নাগরিক সাংবাদিকতা অনলাইন কোর্স ০১

0

সবাইকে স্বাগতম আমাদের নতুন কোর্স সিটিজেন জার্নালিজময়ে। সিটিজেন জার্নালিজম বা জন সাংবাদিকতা বা নাগরিক সাংবাদিকতা করতে হলে আপনাকে জানতে হবে সাংবাদিকতার মূলনীতি, জানতে হবে বর্তমানে যারা এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছেন তাদের কথা। জানতে হবে প্রযুক্তিগত সুবিধা-অসুবিধা। একজন নাগরিক সাংবাদিক আসলে কতটুকু পেশাদার সাংবাদিক ??? আপনাদের সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতেই আমাদের এই কোর্স – সিটিজেন জার্নালিজম। একেবারে প্রতিটি বিষয় ধরে ধরে শিখতে আমাদের কোর্সটি ফলো করুন।

সাংবাদিকতা হচ্ছে কোনো সংবাদযোগ্য ঘটনা বা তথ্য কোনো প্রচার মাধ্যমে জনগণের কাছে প্রকাশ করা। দর্শককে শুধু নতুন কোনো তথ্য জানালেই হবে না, সে তথ্য হতে হবে দর্শনযোগ্য, নিরপেক্ষ ও নির্ভুল। সংবাদের বিষয়টিকে আপনাকে দেখতে হবে একজন পেশাদার সাংবাদিকের দৃস্টি দিয়ে। মনে রাখতে হবে আপনার প্রচার করা সংবাদটি হাজারো মানুষ এক কথায় বিশ্বাস করবে, তাই নির্ভুল তথ্য এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে ১০০ভাগ।
সিটিজেন জার্নালিজম কী?
সিটিজেন জার্নালিজমের বাংলায় অর্থ দাড়ায় নাগরিক সাংবাদিকতা। এটি সাংবাদিকতার একটি নতুন ধারা। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে এটি নিউ মিডিয়া বা নতুন ধারার মাধ্যম বলা যায়। আমরা যখন আমাদের চারপাশের ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা লিখে, অডিও বা ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব এবং বিভিন্ন অনলাইন ব্লগে তুলে ধরি, এটাকেই বলা যেতে পারে সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতা। যেমন কিছু দিন আাগে আলোচিত রিফাত হত্যার ভিডিওটি প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসে। আর যে ব্যাক্তি ভিডিওটি ধারণ করেছেন তাকে নাগরিক সাংবাদিক বলা যেতে পারে। তার মানে যে কোনো সচেতন নাগরিক দর্শনযোগ্য, নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তথ্য প্রচার করে সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতা করতে পারেন।
বর্তমানে গ্লোবালাইজেশন ও তথ্য প্রযুক্তির অভাবনীয় উৎকর্ষতা সিটিজেন জার্নালিজম বা নাগরিক সাংবাদিকতার জনপ্রিয়তাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহু গুণ। সংবাদ জানার ক্ষেত্রে মূল ধারার গণমাধ্যেমের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে এখন এই ধারাটির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে। বিভিন্ন নামে বর্তমানে এই সাংবাদিকতা করা হয়ে থাকে এর মধ্যে রয়েছে:
১. প্রান্তিক সাংবাদিকতা
২. নেটওয়ার্ক সাংবাদিকতা
৩.ওপেন সোর্স সাংবাদিকতা
প্রান্তিক সাংবাদিকতা: প্রান্তিক শব্দটি দেখেই বোঝা যায়, এই সাংবাদিকতা মূল লক্ষ্যই হচ্ছে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর সমস্যা-সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা। আজকাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ ব্লগ তৈরি করে সেখানে দলিত, হিজড়াসহ ইত্যাদি পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর নানা বিষয় সম্পর্কে ভিডিও তৈরি অথবা লেখনীর মধ্যে দিয়ে তাদের অবস্থা সম্পর্কে সরকার ও সমাজের অন্যান্য মানুষের কাছে তুলে ধরা হচ্ছে। এর মাধ্যমে অনেক খবর আমাদের সামনে চলে আসে যা অনেক সময় মূল ধারার গণমাধ্যমের চোখ এড়িয়ে যায়।
নেটওয়ার্ক সাংবাদিকতা: যারা সাংবাদিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জনের পাশাপাশি এ বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ নিয়েছে, তাদের সহযোগিতা নিয়ে সাংবাদিকতা করাকে নেটওয়ার্কিং সাংবাদিকতা বলা হয়ে থাকে। অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের সঙ্গে তথ্য, চিন্তা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে এই সাংবাদিকতা করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে দিয়ে যারা অ্যামেচার সাংবাদিক রয়েছেন, তারা তাদের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে পারদর্শী হয়ে থাকে।
ওপেন সোর্স সাংবাদিকতা: একটি প্রতিবেদন লেখার পর সেটাতে দেখে বা পড়ে পাঠক অথবা শ্রোতাদের মনে হতে পারে, যে-বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদনটি লেখা হয়েছে, তাতে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ে গেছে। এ বিষয়টি তারা প্রতিবেদন লেখকের সঙ্গে শেয়ার করতে পারে। তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই বাছাই করে অনেক সময় প্রতিবেদনটি আরো সমৃদ্ধ করে তোলা যেতে পারে। এই ধরনের সাংবাদিকতাকে ওপেন সোর্স সাংবাদিকতা বলা হয়ে থাকে।
রকমভেদে নাগরিক-সাংবাদিকতা নানাভাবে করা হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হচ্ছে – মানবিক আবেদনধর্মী বা ফিচারধর্মী ব্লগ, কোনো বিষয়ের ওপর মন্তব্যধর্মী ব্লগ, তাৎক্ষণিক ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা নিয়ে ব্লগ, ভিডিও ব্লগ, অডিও ব্লগ, ফটোব্লগ, মাইক্রোব্লগ এবং বর্তমানে জনপ্রিয় ফেসবুক লাইভ বা মোজো মানে মোবাইল জার্নালিজম ইত্যাদি।
আমাদের আগামী লেসনটিতে থাকবে সংবাদ কি বা কোন বিষয়টিকে আপনি সংবাদ হিসেবে প্রচার করবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
আর আমাদের এই পুরো কোর্স থেকে আপনি শিখতে পারবেন, আপনি কিভাবে একজন সংবাদকর্মী হয়ে উঠতে পারেন। হোক তা মূলধারা বা ফ্রিল্যান্সার বা নাগরিক সাংবাদিক। হাতে কলমে আরো শিখতে পারবেন কিভাবে রিপোর্টিং, সম্পাদনা, ভিডিও সম্পাদনা, চিত্রগ্রহণসহ সংবাদ উপস্থাপনা ইত্যাদি বিষয়। সর্বোপরি একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আপনি কী করতে পারবেন আর কী পারবেন না, অর্থাৎ এই পেশারও কিছু নিয়ম কানুন, নীতি নৈতিকতা আছে, সেসব সম্বন্ধেও ধারণা দেওয়া হবে।

Comment

comments

Comments are closed.