নাগরিক সাংবাদিক হিসেবে আপনার মাধ্যম কী হবে

0

হাতে একটি স্মার্টফোন বা ক্যামেরা এবং নিজের ইচ্ছা থাকলেই, নগর নাগরিক সাংবাদিক হওয়া যায়। অনেকেরই প্রশ্ন , একটি সংবাদ তৈরি করার পর, তা কোথায় প্রকাশ করবো, কিভাব করবো ?? একটু লক্ষ্য করে দেখুন, সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেলের বাইরে প্রতিদিন ফেইসবুক, ইউটিউব এবং বিভিন্ন অনলাইন ব্লগ থেকে আমরা কত সংবাদ পাই। আমাদের মতই কেউ কেউ এসব প্রকাশ করছে। কত নতুন বিষয় উঠে আসছে এই ডিজিটাল মাধ্যম থেকে। আরো একটি বিষয় মাথায় নিয়ে নিন, মূলধারার গণমাধ্যম মানে আমাদের দেশের টিভি চ্যানেলগুলো কিন্তু এখন ডিজিটাল মিডিয়াতে ঢুকে পড়েছে। আমাদের দেশের চ্যানেলগুলো ফেসবুক পেজ আছে, আছে ইউটিউব চ্যানেলে। নিউ মিডিয়াতে তারা আস্তে আস্তে চলে আসছে। তাই এই বিষয়গুলো এখন আর ফেলে দেবার নয়।

তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আপনার সামনে সব দরজাই খোলা। দরকার শুধু ইচ্ছাশক্তি এবং ইন্টারনেট কানেকশন। প্রথমে ধরুন ফেইসবুকের কথা। ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমনের। শুধুমাত্র ফেইসবুক লাইভের মাধ্যমেই উনি অনেক তথ্য তুলে ধরেছেন। ওনার সংবাদ প্রচার হওয়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়াও তৈরি হয়েছে। অল্প দিনেই তিনি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে বিপুল সংখ্যক লোক ওনাকে ফলো করেন। আপনার শুরুটাও হতে পারে ফেইসবুক দিয়ে। স্মার্টফোন দিয়ে ভিডিও করে পরে তা আপলোড কিংবা সরাসরি ফেইসবুক লাইভ আপনিও করতে পারেন নাগরিক সাংবাদিকতা। নাগরিক সাংবাদিকতার জন্য এটা এখন অনেক জনপ্রিয় এবং শক্তিশালী মাধ্যম।
পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল: আপনার লেখা বা ভিডিও প্রচার করার জন্য নিউ মিডিয়ার উপর আস্থা না থাকলে, একজন ফ্র্রিল্যান্সার হিসেবে আপনি বিভিন্ন পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে পারেন। সাংবাদিকতার উপরে পরাশুনা করে আপনি নিজেও একজন মুলধারার সাংবাদিক হিসেবে পত্রিকা বা টিভি চ্যানেলে যোগ দিতে পানে। অথবা আপনার স্টোরি গুণগত মানসম্পন্ন হলে তারা আপনার স্টোরি আপনার কাছ থেকে কিনে নেবে। যেমন ধরুন বিবিসি বাংলাদেশের ভিডিও কিভাবে পায়? এদেশের সব জায়গায় তো আর তাদের প্রতিনিধি নেই। এর উত্তর হচ্ছে : বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশের সাধারণ মানুষের ভিডিও বা ছবি তারা কিনে থাকেন। এছাড়া কিছু প্রতিষ্ঠানও আছে এই ধরনের ছবি, ভিডিও এবং লেখা কেনাবেচা করে জন্য।
অনলাইন ব্লগ: একটা সময় ছিল তখন সংবাদপত্রই ছিল একমাত্র সংবাদ প্রচার বা সংগ্রহের মাধ্যম। এখন সময় পাল্টে যাচ্ছে। নিউ মিডিয়ার প্রভাব এলোমেলো করে দিয়েছে প্রচার মাধ্যমের সব রাস্তা। তাই এখনকার সময় আপনাকে অবশ্যই ডিজিটাল ডিভাইজগুলো মাথায় রেখে এগুতে হবে। অনলাইনে একটি ব্লগ তৈরি করেও তো আপনি লিখতে পারেন বা অন্যের ব্লগে আপনি লিখতে পারেন । দেশে বা দেশের বাইরে বাংলায় বা ইংরেজিতে। সেখানে লেখার পাশাপাশি স্টিল ছবি, অডিও বা ভিডিও আপলোড করারও সুযোগ রয়েছে। আয়ের সাথে সাথে আপনি পেতে পারেন দেশি বা বিদেশি পুরস্কার।
ইউটিউব: ইউটিউব ব্যবহার করে না এমন লোক এখন খুঁজে পাওয়া মুশকিল। প্রতিদিন ইউটিউবে কতরকম ভিডিও, কত রকম সংবাদই তো আমরা দেখছি। সুতরাং নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেল হতে পারে আপনার তথ্য প্রচারের মাধ্যম। একটা সময় আপনি কিছু পরিমাণে আয়ও করতে পারেন এই মাধ্যম থেকে। আমাদের দেশের অনেক সাংবাদিক এখন ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন এবং বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছেন। স্মার্টফোন বা একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা প্রয়োজন হবে আপনার এবং ভিডিও এডিটিং করতে একটি মোটামুটি মানের ল্যাপটপ। আপনাকে জানতে হবে ভিডিও করার কিছু বুনিয়াদি নিয়মকানুন। অনেকগুলো বিষয় নিয়ে আপনি ভিডিও ব্লগে কাজ করতে পারেন । যেমন: প্রতিদিনের সংবাদ, শিক্ষা, পর্যটন, কৃষি, প্রযুক্তি ইত্যাদি।
রেডিও বা পডকাস্ট: আমাদের দেশে এখন এফএম রেডিও রেডিও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আর এই রেডিওতেও রয়েছে সংবাদ মাধ্যম আপনি সাংবাদিকতা বিভাগে পরাশুনা করে যোগ দিতে পারেন রেডিওতে। আর ফ্রিলেন্সার হিসেবে কাজ করতে পডকাস্টের সাথে যুক্ত হতে পারেন। পডকাস্টের সুবিধা উপভোগের বিভিন্ন মাধ্যম রয়েছে এর মধ্যে মোবাইল ফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, ইউটিউব, ওয়েবসাইট ও পডকাস্টের অ্যাপ সহ নানাবিধ মাধ্যম এসময়ে বেশ জনপ্রিয়। এই ভিডিও পডকাস্ট গুলো সাধারণত ২ থেকে ৯ মিনিটের ভিডিও বা পর্ব ভিত্তিক ভিডিও হয়। এখানে অনেক সহজভাবে ও স্বল্প সময়ে অনেক সৃজনশীল ভাবে যে কোন বিষয়ের ধারণা তুলে ধরা যায়। তাছাড়া ভিডিও ব্লগ তৈরি বা নতুনদের জন্য ফিল্ম তৈরি করা কিংবা জার্নালিজমের ক্ষেত্রে এই ভিডিও পডকাস্ট নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।

আমাদের সাথে থাকতে এখনই সাবস্ক্রাইব করে ফেলুন নিচের লাল বাটনটি চেপে এবং বেল আইকনটিতে একটি ক্লিক করে দিন। আর আমাদের এই উদ্দ্যোগ আপনার কেমন লাগলো তা নিতে লিখে জানিয়ে দিন।

Comment

comments

Comments are closed.