Pre-producton, producton বিস্তারিত

0

Pre –production: Video Production তৈরীর প্রথম ধাপ হচ্ছে Pre-production. Project এর আকার কেমন হবে,বাজেট কত, কিভাবে নির্মাণ করবেন এসবের পরিকল্পনা আপনাকে Pre-production করতে হবে।যদি Script এর কাজ শেষ না হয় তাহলে এসময় তা শেষ করে ফেলা যায় । Pre-Production এ একটি storyboard তৈরী করতে হয়,তাহলে Post Production এ কাজটা অনেক সহজ হয় । এছাড়া production এ কারা কারা কাজ করবে অর্থাৎ কলাকুশলী নির্বাচন ও শুটিং এর সময় ঠিক করা থেকে শুরু করে crew, Location ,Props, dress up, getup set তৈরী ,খাবার-দাবার সবকিছু ঠিক করতে হয় ।এছাড়া আরো একটা বিষয় যেটা খুবি জরুরী তা হচ্ছে শুটিং লোকেসন অর্থাৎ আপনি কিভাবে বা কোথায় আপনার সৃষ্টিকে দর্শকের সামনে তুলে ধরবেন তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও Pre-production এর সময় .
অর্থাৎ Camera “Roll” এর আগেই Project তৈরীর প্রয়োজনীয় সবকিছু নিশ্চিত করতে হয় । আর এই নিশ্চিত করার কার্যক্রমই Pre-production.

Production:
Camera “Roll” action এর সাথে সাথে Production এর কাজটি শুরু হয়ে যায় ।অর্থাৎ Camera দিয়ে একটি দৃশ্য ধারণের মধ্য দিয়ে মূলত Production এর কাজ শুরু । Camera, lights, Scene সবকিছু ঠিক রেখে পরিচালক প্রতিটা দৃশ্য ধারণ করেন। অনেক ক্ষেত্রে একটি Project শেষ করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লেগে যায় । অবশ্য সেটা র্নিভর করে Project এর আকার ও ধরনের উপর। সিনেমার বেলায় সেটা বছর ও লাগতে পারে ।এসময় পরিচালকের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে প্রতিটা দৃশ্য নিখুঁতভাবে ধারণ করার ।কেননা যদি Post Production কোন shot পরিচালকের পছন্দ না হয় অর্থাৎ যদি NG shot হয় , তা পুনরায় shot করা অসম্ভব হয়ে দাড়ায় । তাই ডায়লগ, ক্যামেরা ,লাইটস সহ সবকিছুর উপর দৃষ্টিরেখে প্রতিটা দৃশ্য ধারণ করতে হয় । এতে করে Post Production কাজটা অনেকবেশী গতিশীল হবে । Production সময়টা হয়ত আপনার কাছে অনেকবেশী পরিশ্রমের মনে হবে । তবে যখন Production টি প্রশংসিত হবে, আপনার প্ররিশ্রমকে অনেকবেশী সার্থক মনে হবে।

Post Production
Post Production এর ক্ষেত্রে বলা হয়, কামরায় রং এর শেষ ছোঁয়া,যা কামরাকে আরো বেশী নান্দনিক ও সুন্দর করে তোলে। তেমনি Post Production ও আপনার Project কে পরির্পূনতা এনে দিবে।
কোন না কোন কারনে অনেক র্নিমাতাই Post Production প্রক্রিয়া নিয়ে কিছুটা ভীত থাকে ।কিন্তু Production যতটা কঠিন Post Production ততটা নয় ।যদি আপনি পর্যায়ক্রমে কাজগুলো শেষ করতে পারেন । এক্ষেত্রে প্রথম পর্যায় হচ্ছে Editing বা সম্পাদনা । Editing আবার দুটো পদ্ধতি আছে , যার একটি হচ্ছে Analog পদ্ধতি আরেকটি হচ্ছে Digital পদ্ধতি। Analog হচ্ছে পুরোনো পদ্ধতি। এতে film এর shot কেটে কেটে জোড়া লাগানো একত্র করা হয়। সিনেমার বেলায় এ পদ্ধতিটি বেশী কার্যকর ছিল।
দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হচ্ছে Digital. এটি নতুন , যাকে আমরা Electronic way বলা যায় । এ পদ্ধতিতে Tape এ ধারণ করা Footageকে VTR দিয়ে digitize বা capture করা হয়। এই digities এর মধ্য দিয়ে মূলত post production এর কাজ শুরু হয়ে যায়। তবে এখন সে সময়ও অতিত হতে চলেছে, ম্যামরি কার্ডএ কখেন ডাটা হিসেবে সংরহ্মন হচ্ছে ভিডিও। শুধু মাত্র কার্ড রিডার দিয়েই এখন VTR এর কাজ সেরে ফেলা যাচ্ছে। এখানে আপনার দরকার হবে একজন ভালমানের সম্পাদক Editor script এর ভাষানুযায়ী footage গুলোকে timeline সাজিয়ে raughcut দেয়। তারপর পরিচালকের চাহিদানুযায়ী চুরান্ত সম্পাদনার কাজটি সেরে ফেলবেন। চুরান্ত সম্পাদনার ক্ষেত্রে বেশীরভাগ সময় পরিচালক সম্পাদকের পাশে থাকেন । তবে এক্ষেত্রে সম্পাদক এর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপুর্ণ। কারন একজন বুদ্ধিমান ও ক্রিয়েটিভ সম্পাদক তার নিজস্ব চিন্তা থেকে কাহিনিটিকে কে অনেকবেশী গ্রহণযোগ্য ও সুন্দর করে তুলতে পারে।
সম্পাদনার পর শব্দ সম্পাদনা এক্ষেত্রে একজন সাউন্ড এডিটরকে নিয়োগ দেয়া হয় ।তবে সিনেমার বেলায় শব্দের কাজ একরকম আর নাটক বা অন্য প্রডাকশানের বেলায় সেটা ভিন্ন। ডাবিং ,সাউন্ড ইফ্যাক্টস, নয়েজ সবকিছু এসময় বেলেন্স করা হয়। সাউন্ড এর পাশাপাশি আসে মিউজিক এর কাজ ।তবে মিউজিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে আপনি যে মিউজিক ব্যবহার করছেন সেটার কপিরাইটস্ এর মালিক আপনি । তানা হলে আপনার বিরুদ্ধে আইান ববস্থ্য নেয়া হতে পারে। এছাড়া কোন বাজে কোয়ালিটির সিডি মিউজিক ব্যবহার না করাই ভাল। সবচেয়ে ভাল হয় আপনি কোন মিউজিশিয়ান এর সাথে চুক্তি করা, যে সর্ম্পুন নতুন একটা মিউজিক আপনার প্রডাক্শন এর জন্য কম্পোজ করবে। তারপর অডিও মিক্সং, অডিও লেয়ার , সবকিছু এ পর্যায়ে এসে শেষ হয়। এরপর কালার ব্যালেন্স করা হয়। যদি শ্যুটিং এর সময় ক্যামেরায় কালার ঠিক রাখা যায় ,তাহলে এডিটিং প্যানেলে কালার ব্যালেন্স নিয়ে খুব একটা ঝামেলা পোহাতে হয়না ।
সম্পাদনা , শব্দ সম্পাদনা , কালার ব্যালেন্স পর আপনার প্রোডাকশানের কাজ প্রায় শেষ পর্যায় পৌছায়। এরপর বাকী থাকে “টাইটেল এ্যানিমেশন” এর কাজটি। এটা অনেক সময় সম্পাদকি টাইটেলের কাজটি করে থাকেন ,তবে বেশীর ভাগক্ষেত্রে একজন এ্যানিমেটর কে দায়িত্ব দেয়া হয়। টাইটেল তৈরী হয়ে গেলে মাষ্টার ট্রেকে তা যুক্ত করা হয়।
এখন আপনার প্রোডাকশান তৈরী ।এবার সর্বশেষ এবং গুরুত্বর্পূণ কাজ হচ্ছে “ডিস্ট্রিবিউশান এবং ক্যাম্পেইন ইমেজ”। বলা হয় ‘একটা স্থিরছবি হাজারটা কথা বলে’। তাই আপনার ছবি বা নাটকের গভীরতাকে ক্যাম্পেইন ইমেজ এ সেই ভাবেই ফুটিয়ে তুলতে হবে। এছাড়া আছে ‘ট্রেলার বা প্রোমো. ৯০-১২০ সেকেন্ডের ট্রেলারে আপনার সিনেমার প্রতি দর্শকের একটা আগ্রহ সৃষ্টি করাতে হবে। আর নাটক বা অন্য প্রোডাকশানের বেলায় ৩০-৬০ সেকেন্ডের প্রোমোতে সে কাজটি করতে হয়। এরপর সেটাকে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আশাকরি উপড়ের আলোচনা থেকে আপনারা Pre-Production, Production, Post Production সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পেয়েছেন।আসলে কেউ যখন প্রথমবার কোন প্রোডাকশানে হাত দেয়,অভিজ্ঞ কারও সহযোগীতা না পেলে কাজটি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।তবে বেসিক জিনিস গুলো জানা থাকলে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয়না ।

নিলফার ইয়াছমিন

নিলুফার ইয়াছমিন

Comment

comments

Comments are closed.