সৃজনশীলের হাতে ক্যামেরা , আর মাথায় ?

0
সৃজনশীলতা একটি ঐশ্বরিক ব্যাপার। এটি এমন একটা জিনিষ যা মানুষ জন্মগতভাবেই লাভ করে। অনুশীলনের মাধ্যমে কেবল এটিকে উন্নত করা সম্ভব, তৈরি করা সম্ভব নয়। তবে সুসংবাদ হল সৃজনশীলতা সীমাবদ্ধ কোন জিনিষ নয়। অন্যভাবে বলতে গেলে সব মানুষের মধ্যেই সৃজনশীলতা রয়েছে, তবে সঠিক সময়ে সঠিক কাজে এটি প্রকাশ পায়।

পৃথিবীতে সৃজনশীল ফটোগ্রাফারের সংখ্যাও বেশ সমৃদ্ধ। তবে অনেকেই ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না, হাতে ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কি করা উচিৎ এবং অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত সৃজনশীল হওয়ার পরও তারা ফটোগ্রাফি ছেড়ে দেয়। এই লেখাটিতে তাদের জন্য সফল সৃজনশীল ফটোগ্রাফারদের কটি অভ্যাস তুলে ধরবো। তাদের মতন ভাবলে আশাকরি অনেকেরি ফিরে যেতে হবেনা ।

তুলনা না করাঃ
নিজেকে অন্য ফটোগ্রাফারের সাথে তুলনা করা সৃজনশীলতা ধ্বংসের কারন হতে পারে। শুট করতে যাওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নিজেকে অন্যান্য ভালো ফটোগ্রাফারের সাথে তুলনার চিন্তাটা মাথায় আসে। এর ফলে শুট করার উদ্দীপনা নষ্ট হয়ে যায়। এই অভ্যাসটি বাদ দিতে হবে। একটু বুদ্ধিমানেরমত চিন্তা করুন, প্রত্যেক মানুষ যেমন অন্য মানুষ থেকে আলাদা, ঠিক তেমনি তাদের কল্পনাও আলাদা। আপনি যে ভাবে আপনার শট কল্পনা করতে পারবেন পৃথিবীতে অন্য কেউ সেভাবে পারবে না।

ব্যক্তিগত প্রকল্প:
সকল পেশাগত প্রজেক্টের সাথে একটি ব্যক্তিগত প্রজেক্ট রাখা উচিৎ। যদিও এটা সবসময় সম্ভব হয়না। তবে সকল প্রজেক্টের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ভাবে একটি মূল প্রজেক্ট থাকা গুরুত্বপুর্ন। অন্য কারো কাছ থেকে প্রভাবিত না হয়ে নিজেকে সম্পুর্নভাবে প্রকাশ করার এটি সবচেয়ে ভালো উপায়।

রুটিন মেনে চলাঃ
যদিও সৃজনশীল কথাটির সাথে রুটিন শব্দটি সাংঘর্ষিক বলে ধরা হয়, তবে সঠিক ভাবে ব্যবহার করলে রুটিন হল এমন একটি জিনিষ যা আপনাকে আস্তে আস্তে ফটোগ্রাফার হিসাবে তৈরি করবে। রুটিন বলতে একি জিনিষ নিয়ে প্রতিদিন ফটোগ্রাফি করাকে বুঝায়না। এর মানে হল প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার কাজ করার অভ্যাস তৈরি করা। রুটিন ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে আপনার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একজন বন্ধু, এর কাছ থেকে দূরে পালালে আপনারই ক্ষতি হবে।

নিজের সমালোচক হওয়াঃ
অন্যের মুখ থেকে নিজের কাজ সম্পর্কে সমালোচনা শুনলে খারাপ লাগে, তবে নিজের কাজ সম্পর্কে যখন তৃপ্তি না আসে তখন সবচেয়ে বেশী খারাপ লাগা উচিৎ। নিজের কাজের সমালোচনা করার ক্ষমতা আপনার কাজকে আরো ভালো এবং মানসম্পন্ন করতে সাহায্য করবে। অন্যভাবে বলতে গেলে আপনি কখন এবং কোথায় ভুল করছেন তা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন।

প্রতিনিয়ত শেখাঃ
আপনি হয়ত ফটোগ্রাফি সম্পর্কে অনেক কিছু জানেন। তবে তার মানে এই নয় যে আপনি সব জানেন। হয়ত এমন একটি টেকনিক আছে,যেটি আপনি জানেন না কিন্তু অন্য কেউ জানে। কোন রকম দ্বিধা সংকোচ না করে তার কাছ থেকে সেটি শিখে নিতে হবে। কারো কাছ থেকে কিছু শিখলে ছোট হবেন এরকম মনোভাব রাখা যাবেনা।

অপছন্দকে গোপন রাখাঃ
ফটোগ্রাফি পেশায় অনেক সময়েই আপনাকে অন্যের কথা মত কাজ করতে হবে। এরকম দেখা যেতে পারে তার আইডিয়াটির চেয়ে আপনার আইডিয়া হাজারগুন ভালো। তবুও আপনাকে তার আইডিয়া মত কাজ করতে হবে। এটিই বাস্তবতা, আর এভাবেই টাকা উপার্জন করতে হয়। তবে কাজের সময় এসব কথা মাথায় রাখা যাবেনা। রাগ বা ক্ষোভ দেখানোর জন্য অনেক সময় পাবেন। শুট করার সময় আপনার শতভাগ দিতে হবে, যেটি আপনার ক্লায়েন্ট এবং আপনার টিম আপনার কাছ থেকে আশা করে।

Comment

comments

Comments are closed.