সঠিক মাইক্রোফোন চেনা

0

আগের টিউটোরিয়ালে আমরা দেখেছি, সাধারণ ব্যবহারের জন্য অনেক রকমের মাইক্রোফোন রয়েছে। তবে মাইক্রোফোনের মধ্যে পার্থক্য দু-ভাবে দেখানো যায়: প্রথমত- যে টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়। ডায়নামিক ও কনডেনসার। দ্বিতীয়ত- তাদের পরিচালনা পদ্ধতি ওমনিওডিরেকশনাল ও কারডিওআইডি। এছাড়াও, মাইক্রোফোনের আরো কিছু গুনাগুন রয়েছে যেগুলো এর ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হয়। যখন আপনি একটি মাইক্রোফোন সিলেক্ট করবেন, তখন প্রথমেই আপনাকে যে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে তা হলো, আপনার কাজের জন্য কি ধরণের মাইক্রোফোন প্রয়োজন। এরপর, আপনি ভাবতে পারেন এর সাইজ, ব্রান্ড এবং দাম সম্পর্কে।

যে বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ রাখতে হবে। সঠিক মাইক্রোফোন চেনার জন্য
ওপরের বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখুন এবং সিদ্ধান্ত নিন আপনার কোনটি প্রয়োজন।

ডিরেকশোনালিটি
প্রথমে আপনার প্রয়োজন মত ডিরেকশোনালিটি প্যাটার্ন বেছে নিন। তবে এক্ষেত্রে আপনাকে মনে রাখতে হবে যে, খুব কাছের সাউন্ড সোর্সের ক্ষেত্রে কম ডিরেকশোনাল মাইক ভাল কাজ করে। আর দুরের সাইন্ড সোর্সের ক্ষেত্রে ভাল কাজ করে হাইপারকারডিওআইডি।

ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স
লক্ষ্য রাখতে হবে যে আপনি যে মাইকটি ব্যবহার করছেন তার ফ্রিকোয়েন্সি রেসপন্স কতটা। তবে রুল অব থাম্ব অনুযায়ি, ফ্লাট রেসপন্স পেটার্ন সবচেয়ে ভাল। তবে কিছু ক্ষেত্রে টেইলর্ড রেসপন্স ভাল কাজ করে।

ইমপিডেন্স
রুল অব থাম্ব হলো- হাই ইমপিডেন্সের চেয়ে লো ইমপিডেন্স ভাল।

নয়েজ নিয়ন্ত্রণ
নয়েজের ক্ষেত্রে একটি বিষয় আপনাকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, ডায়াফাগ্রাম সাউন্ড ওয়েভ থেকে সিগনাল রিসিভ করে এবং সেটিকে ইলেকট্রিকাল সিগনালে কনভার্ট করে। তবে যদি মাইক্রোফোনে কোন ধরণের প্রোটেকশন সিস্টেম না থাকে তাহলে ডায়াফাগ্রাম প্রয়োজনীয় সাইন্ড ওয়েভ এবং নয়েজের মধ্যকার পার্থক্য বুঝতে পারে না। তাই একসঙ্গে সবই রেকর্ড করে।তবে যদি আপনার মাইকটি সাউন্ডে নয়েজ বুঝতে না পারে, তাহলে আপনাকে বিশেষ গুণাগুন সম্পন্ন মাইক ব্যবহার করতে হবে যা নয়েজ রেকর্ড করে না। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মাইকের মাধ্যমে আপনি এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তবে নিম্ন মানের মাইক ব্যবহার করলে নয়েজ আসবে।

মাইক্রোফোন কেনার পদ্ধতি
আপনি যদি মাইক্রোফোন কিনতে চান তাহলে, প্রতিটি কাজের জন্য আপনার যে ধরণের মাইকের প্রয়োজন হবে সেটা কেনাই ভাল, তবে যদি আপনার এতগুলো মাইক কেনার মতো ক্ষমতা থাকে তাহলে। আর যদি আপনার বাজেট সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে তাহলে, এমন একটি মাইক কিনুন যা আপনি বেশিরভাগ কাজের ক্ষেত্রেই ব্যবহার করতে পারবেন।ভোকালিস্টের জন্য সাধারণ কারডিওআইডি মাইক কেনা উচিৎ হবে। ভিডিও মেকারদের ক্ষেত্রে কনডেনসার মাইক উপযোগি। এটিকে আপনি দুভাবে কাজে লাগাতে পারবেন, এটি কারডিওআইডি ও হাইপার-কারডিওআইডি মোডে কাজ করতে পারে।

পার্থক্য
সবশেষ বলা যায়, সাউন্ড অথবা শব্দ খু্বই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। আপনি ঠিক যেমনটি শব্দ চান একটি ভাল মাইক আপনাকে ঠিক তেমন শব্দের আউটপুট দিতে সক্ষম। তবে এসব ক্ষেত্রে একটি কন্ট্রোলড টেস্ট করে নেয়া উচিৎ। এটি করতে হলে ভিন্ন ভিন্ন মাইক ব্যবহার করুন এবং ঠিক একটি শব্দই রেকর্ড করুন। ফলাফল শুনলেই আপনি বুঝে যাবেন যে আপনার জন্য কোনটি ভাল হবে। তবে এটি নিশ্চিত হোন যে আপনি একই মানের মাইকের মধ্যে পার্থক্য করে দেখছেন। যেমন- আপনি যদি একটি হাতে ধরা কারডিওআইডির সঙ্গে একই জায়গায় শটগানের পার্থক্য করেন তাহলে আপনি কিছুই ধরতে পারবেন না। আপনি যদি মাইকগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুজে বের করতে চান, তাহলে একই পজিশনে রেখে মাইকগুলো টেস্ট করুন।

Comment

comments

Comments are closed.