘ব্রাহ্ম সমাজের’ অন্যতম নেতা। ছিলেন লেখক, চিত্রকর, দার্শনিক, প্রকাশক ও শখের জোতির্বিদ। সত্যজিত রায়ের পিতা সুকুমার রায় ছিলেন বাংলা সাহিত্যের সেরা শিশু সাহিত্যিকদের একজন। এসব দিক বিশ্লেষণ করে একথা বলাই যায়, চলচ্চিত্র আর সাহিত্যজ্ঞান সেতো সত্যজিতের রক্তেই ছিলো।
পড়ালেখা করেছেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। একজন বানিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা সত্যজিৎ রায় যে একসময় এতো বড় মাপের চলচ্চিত্রকার এবং সাহিত্যিক হয়ে উঠবেন একথা হয়তো অনেকেরই কল্পনারও অতীত ছিলো। বর্ণময় জীবনে পেয়েছেন বহু পুরস্কার। ১৯৯২ সালে হৃদযন্ত্রের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ সত্যজিৎ ভর্তি হন হাসপাতালে। এরপর সে অবস্থা থেকে তার স্বাস্থ্য আর ভালো হয়নি। মৃত্যুর কিছু সপ্তাহ আগে অত্যন্ত অসুস্থ ও শয্যাশায়ী অবস্থায় গ্রহন করেন তার জীবনের শেষ পুরস্কার সম্মানসূচক অস্কার। তার কিছুদিন পরই ওই বছরের ২৩ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন সত্যজিৎ। অবসান ঘটে উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ একজন চলচ্চিত্রকারের বর্নাঢ্য জীবনের। তিনি চলে গেছেন ঠিকই; কিন্তু গোটা বিশ্বের কোটি কোটি চলচ্চিত্রপ্রেমীর কাছে আজো এক উজ্জ্বল নক্ষত্র সত্যজিৎ।

জানালেন : আরিফুল ইসলাম ( দেশ টিভি )

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (টেলিফোন)

আলেকজান্ডার গ্রাহাম বেল (৩রা মার্চ, ১৮৪৭ – ২রা আগস্ট, ১৯২২) প্রখ্যাত বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক। টেলিফোন এর অন্যতম আবিষ্কারক হিসেবে তিনি সবচেয়ে পরিচিত। তাকে বোবাদের পিতা তথা দ্য ফাদার অফ দ্য ডিফ নামে ডাকা হতো। তার বাবা, দাদা এবং ভাই সবাই একক অভিনয় ও বক্তৃতার কাজে জড়িত ছিলেন এবং তার মা ও স্ত্রী উভয়েই ছিলেন বোবা। এ কারণেই বোবাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তিনি অনেক গবেষণা করেছেন। টেলিফোন উদ্ভাবনের আগে থেকেই তিনি শ্রবণ ও কথন সংশ্লিষ্ট গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন। ১৮৭৬ সালে তাকেই টেলিফোনের প্রথম মার্কিন পেটেন্টের সম্মানে ভূষিত করা হয়।


পরবর্তী জীবনে বেল আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন যার মধ্যে রয়েছে উড়ো নৌকা এবং বিমানচালনবিদ্যা। ১৮৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বেল। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবন যে টেলিফোন, সেটিকেই তিনি এক উটকো ঝামেলা জ্ঞান করতেন। এজন্যেই নিজের গবেষণা ও অধ্যয়ন কক্ষে কোন টেলিফোন রাখতেন না। বেল মারা যাওয়ার পর আমেরিকার সকল টেলিফোনে এক মিনিটের জন্য অবিরাম রিং বাজানো হয়। মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্য মতে যে মহান ব্যক্তি মানুষে-মানুষে যোগাযোগের এ পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন তাকে উপযুক্ত সম্মান দেখানোর জন্যই এমনটি করা হয়েছে।

ল্যারি পেইজ । GOOGLE

ল্যারি পেইজ একজন আমেরিকান ধনী ব্যবসায়িক ব্যক্তি এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানী যিনি সের্গেই ব্রিনের সাথে একত্রিত হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ ব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিন গুগল GOOGLE . ১৯৯৮ সালে গুগল যাত্রা শুরু করে পেইজ এবং ব্রিনের হাত ধরে। ২০১৩ সালে এসে দৈনিক গড়ে প্রায় ৬ বিলিয়ন ইন্টারনেট বাবহারকারী এই সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করে।
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি গবেষণা প্রকল্প হিসাবে, পেইজ এবং ব্রিন একটি সার্চ ইঞ্জিন তৈরি করে যেটা পৃষ্ঠার জনপ্রিয়তা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত ফলাফল প্রদর্শন করে। তারা সার্চ ইঞ্জিনটির নাম দেয় “গুগল” যা গাণিতিক শব্দ “google” এর অনুসরণ করে যেখানে ১০০ শূন্য অনুসরণ করে ১ কে, ওয়েবেঅপরিমেয় তথ্য তাদের প্রদানের মাধ্যমে তাদের মিশন প্রতিফলিত হয়।

ল্যারি পেইজ মিশিগানের ইস্ট ল্যান্সিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা কার্ল পেইজ ১৯৬৫ সালে কম্পিউটার বিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা ও মা উভয়েই মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন।ল্যারি ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে কম্পিউটার প্রকৌশলে সম্মানসহ ব্যাচেলর অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞানে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন।সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে, ল্যারি পেইজ “ফোর্বস ৪০০” তালিকায় আমেরিকার ধনী মানুষদের মধ্যে ১৩ তম স্থান পান। অক্টোবর, ২০১৩ সালের “ফোর্বস ৪০০” তে তিনি “সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মানুষ” এর তালিকায় ১৭ তম স্থান পান ।

জোহানস কেপলার । ক্যামেরা

ক্যামেরা একটি অপটিক্যাল যন্ত্র যা ছবি জমা করে রাখতে সক্ষম। স্থীর চিত্র অথবা ভিডিও যাই হোক না কেন ক্যামেরা সবকিছুই ধরে রাখতে পারে। মূলত ছবি ধরে রাখার এই আইডিয়া থেকেই ক্যামেরার আবিস্কার। ক্যামেরা শব্দটি এসেছে ক্যামেরা অবসিকিউরা থেকে, যার ল্যাটিন অর্থ ডার্ক চেম্বার বা অন্ধকার কক্ষ। ১৬০৪ সালে জোহানস কেপলার প্রথম ক্যামেরা আবিস্কার করেন। এটি ছিল কাঁচ, লেনস, কাঠ আর ধাতবের একটি সংমিশ্রণ।


জোহানস কেপলার একজন জার্মান গণিতবীদ। পাশাপাশি তিনি একজন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষীও। তার জন্ম ১৫৭১ সালের ২৭ ডিসেম্বর। তিনি অস্ট্রিয়ার একটি স্কুলে গণিতের শিক্ষক ছিলেন। পরে তিনি জ্যোতির্বিজ্ঞানী টাইচো ব্রাহির সহকারি হিসেবে কাজ শুরু করেন। জোহানস কেপলারের বাবার নাম হেনরিচ কেপলার। তিনি একজন সৈনিক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে জোহানস কেপলার বেশি পরিচিত ছিলেন গ্রহের গতি তত্ত্ব আবিস্কারের জন্য। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বছর বয়সে ১৬৩০ সালের ১৫ নভেম্বর পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন কেপলার।

 

মার্ক জাকারবার্গ facebook

সময়টা ছিল ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাস। তখনও পর্যন্ত ভার্চুয়াল জগতে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম ছিলো ই-মেইল। কিন্তু ওই সময় হার্ভার্ড এর এক ডরমিটরিতে কয়েকজন বন্ধু মিলে তৈরী করলেন “ফেসবুক” নামে সামাজিক যোগাযোগের একটি ওয়েবসাইট। শুরুতে নিজেরা এবং হার্ভার্ডের শিক্ষার্থীরা এই ওয়েবসাইটটি ব্যবহার করলেও; পরে facebook দেয়া হয় অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝেও।

এরপর আর পেছনে ফিরতে হয়নি ফেসবুক ও এর প্রতিষ্ঠাতাদের। আর এখনকার ফেসবুকের অবস্থান তো সবারই কম-বেশী জানা। এতক্ষন যে সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটটির কথা বলছিলাম; বন্ধুদের নিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সেই ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মার্ক জুকার বার্গ। কেউবা আবার তাকে জানে জাকারবার্গ নামে। পুরো নাম মার্ক এলিয়ট জুকারবার্গ। আমেরিকার একজন কম্পিউটার প্রোগ্রামার ও সফটওয়্যার ডেভলপার। এখন তিনি ফেইসবুকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্ট।

জন্মেছেন ১৯৮৪ সালের ১৪ মে; নিউইয়র্কের হোয়াইট প্লেইন এলাকায়। মনোচিকিৎসক ক্যারেন এবং দন্তচিকিৎসক এডওয়ার্ড জুকারবার্গ দম্পতির সন্তান মার্ক জুকারবার্গের রয়েছে র‍্যান্ডি, ডোনা এবং এরিএল নামের তিন বোন।

ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা জুকারবার্গ পড়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুধু ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন কম্পিউটার বিজ্ঞানীই নয় জুকারবার্গের আছে আরো অনেক পরিচয় এবং দক্ষতা। আর্ডসেলি হাই স্কুলে পড়ার সময় পারদর্শী হয়ে ওঠেন গ্রিক এবং ল্যাটিন ভাষায়। পরে স্থানান্তরিত হন ফিলিপস এক্সটার একাডেমীতে। সেখানে পুরস্কৃত হন বিজ্ঞান এবং ক্লাসিক্যাল শিক্ষায়। জুকারবার্গ ছিলেন অসিক্রীড়া তারকা। দায়িত্ব পালন করেছেন অসিক্রীড়া দলের অধিনায়ক হিসেবেও। কলেজে পরিচিত ছিলেন মহাকাব্যিক কবিতার লাইন থেকে আবৃত্তি করার জন্য।

২০১০ সালে মাত্র ২৬ বছর বয়সেই জুকারবার্গ ঠাঁই করে নেন বিশ্বের সর্বাধিক পঠিত সাপ্তাহিক টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে। টাইম ম্যাহাজিন ওই বছর তাকে “পারসন অব দ্য ইয়ার” হিসেবে মনোনীত করেছিল। গোটা বিশ্বেই এখন অন্যতম বড় সেলিব্রেটি মার্ক জুকারবার্গ। যিনি কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে বিনামূল্যে পৌঁছে দিচ্ছেন ফেসবুকের সেবা; যা এখন সামাজিক যোগাযোগ ও ভার্চুয়াল জগতের অন্যতম একটি মাধ্যম।

জানালেন : আরিফুল ইসলাম ( দেশ টিভি )

 

জন ভন নিউম্যান

জন ভন নিউম্যান একজন হাঙ্গেরীয় বংশোদ্ভুত মার্কিন গণিতবিদ। নিউম্যান কোয়ান্টাম বলবিদ্যায় অপারেটর তত্ত্ব ব্যবহারের অগ্রদূত. তিনি সেটতত্ত্ব, জ্যামিতি, প্রবাহী গতিবিদ্যা, অর্থনীতি, যোগাশ্রয়ী প্রোগ্রামিং, কম্পিউটার বিজ্ঞান, পরিসংখ্যান সহ আরো অনেক ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন।তাঁকে আধুনিক কম্পিউটার এর জনকও বলা হয়। আর এ কারনেই আধুনিক কম্পিউটারের মূল স্থাপত্যকে তাঁর নামানুসারে ভন নিউম্যান স্থাপত্য বা Von neumann architecture বলা হয়ে থাকে।

ভন নিউম্যান হাঙ্গেরির বুদাপেস্ট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা ব্যাংকের উকিল ছিলেন। ছোটোবেলা থেকেই ভন নিউম্যান ছিলেন অসাধারণ প্রতিভাবান। ৬ বছর বয়সে তিনি ৮-অংকের সংখ্যা মনে মনে ভাগ করতে পারতেন এবং বাবার সাথে প্রাচীন গ্রিকে কথা বলতে পারতেন। তিনি ৮ বছর বয়সেই ৪৪ খন্ডের বিশ্বের ইতিহাস পড়া শেষ করে ফেলেন। ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হবার আগে ভন নিউম্যান মাইকেল ফেকেটের সাথে মিলে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। হেরমান ভাইল ও এরহার্ড শ্মিট-এর কাজ তাঁকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি মাত্র ২২ বছর বয়সে গণিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বার্লিন ও হামবুর্গে শিক্ষকতা করেন। ১৯৩০ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান ও ১৯৩৩ সালে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্সড স্টাডিজ-এ অধ্যাপক নিযুক্ত হন। ১৯৫৪ সালে তিনি মার্কিন অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের সদস্য নিযুক্ত হন।তিনি প্রায় ১৫০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন। এর মধ্যে ৬০টি বিশুদ্ধ গণিত, ২০টি পদার্থবিজ্ঞান ও ৬০টি ফলিত গণিতের ওপর লেখা।

মৃত্যুর আগে তিনি মানুষের মস্তিষ্কের গঠনের ওপর একটি তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা করছিলেন।ভন নিউম্যান হাড়ের ক্যান্সারে অস্বাভাবিক যন্ত্রণায় ভুগে মারা যান। ধারণা করা হয় মার্কিন পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের পরীক্ষার সময় তেজস্ক্রিয় বিকিরণে তিনি ক্যান্সার আক্রান্ত হন।

ভিলহেল্ম কনরাড র‌ন্টগেন

ভিলহেল্ম কনরাড রন্টগেন একজন জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী যিনি পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনি এক্স রশ্মির আবিষ্কারক যাকে তার নামানুসারে রঞ্জন রশ্মিও বলা হয়। ২০০৪ সালে ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড কেমিস্ট্রি তার নামে ১১১তম মৌলের নামকরণ করে রন্টগেনিয়াম।

রন্টগেন জার্মানিতে জন্ম গ্রহন করেন ২৭ মার্চ, ১৮৪৫। তিনি একজন বণিক এবং কাপড় প্রস্তুতকারকের একমাত্র সন্তান ছিলেন। সে এবং তার পরিবার ১৮৪৮ সালে নেদারল্যান্ডের Apeldoorn তে চলে আসে এবং সেখানেই তিনি বড় হন। এখানেই তিনি প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহন করেন মার্টিন হারমান ভ্যান ডরন ইনস্টিটিউট থেকে। দুর্ভাগ্যবশত ১৮৬৩ সালে তাকে স্কুল থেকে অন্যায়ভাবে বহিষ্কার করা হয়। রন্টগেন তার স্কুলের মধ্যে, বিশেষ করে প্রতিভাধর হবে বলে মনে হয় না, কিন্তু যান্ত্রিক বস্তু তৈরিতে তিনি দক্ষ ছিলেন।

১৮৯৫ সালে রন্টগেন সা তার ক্যাথোড রে সম্পর্কিত গবেষণায় আমূল পরিবর্তন আনেন। ঘটনাক্রমে তিনি প্রতিপ্রভ খনিজ দিয়ে ঢাকা আলোর কাছে একটি পিচবোর্ড রাখেন এবং যখন ক্যাথোড রে উত্স চালু হয় তখন সেটা অন্ধকারে প্রদীপ্ত হয়। তিনি পরীক্ষার জন্য ভ্যাকুয়াম টিউবের সাথে ক্যাথোড রে ব্যবহার করলে এবং তার পিছনে অন্ধকার ঘরে যদি পিচবোর্ড রাখা হয় উজ্জ্বল প্রতিপ্রভ আলোর বেরিয়াম প্ল্যাটিনাম সায়ানাইড দিয়ে ঢেকে একটি পর্দায় প্রতিটি স্রাব চলাকালীন পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বুঝতে পাড়েন যে, প্রতিপ্রভা একটি কটি এজেন্ট দ্বারা সৃষ্ট হয়, যেটা বাইরে অন্ধকার পিচবোর্ডের মাধ্যমে ভ্যাকুয়াম টিউব থেকে অনুপ্রবেশ করতে পারে।
১৯২৩ সালে রন্টগেন অন্ত্র ক্যান্সার জনিত কারনে মারা যান।

বৈদ্যুতিক মটর (অ্যানড্রিউ গর্ডন)

বৈদ্যুতিক মটর হল এমন একটি যন্ত্র যা বিদ্যুতকে শক্তিতে রুপান্তরিত করতে সক্ষম। বৈদ্যুতিক মটর প্রথম আবিস্কার হয় ১৭৪০ সালে। স্কটল্যান্ডের নাগরিক অ্যানড্রিউ গর্ডন সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক মটর আবিস্কার করেন। তার জন্ম ১৭১২ সালের ১৫ই জুন স্কটল্যান্ডের কফোরাচে। তিনি স্কটল্যান্ডের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন সন্যাসী ছিলেন। তবে পাশাপাশি পদার্থবিদ্যা নিয়ে পড়শোনা করেছেন।
গর্ডন অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি ও রোমের বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করেছেন। পারিবারিক অর্থবলের কারণে বিভিন্ন সময় নানা আবিস্কার নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। সেসব কাজের অন্যতম একটি তার বৈদ্যুতিক মটর আবিস্কার।
১৭৩৭ সালে ফিলোসফির ওপর ডিগ্রি শেষ করেন অ্যানড্রিউ গর্ডন। এর পর থেকেই যন্ত্র আবিস্কারের নকশা করতে শুরু করেন। বহু চেষ্টায় অবশেষে বৈদ্যুতিক মটর আবিস্কারে সফল হন।

টেলিভিশন (ভ্লাদিমির কসমিচ জরিকিন)

টেলিভিশন একটি টেলিযোগাযোগ মিডিয়াম। যা শব্দসহ চলন্ত ছবি গ্রহণ ও প্রেরণ অর্থাত,রিসিভ এন্ড ট্রান্সমিট করতে সক্ষম। সর্বপ্রথম যে টেলিভিশনটি আবিস্কার করা হয়েছিল তাতে সাদাকালো ছবি দেখা যেত। পরে নানা গবেষণার পর বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেন রঙ্গীন ছবি দেখা যায় এমন টেলিভিশন। টেলিভিশন মূলত অপটিক্যাল যান্ত্রিক ও ইলেকট্রনিক প্রযুক্তির সংমিশ্রণ। যা একটি চলন্ত ছবিকে ইলেকট্রনিক সিগন্যালের মাধ্যমে গ্রহণ করতে পারে, আবার তা সামনে থাকা স্ক্রিন-এ ফুটিয়ে তুলতে পারে।
টেলিভিশন নিয়ে ১৮৭৩ সাল থেকে কাজ শুরু হলেও, এটি সম্পূর্ণ হয় ১৯১১ সালে। রাশিয়ান বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির কসমিচ জরিকিনকে বলা হয় টেলিভিশনের প্রবর্তক। রাশিয়ার মুরমে ১৮৮৮ সালের ২৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন জরিকিন। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ইন্সটিটিউট অফ টেকেনোলজিতে লেখাপড়া করেছেন তিনি। সেখানেই আরেক বিজ্ঞানী বোরিস রোসিং এর সঙ্গে টেলিভিশন আবিস্কার নিয়ে কাজ করতেন তিনি।

জরিকিনের টেলিভিশন আবিস্কারের পেছনে এই বোরিস রোসিং এর যথেষ্ট অবদান রয়েছে। জরিকিনের পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা সম্ভব হয়নি, তবে তিনি তার বাবাকে শুধুমাত্র উতসবের সময় দেখতেন বলে জানা যায়। টেলিভিশনের পর ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপও আবিস্কার করেন জরিকিন। শেষে ১৯৮২ সালের ২৯ জুলাই ৯৪ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

স্যাটেলাইট (সারগেই করোলভ)

স্যাটেলাইটের আবিস্কার মানব সভ্যতায় হঠাত করেই একটি বড় পরিবর্তন এনে দেয়। স্যাটেলাইট বলতে আমরা যা বুঝি তা প্রথম তৈরি হয় রাশিয়ায়। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর সোভিয়েত ইউনিয়ন সর্বপ্রথম মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠায়। ৫৮ সেন্টিমিটারের গোলাকৃতির এই স্যাটেলাইটটি পৃথিবীপৃষ্টে রেডিও সিগন্যাল পাঠাতে সক্ষম ছিল। এর নাম দেওয়া হয়েছিল স্পোতনিক-১। এতে চারটি রেডিও এন্টেনা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল, যা পৃথিবীপৃষ্টে রেডিও ওয়েভ পাঠাতে সাহায্য করতো।
স্যাটেলাইটের ধারণা প্রথম মাথায় আসে রাশিয়ান রকেট ইঞ্জিনিয়ার ও ডিজাইনার সারগেই করোলভের। ১৯৫০ সালের শুরু থেকে স্যাটেলাইট তৈরি নিয়ে কাজ শুর করেন তিনি। করোলভের নিরন্তন চেষ্টায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালে তাদের প্রথম স্যাটেলাইটটি মহাকাশে পাঠাতে সক্ষম হয়। রাশিয়ান এই ইঞ্জিনিয়ারের জন্ম ১৯০৭ সালের ১২ই জানুয়ারি রাশিয়ার একটি ছোট্টো শহর ঝাইতোমিরে। তার বাবার নাম পাভেল ইয়াকোভিরিচ করোলভ। তিনি ছিলেন রাশিয়ান ভাষা শিক্ষক।
সারগেই করোলভ ব্যক্তিগত জীবনে একজন এয়ারক্রাফ্ট ডিজাইনার ছিলেন। এয়ারক্রাফ্ট ও স্পোতনিক-১ ছাড়াও কর্মজীবনে তিনি বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইটের ডিজাইন করেছেন। অবশেষে ১৯৬৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ৫৯ বছর বয়সে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন।