মাকড়শার মতই স্পাইডারক্যাম

বৃক্ষ তোমার কাজ কী? নামে পরিচয়। ঘটনাটা ঠিক তাই। নাম হলো, স্পাইডারক্যাম। কাজ হলো, মাকড়শার মত জালের উপর ঝুলে থেকে ক্যামেরার কাজ করা। তফাৎ বলতে, মাকড়শার জালে অনেকগুলা সুতা থাকে। আর স্পাইডারক্যাম ঝুলে থাকে চারটা সুতার উপর। সাধারণত খেলার মাঠে এর ব্যবহার। বছর দশেক আগে এই ক্যামেরা চালু হয়েছে। এরই মধ্যে ইনডোর হোক আর আউটডোর হোক, স্পাইডারক্যাম এখন খেলার অংশ। এমনকি সিনেমা তৈরীতেও ব্যবহার হচ্ছে স্পাইডারক্যাম।

spycam-01স্পাইডারক্যামের বেসিক ধারনাটা কিন্তু একেবারেই সহজ। মাঠের চার কোনা থেকে চারটা তার মাঠের মাঝে ফেলা হয়। এবার মধ্যমণি করে বেঁধে দেওয়া হয় স্পাইডারক্যাম। এবার এই চার মাথায় বসানো মাইক্রোকন্ট্রোলার দিয়ে খুব সহজেই উপরে-নীচে, ডানে-বাঁয়ে, সামনে-পিছে সব জায়গায় নিয়ে যাওয়া যায় এই ক্যামেরা। কয়েন টস, কর্ণার শট, মাঝ মাঠের বল পাসিং এইসব শর্ট এত বছর ধরে পরিচালকদের একটা চাহিদা ছিলো। আসলে পরিচালকদের না, এইটা বস্তুত খেলার নিজেরই চাহিদা ছিলো। এই শটগুলো মুভিং অবস্থায় দেখাতে পারলে দর্শকের কাছে মনে হয়, সে যেন নিজে বলের সাথে সাথে দৌড়ে দৌড়ে মাঠজুড়ে খেলা দেখছে। গ্যালারিতে বসেও যদি আপনি খেলা দেখেন তবু কিন্তু এই মজাটা পাবেন না। স্পাইডারক্যামের মুভিং শর্টগুলো এত সুন্দর করে হরাইজন্টাল, ভার্টিক্যাল ক্যালিব্রেশন করে যে আপনার মনে হবে পাখীর মত উড়ে উড়ে আপনি খেলোয়ারের পিছন পিছন ছুটছেন।

spycam-02

চারটা সুতায় ঝুলে থাকা এই ক্যামেরা প্রায়ই অন্য ক্যামোরা শটে ধরা পড়ে। মাঝেমাঝে ছোটখাটো বিপত্তিও হয়। ইউটিউবে বেশ মজার একটা লিংক আছে এর। এক গোল কিপার বিশ সেকেন্ডের মধ্যে পরপর দুইবার বলে এমন ভাবে কিক মেরেছেন যে তা গিয়ে বেচারা স্পাইডারক্যামে গিয়ে লেগেছে।

স্পাইডাক্যাম বেসিক্যালি ক্রেনের মত। পার্থক্য হলো, ক্রেনটা একটা দন্ডের মত। আর স্পাইডারক্যামটা ঝুলানো থাকে রশির উপর। ক্রেনের শট যেন আপনি সুইচারে বসেই ডানে, বাঁয়ে ইত্যাদি করে নিতে পারেন। ঠিক তেমনি স্পাইডারক্যামের শটও আপনি ইচ্ছামত এদিক সেদিক ঘুরিয়ে নিতে পারবেন। আর এই অত্যাধুনিক মাইক্রোকন্ট্রোলারটিকে খুব সহজ করেই একটা সুইচারে দেওয়া আছে।

স্পাইডারক্যামের বড়ভাই অবশ্য স্কাইক্যাম। স্কাইক্যাম চালু হয়েছিলো ১৯৮৪ সালে আমেরিকাতে।

2013_09_19_16_19_54_1485_jahangir-hossain-arun_thumb

জাহাঙ্গীর হোসেন (অরুণ) আইটি হেড, বৈশাখী টেলিভিশন